শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৫ পি.এম
সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মন্তব্য করেছেন যে, শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই কারণে, প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা সেই বরাদ্দকে কাজে লাগাতে চাই।"
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটিতে শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, "অতীতের সরকার শিক্ষার বরাদ্দের নামে লুটপাট করেছে।" শিক্ষার উন্নয়নে দুর্নীতি প্রতিরোধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "এক্ষেত্রে কোনো আপস করব না।" শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটির উপদেষ্টা মাওলানা আনোয়ারুল মোস্তফা হেজাজী।
আলোচনাসভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সেরামপুরে দলের সমাবেশে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, দলের নেতাদের ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে।
তিনি শনিবার সমাবেশস্থলে যাওয়ার সড়ক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ‘বিজেপির গুণ্ডারা’ দায়ী করেন এবং সেখানে পুলিশের উপস্থিতি নেই বলেও অভিযোগ করেন।
মমতা বলেন, ‘আমাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাকে সমাবেশস্থলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমি যাব এবং সমাবেশে বক্তব্য দেব। পারলে আমাকে থামান।’
তিনি আরও জানান, আদালতের অনুমতি থাকায় সমাবেশ নির্ধারিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। মমতা বলেন, সমাবেশটি আদালতের অনুমতি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এবং এটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু তারা বিষয়টিতে ‘চোখ বন্ধ করে’ রয়েছে।
মমতা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় ক্ষমতাসীন বিজেপি ‘সন্ত্রাস চালাচ্ছে’। তিনি প্রশ্ন তুলেন, বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে এত ‘সন্ত্রাস’ কেন চালানো হচ্ছে?
এর আগে টিএমসির মমতা-সমর্থিত অংশ অভিযোগ করে, সেরামপুরের সমাবেশে যাওয়ার পথে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, হুগলির উত্তরপাড়ায় বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি কালো পতাকা হাতে একটি দল ঘিরে ধরে। এ সময় তারা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসে উশু ডিসিপ্লিনের মহিলাদের ৫২ কেজি ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ জিন্নাত আক্তারকে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে জাপানের আইচি-নাগোয়া থেকে টিজি ৩৩৯ ফ্লাইটযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিওএর পক্ষ থেকে জিন্নাত আক্তারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এসময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ উল্লাহ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য রাসেল কবির সুমন এবং বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জিন্নাত আক্তারের এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তাঁর এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে সকলেই আশাবাদী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক মোতাহার হোসেন খান সুফলকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ এই আদেশ প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সোহাগ সাইফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই মামলায় আরেক আসামী আবু জাফর মোল্লাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন আদালতে দুই আসামীকে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন লাগানো হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি সিট, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। ওই সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দারুসসালাম ও শাহ আলী মাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিসংযোগের শিকার বাসটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুফলের হুকুম ও প্ররোচনা এবং অন্যান্য আসামিদের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ অর্থের জোগান, কেউ ষড়যন্ত্র এবং কেউ সরাসরি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন ৬০ ফিট ভাঙ্গাব্রিজ এলাকা থেকে সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুফল যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক এবং মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। আবু জাফর যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সক্রিয় কর্মী।
সুফলের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং মারামারিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। একটি হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায়ও সুফল এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় আরো ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার” এই প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো: মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জনাব জহুরুল আলম জহুর।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ