১১:১৯ এম
কলম্বিয়ায় এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রায় ৩৭ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার পর সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার পরিবার সূত্রে এ তথ্য সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানানো হয়।
তাঁর মৃত্যুর ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া অন্যদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। গত সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়ে আছেন। উদ্ধারকর্মীরা এখনো তাঁদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৩২ বছর বয়সী ড্যানিয়েলা লার্গোকে মঙ্গলবার পেরেইরা শহরে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে জীবিত উদ্ধার করার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে তিনি তখন পুরো দেশের জন্য আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
আরও পড়ুন: ভারতে মুসলিম গরু ব্যবসায়ীদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই মামলা
কিন্তু শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় লার্গোর মৃত্যু ঘটে। তিনি ১২ বছর বয়সী একটি ছেলেকে রেখে গেছেন।
লার্গোর মা সান্দ্রা মিলেনা পেরেজ বলেন, ‘আমি শুধু চাই, এই দুঃসহ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হোক।’
এদিকে কর্তৃপক্ষ জানান, সোমবারের ভূমিকম্পে অন্তত ২৯৪ জন নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৩২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া দেয়াল ও ছাদের ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।
ভূমিকম্পের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরার বাসিন্দারা এখনও অলৌকিকভাবে কাউকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার আশা করছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশা ফিকে হতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: আইআরজিসির দাবি, হরমুজে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক
৫৫ বছর বয়সী রেস্তোরাঁর ডেলিভারি কর্মী ফার্নান্দো গাইতান বলেন, ‘যদি কেউ জীবিত থাকে, তাহলে সেটি সত্যিই অলৌকিক হবে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত আছে বলে আমার মনে হয় না।’
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বড় বড় অংশ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। টানা কয়েক দিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের করপোরাল হাভিয়ের হিমেনেজ উল্লেখ করেন, ‘শেষ ব্যক্তিটি উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।’
এদিকে ভূমিকম্পের ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য কলম্বিয়া সরকার অর্থনৈতিক চাপ কমানোর নেয় উদ্যোগ। নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা গত ৭ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিটের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ফোনালাপ করেছেন, এ সময় ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিতের অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন: মাদক ও বেকারমুক্ত বান্দরবান গড়ার আহ্বান সাচিং প্রু জেরীর
জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে, তবে কফি ও তেলের মতো কিছু পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে।
দে লা এসপ্রিয়েলা জানান, শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত হলে ভূমিকম্পের কারণে কঠিন সময় পার করা ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সহায়ক হবে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার সহায়তা এবং উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মানবিক সহায়তা ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য ইসরাইলকে ধন্যবাদ জানানও।
ভূমিকম্পের ফলে ১৪ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধসেছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালি, পেরেইরা ও মানিজালেস শহর পুনর্গঠনে বিশাল অর্থের প্রয়োজন হবে।
আরও পড়ুন: সরকার আরো ১ লাখ এতিম-দুস্থ শিশুকে সহায়তা দেবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন