শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০০ পি.এম
খুলনা মহানগরীতে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের দুই হাতের কবজিতে চাপাতি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে। ৯ অক্টোবর খুলনা জেলার সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে রিকশায় পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার সময় তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লায় সালিশে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা যুবদল নেতা আবু কাউসারকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে তার বাড়ির মাত্র ৫০ গজ দূরে চায়ের দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সারাদেশে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ আজ টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। খুনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানের পরও পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। হত্যাসহ বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-পুলিশ সদর দফতরের পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। শীর্ষ কর্মকর্তারা যেন ঘুমের মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থায় অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ জনেরও বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থা ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা, গণপিটুনির সংস্কৃতি, রাজনৈতিক কোন্দল এবং পারিবারিক অস্থিরতার কারণে এ ধরনের নৃশংস খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করা হয়। পরিসংখ্যানে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দাঙ্গা, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অপরাধ, মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য ছিল। বৈঠকে সারা দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সময়োপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা।
গত ১৩ অক্টোবর সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। নিহতের ভাই আব্দুল জলিল সানা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ’ তুলে গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের মাধ্যমে শামীমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চলতি মাসে সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কুমিল্লায় জান্নাতুল তাজমীন (১৩) হত্যাকাণ্ড। ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে অটোরিকশাটির চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। ৭ অক্টোবর পটুয়াখালী ইপিজেড মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের হাতাহাতির জের ধরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে আব্বাস ও তার চাচাতো ভাই রুবেল সিকদারকে ডেকে নেয়া হয়। পরে কৌশল অবলম্বন করে রুবেলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আব্বাসকে আটকে রাখা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ৯ অক্টোবর রাতে পটুয়াখালী সদর থানাধীন পশ্চিম আউলিয়াপুর এলাকায় ইপিজেড সংলগ্ন মহাসড়কের পাশের ঢাল থেকে আব্বাসের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে শিরিন বেগমের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীর চার টুকরা করে রাখা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সহিংসতার ব্যাপক চিত্র উঠে এসেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসে ১৮৩টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৬৯টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও অন্তত ৫৪০ জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩১টি ঘটনায় একজন এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সংঘর্ষের ১৬টি ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
১৩ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল এখনও পুরোপুরি কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিগত শাসনামলে পুলিশের ব্যবহার এবং তা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাহিনীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। কার্যকর পুলিশিংয়ে ফেরাতে আরও সময় প্রয়োজন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। অনেক অপরাধী পালিয়ে বা আত্মগোপনে থাকলেও তাদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তি বিবেচনায় না নিয়ে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রভাবশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা বাধার মুখে পড়ে। কোনও ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে অন্য ঘটনায় শিথিলতা দেখানো হলে আইনের শাসনের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরাধী যেই হোক, তদন্ত, অভিযোগপত্র ও বিচার প্রক্রিয়ায় সমান মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ চলতে থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং ‘র’ দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। পটুয়াখালীতে, সারা দেশের মতো, ‘র’-এর লোকজন রয়েছে। তাদের আমরা চিনি এবং তাদের প্রতি নজর রাখতে হবে। এসব কথা পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালীর দুমকিতে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে বলেন।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় স্থানীয় সাতানী আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি জহির উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল, যুগ্ম আহবায়ক কেন্দ্রীয় কমিটি জেএম আনিসুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান দিপু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজায় যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা কর্মীদের রোটেশন করে পাহারা দিতে হবে।
তিনি জনগণের সমস্যা পায়রা নদীর ভাঙন রোধে কাজ করে চলছেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই তা দৃশ্যমান হবে বলে জানান। প্রতিটি ঘরে টিউবওয়েল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আমি ৫ হাজার টিউবওয়েল চেয়ে আবেদন করেছি, যা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি শ্নেহাংশু সরকার কুটিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পটুয়াখালীতে ‘র’-এর এজেন্ট রয়েছে, তাদের আমরা চিনি এবং আপনাদেরকে তাদের প্রতি নজর রাখতে হবে। তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
এছাড়া সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দুমকি উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন মিলন, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম রুবেল, উপজেলা যুবদল নেতা সৈয়দ মনির হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই আজিজুল হক (৫৪) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজুল হকের মৃত্যু ঘটে। আজিজুল সাদুল্লাপুরের বনগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম ইসবপুরের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বড় ভাই জসিজল হক দুই বাড়ির সীমানা ঘেঁষে একটি পাকা গোয়ালঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই দিন দুপুরে ছোট ভাই আজিজুল এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। এরপর তাদের মধ্যে প্রথমে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে জসিজল পাশে পড়ে থাকা ইঁট ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে আজিজুল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুলকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজুলের মৃত্যু হয়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ রংপুরে রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ এলাকায় নেওয়া হবে। হত্যার আলামত হিসেবে বাঁশ ও ইট জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে মামলা দায়ের করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে চারদিনের সফরে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক দল, যা দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তির আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ তথ্য শুক্রবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টসের (পিএনসিএ) মহাপরিচালক মাহমুদ আইউব জামালি, ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টেট লাউঞ্জে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের ন্যাশনাল হেরিটেজ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ।
উপহাইকমিশনার ফজলে লোহানী বাবু বাংলাদেশের হাইকমিশনের পক্ষে সাংস্কৃতিক দলকে স্বাগত জানান।
দেশটিতে সফররত সাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিজানুর রহমান এবং দলে রয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও সংগীতশিল্পীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা উঠে এসেছেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন—বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) পিএইচডি গবেষক। তিনি আইসার জাতীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত এক সপ্তাহে দিল্লি পুলিশের হাতে একাধিকবার আটক হওয়া কর্মীদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন।
এ ইস্যুতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন নেহা। গত সপ্তাহে তার নেতৃত্বে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও কপিল সিবালও অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনেও যোগ দিয়েছিলেন নেহা ও অন্যান্য শিক্ষার্থী নেতারা। বিভিন্ন আন্দোলনে ধারাবাহিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের ছাত্র অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিবাদের অঙ্গনে তিনি পরিচিতি অর্জন করেছেন।
আইসা কী, ভারতের ছাত্ররাজনীতিতে এর ভূমিকা কী?
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) ভারতের একটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন। এটি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন বা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনটি ভারতের ছাত্ররাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
ভারতের বামপন্থি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে আইসার উত্থান বুঝতে হলে কমিউনিস্ট আন্দোলনের ধারাবাহিকতা জানা প্রয়োজন। ১৯২৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৩৬ সালে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) গড়ে ওঠে। ১৯৬৪ সালে সিপিআই ভেঙে সিপিআই (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম) প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭০ সালে গঠিত হয় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)।
তবে আইসার রাজনৈতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতের নকশাল আন্দোলনও।
১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়িতে কৃষক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। চারু মজুমদার ও কানু সান্যালসহ সিপিআই(এম)-এর বিদ্রোহী নেতারা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেন। ১৯৬৯ সালে গঠিত হয় কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী), সংক্ষেপে সিপিআই(এমএল)। পরে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারি দমন-পীড়ন ও মতাদর্শগত বিরোধের কারণে ১৯৭০-এর দশকে নকশাল আন্দোলন বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। দক্ষিণ দেশ, পিপলস ওয়ার গ্রুপ (পিডব্লিউজি), পার্টি ইউনিটি এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ছিল এসব ধারার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এর মধ্যে কয়েকটি গোষ্ঠী সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রাখে। তাদের কৌশল ছিল গ্রামাঞ্চলে ঘাঁটি গড়ে সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শহর ঘেরাও করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। অন্যদিকে, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ধীরে ধীরে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ থেকে সরে এসে গণআন্দোলন ও নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণের দিকে এগোয়।
১৯৮২ সালে দলটি ইন্ডিয়ান পিপলস ফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশ নিতে শুরু করে। ১৯৮৯ সালে বিহারের আরা আসন থেকে রামেশ্বর প্রসাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন বিহারে বিরোধী দলগুলোর ইন্ডিয়া জোটের অংশ।
এই রাজনৈতিক ধারার ছাত্রসংগঠন হিসেবে ১৯৯০ সালে আইসার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা খাতে বৈষম্য এবং বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলনে অংশ নেয়। সংগঠনটির সভাপতি নেহা বোরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আলোচনায় এসেছেন।
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ