১২:১৫ এম
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুলিশের উপস্থিতিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সারি ৩ এলাকা থেকে বালু উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, বড়গাং থেকে সারী নদী পর্যন্ত পানিপথে নৌকা চলাচলে কোনো বাধা নেই। সারি-৩ বালুমহাল থেকে বড়গাং বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১লা আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কোনো যথাযথ প্রমাণ নেই। শুধুমাত্র বড়গাং নদী থেকে আহরিত কিছু বালুবাহী নৌকা পানিপথ ব্যবহার করে সারীঘাট যাতায়াত করছে। পরিদর্শন দলে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), সহকারী পরিচালক (এডি), ১৯ বিজিবি এবং জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বালু মহালের ইজারাদার এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার স্থানীয় লোকজন সেখানে ছিলেন। এসময় তারা সারি-৩ বালুমহাল ও বড়গাং বালুমহালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। এতে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি-৩ নদীর বালুমহাল থেকে কোনো বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, বড়গাং বালুমহালের ইজারাদাররা তাদের নির্ধারিত ইজারাকৃত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে সারি-৩ বালুমহালের কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানান, সারি-৩ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। তবে বড়গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌকাগুলো এই নদীপথ ব্যবহার করে সারীঘাট যাতায়াত করে। বড়গাং বালুমহালের ইজারাদাররা জানান, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধভাবে বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন এবং নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের দাবি, বড়গাং বালুমহালের বালু সারীঘাটে পৌঁছানোর জন্য সারি-৩ নদীপথই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। তারা জানান, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই নদীপথে নৌযান চলাচলের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নৌযান চলাচল বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। পূর্বেও একই বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে নদীপথে নৌকা চলাচলে কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। ইজারাদারদের অভিযোগ, কিছু দুষ্ট শ্রেণীর ব্যক্তি বিভিন্নভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করছেন এবং প্রশাসনকে ভূল তথ্য বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অযৌক্তিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, প্রকাশ্যে বা গোপনে বালু উত্তোলন হয়েছে এরূপ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সারি-৩ নদীর বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পানিপথে নৌযান চলাচলে বাধা প্রদান করার মতো কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন