ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আলোচনা উঠে আসা একটি দুঃখজনক বিষয়। তিনি বলেন, "সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য।" অতীতে অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।" তিনি আরও বলেন, "তবে কেন পূজার সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলতে হয়, তা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক।"

তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশেই কোনো না কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু সব দেশেই বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার স্বীকৃত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেও প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে আরব নেতা আব্বাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "অতীতে আপনাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা অনেকেই লুটেছেন। আমরা সেই প্রসঙ্গে যাব না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন, কোন সময়ে আপনাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই।"

তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। এগুলো মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতেও দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব মানুষ স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।

বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও নকশায় মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আইজিপি

একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানান, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

আইজিপি বলেন, দায়িত্ব পালনের পরও একটি পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। তিনি জানান, যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সুযোগ নিতে চায়, তারা এমন চেষ্টা করতেই পারে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন: পানিসম্পদমন্ত্রী: দেশকে অচল করতে চাওয়া দলের সঙ্গী বিরোধীরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত, ‘এরশাদ ফাইটার্স’ চ্যাম্পিয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


পাবনায় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত, ‘এরশাদ ফাইটার্স’ চ্যাম্পিয়ন

পাবনার সাঁথিয়ায় প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। লক্ষাধিক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভাধীন আফতাবনগর-ছেচানিয়া সেতুসংলগ্ন ইছামতী নদীতে এ বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নদীর তীরজুড়ে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শকেরা নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে উৎসবে অংশ নেন এবং নৌকাবাইচের অনবদ্য আনন্দ উপভোগ করেন। শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—সবাই যেন ফিরে যান শিকড়ের সেই আনন্দঘন গ্রামীণ উৎসবে।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান) সাইয়েদ আবদুল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আল হাসান আসিফ, সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালাউদ্দিন খান পিপিএম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিকসহ অনেকে।

এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় ১১টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ‘এরশাদ ফাইটার্স’ প্রথম স্থান অধিকার করে পুরস্কার অর্জন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনমন্ত্রী দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ এম


আইনমন্ত্রী দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের অর্থ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি), রমনায় ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে এলাকার সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নাগরিকেরা ভুলত্রুটি তুলে না ধরলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সুতরাং উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়মের সুযোগ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানবতাকে হেনস্তা করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

শৈলকূপার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। দিগনগর ইউনিয়নেও বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক তালিকাভুক্তির আওতায় এসেছে। এসব সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীরা উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহির চর্চা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম-সহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের নেতারা দাবি করেছেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে হবে।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক এসব দাবি উত্থাপন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) আলী আবিদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠনের প্রধান বিলাল হোসেন মানিক, কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশনের নেতা জামাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ জেলা প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।

মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকানে বন্দুকধারী দুই যুবকের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ নিহত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঘটনাস্থল দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার রক্তের দাগ এখনো রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এখানেই পড়ে যান। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিককে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি ২০২৫ সালে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং গাজীপুরের প্রশাসনের তৎপরতার ফলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অভিযোগপত্র দাখিলের নজির তৈরি হয়েছিল।

গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছিল, নেত্রকোনাতেও সেই তৎপরতা অব্যাহত দেখতে চান। সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তখন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ তারা দেখতে চান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে যদি নেত্রকোনা পুলিশ প্রশাসন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে না পারে, তাহলে সারা দেশের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের পর যেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়। গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিবাদে জেগে উঠেছিলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরও সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে দেশের সব সাংবাদিকদের এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


নোয়াখালীতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা

নোয়াখালীতে জেলা পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা জোনের প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির। সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম।

বাংলাদেশ সংবাদ

মতবিনিময় সভার শুরুতে নোয়াখালী জেলার সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চিত্র ও জাতীয় রুফটপ সোলার সিস্টেম বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন নোয়াখালী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাবিবুল বাহার।

তিনি এ সময় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সৌর বিদ্যুতের পরিমান বৃদ্ধি এবং গ্রাহক পর্যায়ে নেট মিটারিং সোলার সিস্টেম স্থাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সৌরশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রাহক পর্যায়ে সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে চাপ কমানো সম্ভব। তিনি নোয়াখালী জেলায় সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সোলার স্থাপনে সরকারের জাতীয় রুফটপ সোলার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশল নোয়াখালী ফিরোজ কবির তার বক্তব্যে সরকারি-বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সোলার প্যানেল স্থাপনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক প্রকিউরমেন্ট ও কারিগরি কাজে যেকোন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়ার সহকারী সচিব মো: হোসেন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে স্থাপনার মালিক, সার্ভিস প্রোভাইডার ও ইউটিলিটি কিভাবে সমন্বয় করে কাজ করবে সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং CAPEX, OPEX মডেলের ভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সচিব তানিয়া বিনতে তাবিব তার বক্তব্যে জীবাস্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো এবং কার্বন নিসরন কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সোলার সিস্টেমের ভূমিকা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সোলার সিস্টেম তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।

ইসলামি বই খুঁজুন

মতবিনিময় সভায় জেলা পর্যায়ের সকারি দপ্তরের প্রধানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীগণ এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সহ ভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%