রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৬ পি.এম
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কর নির্ধারণ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভয় দূর করতে দেশের কর ব্যবস্থা সহজ ও অধিকতর স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজ রোববার সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুল আলীম-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আমির খসরু স্বীকার করেন, করদাতাদের মধ্যে সাধারণভাবে এমন একটি ভয় রয়েছে যে, কর রিটার্ন, বিশেষ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করলে নিরীক্ষার আওতায় পড়তে হবে এবং পরবর্তীতে হয়রানির শিকার হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশে করের আওতায় আসা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয় রয়েছে, তা সত্য।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে স্বেচ্ছায় কর দিতে এগিয়ে আসে, সে লক্ষ্যে সরকার কর ব্যবস্থা সহজ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে এই ভয় রয়েছে। এ কারণেই মানুষ করের আওতায় আসতে চায় না। তাই সরকার সামগ্রিক কর প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।’
নিরীক্ষার নামে হয়রানি নিয়ে সংসদ সদস্যের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, করদাতাদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অডিট বা নিরীক্ষা একটি মাত্র বিষয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে কর নীতি প্রণয়ন এবং কর প্রশাসন ও বাস্তবায়নকে পৃথক করার দিকে সরকার এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে কর ব্যবস্থার বিভাজনের দিকে এগোচ্ছি- যারা কর আইন ও নীতি প্রণয়ন করবেন এবং যারা তা বাস্তবায়ন করবেন, তাদের পৃথক করা হবে।’
তিনি এ পৃথকীকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে কর প্রশাসনে দুর্নীতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি দুর্নীতির একটি বড় সুযোগের ক্ষেত্র ছিল। পৃথকীকরণের মাধ্যমে এই প্রভাব অনেকাংশে কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, করদাতারা যাতে ভয় বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ছাড়াই কর পরিশোধ করতে পারেন, সে জন্য কর প্রশাসনে অধিকতর স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে চাই, যাতে প্রত্যেক করদাতা সহজেই কর দিতে এগিয়ে আসতে পারেন।
আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো খুবই কম। অতীতে পরিস্থিতির উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে অব্যাহত না থাকায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত খুবই কম। অতীতে এসব উদ্যোগ অব্যাহত না থাকায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থা সহজ করা হলে আরও বেশি মানুষ করের আওতায় আসতে উৎসাহিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি ব্যবস্থা সহজ করব, তত বেশি মানুষ এগিয়ে আসবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু অডিট বা নিরীক্ষা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নয়, কর পরিশোধে মানুষকে নিরুৎসাহিত করে এমন অন্যান্য সমস্যাও সমন্বিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এসব সমস্যা একসঙ্গে সমাধানের মাধ্যমে ব্যবস্থা সহজ করার কাজ করছি। খুব শিগগিরই আপনারা এর ফল দেখতে পাবেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, এবং দালাল চক্রের প্রতারণা। সরকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ‘সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন।
নোটিশে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা ম্যাডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তাসহ ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী নুর জানান, প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য তাকে গবেষণা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই।" সরকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী নুর আরও বলেন, "যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে, প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা— এই বিষয়টি আমাদের একটি বড় অগ্রাধিকার।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সমাপ্তিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে চলমান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠক করার পর রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার কিয়েভে পৌঁছেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রবিবার তাদের কিয়েভ সফরের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।শনিবার মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেন দুই মার্কিন দূত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইউক্রেনে ‘সমানভাবে ফলপ্রসূ বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছেন।ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমজানাচ্ছে, তবে ওই পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হচ্ছে।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচকদের জন্য এটি কিয়েভে প্রথম সফর। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টরা নিজেদের রাজধানীতে হামলা তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে পারস্পরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধের এই সিদ্ধান্ত শান্তি আলোচনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তবে যুদ্ধের অন্যান্য ফ্রন্টে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূখণ্ড, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলায় কৃষকরা নিয়ম অনুযায়ী ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন কি না- তা আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন মনিটরিং ও পরিদর্শন করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সার বিতরণ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ডিলার সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি ডিলারদের গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে সার মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দীন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে নতুন করে ১৩টি সরকারি স্কুল ও কলেজে এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নতুন চালুকৃত ১৩টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে প্রতিষ্ঠানের নামের পার্শ্বে বর্ণিত ট্রেডে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার অনুমতি প্রদান করা হলো।
নথিতে উল্লিখিত ১৩টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের নাম নিচে দেওয়া হলো—
১. তানোর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, রাজশাহী
২. দীঘিনালা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, খাগড়াছড়ি
৩. তেঁতুলিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, পঞ্চগড়
৪. হরিপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, ঠাকুরগাঁও
৫. দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, সুনামগঞ্জ
৬. দুপচাঁচিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া
৭. সাঘাটা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, গাইবান্ধা
৮. ইটনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, কিশোরগঞ্জ
৯. বটিয়াঘাটা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, খুলনা
১০. সিংড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, নাটোর
১১. মোহাম্মদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, মাগুরা
১২. শৈলকূপা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, ঝিনাইদহ
১৩. হরিরামপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, মানিকগঞ্জ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ