মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২০ এম
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন এবং বিএসটিআই কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় এই অভিযানটি সম্পন্ন করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান। এ সময় বিএসটিআই কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার খাইরুল ইসলাম এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মামুনুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের ফলস্বরূপ, শহরের চাকলাপাড়ার প্রভাতী পিওর ড্রিংকিং অ্যান্ড টয়লেট্রিজকে মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ ছাড়াই লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, লিকুইড ডিশওয়াশ এবং প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদনের অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অগ্রিবীণা সড়কের অয়ন স্টিল কর্নারকে ব্যবহৃত ডিজিটাল স্কেলের ভেরিফিকেশন সনদ না থাকার কারণে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া, পোস্ট অফিস মোড়ের সোমা দধি অ্যান্ড মিষ্টিকে উৎপাদিত মিষ্টিজাতীয় পণ্যে যথাযথ উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকার জন্য ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মদিনা সুইটস অ্যান্ড পেস্ট্রি শপকে ফার্মেন্টেড মিল্ক, সুইটমিট ও ডেকোরেটেড কেক পণ্যে বাধ্যতামূলক মান সনদ গ্রহণ না করে আবেদনের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান এবং ওজন-পরিমাপের সঠিকতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশা এলাকায় মাদক সেবন ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নিয়মিত অত্যাচার করার অভিযোগে কাওছার হাবিব (২৫) নামের এক যুবককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত সন্তানের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেন তার নিজ বাবা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পোরশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত কাওছার হাবিব পোরশা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পুরইল গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাদক সেবনের অপরাধ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় কাওছার হাবিবকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। নিজ সন্তান হওয়া সত্ত্বেও পিতার এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে এক অনন্য বার্তা প্রদান করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাওছার হাবীবের অন্যায় ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে শুধু তার পরিবার নয়, প্রতিবেশীরাও চরম অতিষ্ঠ ছিল। নিজের সন্তানকে আইনের আওতায় এনে বাবা আবুল হোসেন যে সাহসিকতা ও সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন, তা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট এলাকায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পর দলটির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালদিঘী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, "জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তিনি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এছাড়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নুরুল আমিন বলেন, "জনগণের কষ্ট ও দুর্দশা অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যথায় সরকারকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারসহ জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
নগর জামায়াতের অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি খুররম মুরাদ, ডবলমুরিং থানা আমির ফারুকে আযম, পাঁচলাইশ থানার আমির ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ।
বক্তারা জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট নিরসন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বিদ্যুৎমন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে পৌর নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার রিয়াজ হোসেন খানের বাউফলে আগমনের কারণে পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে আসন্ন পৌর নির্বাচনে রিয়াজ হোসেন খানের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে তাঁর নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় দুই ব্যক্তি, কার্তিক ও রুবেল, হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা দাবি করেন যে, কার্তিক ও রুবেল নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা। তারা যুবলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রিয়াজ হোসেনের পক্ষে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। তবে হামলার শিকার দুই ব্যক্তির দাবি, তারা কখনোই নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ বা ছাত্র লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
অন্যদিকে, রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র পাবলিক মাঠসহ চারটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বাউফলের একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা ককটেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, "বিকট শব্দে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়েছেন। ককটেল বিস্ফোরণ, নাকি অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজের সময় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা ইসলামি সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গালফ বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসকারী অথবা হজ থেকে ফিরে আসা অনেক মুসলমানকে দেখা যায় যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে টুপি পরিধান না করে খালি মাথায় নামাজ আদায় করছেন। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সংশয় ও দ্বিমত সৃষ্টি করেছে।
মাথা ঢেকে রাখার গুরুত্ব একজন মুসলিমের জীবনে কতটুকু এবং খালি মাথায় নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি কী— এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক একটি টিভি অনুষ্ঠানে। আসুন, তার বিশ্লেষণটি জানি।
টুপি ও পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা কি সুন্নত?
ডা. জাকির নায়েক উল্লেখ করেন, অসংখ্য সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মাথা সর্বদা আবৃত থাকত। তিনি টুপি, পাগড়ি অথবা যুদ্ধক্ষেত্রের শিরস্ত্রাণ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতেন। নবীজি (সা.)-এর প্রিয় সাহাবিদের মাথার পোশাকও সর্বদা আবৃত থাকত।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আরবিতে টুপিকে ‘কুফি’ বলা হয়, যা আমাদের উপমহাদেশে ‘টুপি’ হিসেবে পরিচিত। হাদিসের প্রমাণ অনুযায়ী—
চার মাজহাবের ইমামদের ঐক্যমত
ডা. জাকির নায়েক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মাথা ঢেকে রাখার বিষয়ে চার মাজহাবের সম্মানিত ইমামগণ— ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.), ইমাম মালিক (রহ.) এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-সহ তৎকালীন ও পরবর্তী প্রায় সকল বুজুর্গ ও আলেম একমত হয়েছেন।
ইমাম মালিক (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইসলামের শুভসূচনা থেকে আজ পর্যন্ত আলেম, সাহাবি ও সালাফদের যুগপরম্পরায় সর্বত্র এই টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখার সুন্দর রীতি চলে আসছে।’
খালি মাথায় নামাজ আদায়ের পেছনের মানসিকতা ও ভুল যুক্তি
ভারতীয় উপমহাদেশসহ অন্যান্য দেশের মসজিদে আগে প্রায় শতভাগ মানুষ টুপি পরে নামাজে দাঁড়াতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক জায়গায় দেখা যায় যে, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ খালি মাথায় নামাজ আদায় করছেন। এর মূল কারণ ও ভ্রান্ত যুক্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো—
১. অসম্পূর্ণ জ্ঞানের প্রকাশ
বিদেশে বা গালফ দেশগুলোতে গিয়ে অনেকে জানতে পারেন যে, ‘নামাজ কবুল হওয়ার জন্য টুপি পরা ফরজ নয়, টুপি ছাড়াও নামাজ হয়ে যায়।’ এই প্রাথমিক ও অসম্পূর্ণ জ্ঞান পাওয়ার পর অনেকে নিজেদের জ্ঞান জাহির করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে টুপি পরা ছেড়ে দেন। অথচ টুপি পরা যে একটি ফজিলতপূর্ণ মুস্তাহাব ও সুন্নত কাজ, সেটি তারা এড়িয়ে যান।
২. ইহরামের সাথে সাধারণ সময়ের ভুল তুলনা
অনেকে যুক্তি দেখান— হজের সময় ইহরাম অবস্থায় খালি মাথায় নামাজ পড়া হয়, তাই সাধারণ অবস্থাতেও টুপি ছাড়া নামাজ পড়া যাবে। ডা. জাকির নায়েক এই যুক্তিটিকে সম্পূর্ণ ভুল ও অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ—
নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের আমল: হাদিসের আলোকে প্রমাণ
টুপি ও পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢাকার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিসের উদ্ধৃতি নিচে প্রদান করা হলো—
১. মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি (সা.)-এর মাথার পোশাক
হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মক্কা বিজয়ের মহা আনন্দের দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাথার পোশাকের বর্ণনা এসেছে এভাবে—
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ
‘নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তার মাথায় একটি কালো রঙের পাগড়ি শোভা পাচ্ছিল।’ (মুসলিম ৩১৪৮)
২. নবীজি (সা.)-এর সাদা টুপি পরিধান
হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.)-এর টুপি ব্যবহারের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে—
‘মহানবী (সা.) সাদা রঙের টুপি পরিধান করতেন।’ (তাবরানি)
৩. সাহাবিদের মাথার পোশাক ও টুপির আমল
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পথ অনুসরণ করে তার প্রিয় সাহাবিগণও টুপি ব্যবহার করতেন। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর আমল সম্পর্কে সহিহ বুখারিতে এসেছে—
وَكُوفِيَّةٌ: وَكَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَلْبَسُ الْكُوفِيَّةَ
‘হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) টুপি (কুফি) দিয়ে নিজের মাথা ঢেকে রাখতেন।’ (বুখারি ৫৮০২)
গালফ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেমদের আমল
ডা. জাকির নায়েক স্মরণ করিয়ে দেন যে, আধুনিককালের বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আলবানি (রহ.) এবং সৌদি আরবের প্রখ্যাত গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ বিন বাজ (রহ.)-সহ গালফ অঞ্চলের সকল বড় বড় বরেণ্য আলেমরা সর্বদা টুপি বা রুমাল দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতেন। মিসরের কিছু আলেমের শিথিল ফতোয়া কিংবা ভুল ব্যাখ্যার কারণে সাধারণ মানুষ আজ মহানবীর সুন্দর সুন্নত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
নামাজ হলো আল্লাহর দরবারে বান্দার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হাজিরা ও ইবাদত। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় পোশাকে শালীনতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা ইমানের দাবি। টুপি পরা ফরজ না হলেও, এটিকে অবহেলা করে খালি মাথায় নামাজে দাঁড়ানো নবীজির সুন্নত ও সালাফদের ধারার পরিপন্থি। তাই বিভ্রান্তি বা যুক্তির পেছনে না ছুটে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসায় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে নামাজ আদায় করাই একজন সচেতন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই ছোট আমলটি সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি আমাদের প্রিয় নবীজির (সা.) সুন্নত জিন্দা করার এক মহান সুযোগ এনে দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ