০১:১৭ এম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম কর্তৃক আহ্বান করা অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিন্ডিকেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত এই সভায় যুক্ত থাকা এক সদস্য জানিয়েছেন, তিনি সভায় থাকার সময় চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে অংশ নিতে দেখেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি অনুসারে, সিন্ডিকেট সভা সাধারণত সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়। যদি কোনো সদস্য বিশেষ কারণে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারেন, তবে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। কিন্তু এবার পুরো সভা অনলাইনে আয়োজন করাকে প্রচলিত চর্চার ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুয়েটের সিন্ডিকেটে মোট ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালনকারী রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বর্তমানে ওই দায়িত্বে নেই বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, "রেজিস্ট্রার পদ থেকে আগেই পদত্যাগ করেছি। ফলে সদস্যসচিব হিসেবে আমি আর দায়িত্বে নেই।" সভার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আজ অফিস খোলা
সিন্ডিকেট সদস্য এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, পরিবার নিয়ে ছুটিতে বান্দরবানে থাকায় তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি। সভার বিষয়ে তার কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্যও নেই।
অন্য এক সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল জানান, তার মা অসুস্থ থাকায় তিনি সভায় অংশ নিতে পারেননি।
এছাড়া চুয়েটের ভেতরে ও বাইরের কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি।
সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান বলেন, তিনি পুরো সভায় যুক্ত থাকতে পারেননি। তবে যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে যুক্ত হতে দেখেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে চার থেকে পাঁচজন সদস্য সভায় যুক্ত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে উপাচার্য সবাইকে জানাবেন।"
আরও পড়ুন: জবিতে এবার খেলাফত ছাত্র মজলিসের গরুভোজের ঘোষণা, থাকছে কাওয়ালি
সভা সম্পর্কে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মিছিল ও কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
গত ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবনে গেলে আন্দোলনকারীরা তাকে অবরুদ্ধ করেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ বোধ করায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৫ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফেরেন।
এ পরিস্থিতির মধ্যে ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চ্যুয়ালি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। তবে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ৬ সদস্য নিয়ে অনলাইনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন