০৯:০৪ পি.এম
চলমান উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও বেড়েছে জাহাজ চলাচল।
সামুদ্রিক জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রণালিটি দিয়ে ১৩টি জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি। তবে চলমান সংঘাত এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
শুক্রবার একটি পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১৩টি জাহাজের মধ্যে ৭টি আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ৬টি সেখান থেকে বের হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৯টি জাহাজ ইরানের ইউনিল্যাটারাল স্কিম ব্যবহার করে। তবে হরমুজের প্রচলিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের বিষয় নিশ্চিত করা যায়নি। আরও ৪টি জাহাজ কোন রুট ব্যবহার করেছে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: ২ ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর উজোবাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: পুলিশ সুপার
চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে দুটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত, তিনটি ‘শ্যাডো’ বা গোপন নৌবহরের জাহাজ এবং আরও ৮টি অন্যান্য জাহাজ ছিল বলেও জানায় মেরিনট্রাফিক।
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল সামান্য বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে ২৯টি জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করা হয়, যা আগের দিনের ২৮টির তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে ১৮টি জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশ করে এবং ১১টি বের হয়ে যায়। দুটি জাহাজের চলাচলের সময় তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ ছিল। চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এবং দুটি ‘শ্যাডো’ জাহাজ ছিল। তবে ওই দিন নতুন কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন সাধারণত প্রায় ১০০ থেকে ১৪০টি জাহাজ অতিক্রম করত।
আরও পড়ুন: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ, রাজনৈতিক সম্পর্কের বিতর্ক তীব্র
লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানেও চলাচল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। মেরিনট্রাফিকসহ জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, কিছু জাহাজ এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করে। ফলে নিশ্চিত করা জাহাজের সংখ্যা প্রকৃত মোট চলাচলের তুলনায় কম হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন