০৯:৩৫ পি.এম
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার খবরের মধ্যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য চমৎকার মর্মে হোয়াইট হাউসের এমন দাবির বিপরীতে বিশেষজ্ঞরা কিছু দৃশ্যমান শারীরিক উপসর্গের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্যানসার আরো ছড়িয়ে পড়ার ফলে গত শুক্রবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ছেলে হান্টার বাইডেন এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র চার মাস পর ২০২৫ সালের মে মাসে জো বাইডেন জানিয়েছেন, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। সেসময় ক্যানসার তার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল আগ্রাসী ধরনের।
এবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট আগামী মেয়াদ শেষে দেশটির ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে প্রবীণ প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠবেন। মে মাসে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক শন বারবাবেলা বলেছিলেন, ট্রাম্প চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী।
আরও পড়ুন: দক্ষিণখানের অমিতের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, অস্ত্র ও পুলিশ হত্যার অভিযোগ
এছাড়া, তার ব্যস্ত কর্মসূচি, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতাকে সুস্বাস্থ্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে দেখা যাওয়া কিছু শারীরিক পরিবর্তন সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে একটি নিবন্ধে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক, এবং ২৭ বছর ধরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. জোনাথন রেইনার।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি ট্রাম্পের চিকিৎসক নন এবং কেবল প্রকাশ্যে আসা তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করেছেন। তার নজরে এসেছে, ট্রাম্পের হাতে কালশিটে, পা ফুলে যাওয়া এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জেগে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হওয়া। এ ছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে হৃদ্যন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রেইনার ট্রাম্পের সব চিকিৎসা তথ্য প্রকাশের পক্ষে অবস্থান করছেন না। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু তথ্য নিরাপত্তার কারণে গোপন রাখা হতে পারে। একইসাথে, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে, দেশের পরিচালনার জন্য যে ব্যক্তি বিপুল ক্ষমতা প্রাপ্ত, তিনি শারীরিক ও চিকিৎসাগতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম কি না।
আরও পড়ুন: বাণিজ্যমন্ত্রী: বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পৃথিবীর আর কোথাও নেই
এ কারণেই তিনি সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় কংগ্রেসের বাইরে একটি স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্যানেল প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা মূল্যায়ন করবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই এরকম ছিল। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন এবং বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরার সময় তিনি হোঁচট খেতেও দেখা যেত। তবে বাইডেনের চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর খবর সামনে আনতেন না। কিন্তু সম্প্রতি তার ছেলে হান্টার বাইডেন জানিয়েছেন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
এভাবে, দুই প্রবীণ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ঘিরে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য, স্বচ্ছতা এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা সবই এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসা-গোপনীয়তা এবং জনগণের জানার অধিকারের মধ্যে সীমানা কোথায়।
আরও পড়ুন: ইরানের দাবি, আরেকটি মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন