সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
১১:৫৬ পি.এম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের অধ্যাপক,তাহমিনা আক্তার।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন,সহকারী সচিব মোঃ সুলতান আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, আইন ২০১৬ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে অধ্যাপক, তাহমিনা আখতার নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, যেটি আগে হবে। উপাচার্য হিসেবে তিনি বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর রমনা থানার মৌচাক এলাকার আনারকলি মার্কেটের সামনের গলিতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নামে একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, নিহত বিল্লাল রমনা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
সোমবার রাত ৮টার পর এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. মোবারক হোসেন আকাশ জানান, রাত ৮টার দিকে রমনার আনারকলি মার্কেটের সামনে যুবদলের লুৎফুরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত বিলাল হোসেনকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোবারক হোসেন আকাশ আরও বলেন, নিহত বিলাল হোসেনের বাড়ি মালিবাগের বাগানবাড়ি এলাকায়, ৫১২ নম্বর বাসায়। তিনি মৃত ইউসুফ তালুকদারের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ইট-বালুর ব্যবসায়ী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অভিযানটির অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানের মাধ্যমে যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং একটি মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সহ মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।
রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ও জিরি ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন গুরুতর অপরাধের মামলা আছে।
পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাইখাই এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ আলমকে (৪৬) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি প্রাথমিকভাবে যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পটিয়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে খোরশেদ আলমকে সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী এবং জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা হাসান মেম্বারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি জয়নাল আবেদীনকে (২৬) রাত সোয়া ১টার দিকে জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাইদাইর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মারামারি, গুরুতর জখম, নারী নির্যাতন, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন পলাতক এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পটিয়া উপজেলায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখতে পুলিশের কর্মসূচি চলমান থাকবে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক মন্তব্য করেন, পটিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম সম্প্রতি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার এ অবস্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা স্থানীয়ভাবে আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় আব্দুল হামিদ চৌধুরী (৭৫) নামক এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। এই আগুনে বাসটির বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।
এই ঘটনা ঘটে সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে, উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের হাফিজিয়া মাদরাসার পাশে ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ মোটরসাইকেল নিয়ে পার্শ্ববর্তী সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠার সময় ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটি ঘটে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার একটি পা থেঁতলে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্বাধীন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সফি বলেন, যাত্রী নিয়ে ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং পরে সেটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
আহতের ছেলে খোকন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবার অবস্থা আশংকাজনক। আমরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়ের নাম পটিয়া জিমনেসিয়াম। তৎকালীন ‘পটিয়া যুব গোষ্ঠীর ভবন ও ব্যায়ামাগার’ হিসেবেও পরিচিত।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে, ১৯৭৯ সালের ৯ জুন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি একসময় ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদ, শরীরচর্চাবিদ ও তরুণ সমাজের স্বপ্নের ঠিকানা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায়, রাজনৈতিক পালাবদল এবং দীর্ঘ অবহেলার কারণে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী জিমনেসিয়াম হারিয়েছে তার জৌলুস।
একসময় সকাল-সন্ধ্যা তরুণদের পদচারণায় মুখর থাকা এই ব্যায়ামাগারটি এখন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জীর্ণ দেয়াল, ভাঙাচোরা অবকাঠামো, অচল যন্ত্রপাতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও প্রবীণ সংগঠকদের অভিযোগ, শহীদ জিয়ার স্মৃতি বহনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নে নানা প্রকল্পের ঘোষণা এলেও পটিয়া জিমনেসিয়ামের ভাগ্য বদলাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময়কার প্রাণচঞ্চল এই ক্রীড়া কেন্দ্র ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
তবে দীর্ঘদিনের হতাশার মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে সম্প্রতি পটিয়ায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনামের অনুরোধে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ঐতিহাসিক পটিয়া জিমনেসিয়াম পরিদর্শন করেন এবং এর বর্তমান অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জিমনেসিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, পটিয়া জিমনেসিয়াম শুধুমাত্র একটি ব্যায়ামাগার নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এটি প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। পটিয়ার মিনি স্টেডিয়ামের পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক জিমনেসিয়ামকে আধুনিক ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তরুণদের জন্য উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
পটিয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, ‘পটিয়ার ক্রীড়া ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এই জিমনেসিয়াম শুধুমাত্র একটি ভবন নয়, এটি পটিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। প্রায় ৪৭ বছর আগে শহীদ জিয়া স্বশরীরে এসে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।’
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি জিমনেসিয়ামের আধুনিকায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তরুণরা আরও বেশি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে।
এমপি এনাম বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন বলেন, ‘একসময় পটিয়া জিমনেসিয়াম দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা ব্যায়ামাগার ছিল। এখান থেকে বহু জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরি হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, আমরা বহুবার জিমনেসিয়ামটির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন এবং উন্নয়নের আশ্বাস আমাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে এটি আবারও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
স্থানীয় খেলোয়াড় ও শরীরচর্চাবিদরা মনে করছেন, প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের এই জনবহুল উপজেলায় একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, মিনি স্টেডিয়ামের পাশাপাশি শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ক্রীড়া আন্দোলন নতুন গতি পাবে এবং নতুন প্রজন্ম সুস্থ-সবল জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে, দীর্ঘ যুগের অবহেলা ও অনাদরের পর অবশেষে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরে এসেছে পটিয়া জিমনেসিয়াম। এখন ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হোক এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব। কারণ পটিয়ার মানুষ বিশ্বাস করে, জিয়ার হাতে গড়া এই ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান আবারও জেগে উঠলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তরুণ সমাজ নতুন স্বপ্ন দেখবে, নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এবং ক্রীড়ার মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও আলোকিত প্রজন্ম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ