০৫:৩৬ এম
চায়ের কাপে মচমচে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়া, বিকালের আলসেমি কাটাতে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে, বাঙালির কাছে অন্যতম জনপ্রিয় একটি চর্চা। কিন্তু, এভাবে প্রতিদিনের এই অভ্যাসটি কি আমাদের পরিপাকতন্ত্র এবং পেটের স্বাস্থ্যকে নিঃশব্দে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা ও বিস্কুটের এই যৌথ উপাদানগুলো মারাত্মকভাবে আমাদের পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীর বা ‘গাট ব্যারিয়ার’-কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।
কেন আমাদের পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
আমাদের পরিপাকতন্ত্রের একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বা ‘গাট ব্যারিয়ার’ থাকে। এটি রক্তে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুকে মিশে যেতে বাধা দেয় এবং খাবারে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে। এছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ও পরিপাকপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এই সুরক্ষা স্তর সচল থাকা আবশ্যক।
চা-বিস্কুট যেভাবে ক্ষতি করছে
চায়ের ক্যাফেইন এবং বিস্কুটের প্রক্রিয়াজাত উপাদান একত্রে মিলিত হয়ে পেটে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
ময়দার ক্ষতিকর প্রভাব: বিস্কুটে উপস্থিত মিহি ময়দায় ফাইবারের পরিমাণ প্রায় শূন্য। এটি পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা ‘মাইক্রোবায়োম’কে বিনষ্ট করে দেয়, ফলে পেট সহজে ভরে না এবং মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে অধিক বিস্কুট খেয়ে ফেলে।
আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে
অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম উপাদান: বিস্কুটে যুক্ত অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম মিষ্টিকারক, ইমালসিফায়ার এবং উদ্ভিজ্জ তেল পেটে প্রভাব ফেলতে গিয়ে প্রদাহ তৈরি করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
ক্যাফেইন ও অ্যাসিডিটি: ক্যাফেইন খালি পেটে বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পাকস্থলীর সংবেদনশীল আস্তরণকে উত্তেজিত করে, যা অ্যাসিডিটির সমস্যা বহুগুণ বাড়ায়।
বর্ষাকালে বদহজম ও পেটের সমস্যা বৃদ্ধি ঘটে
বর্ষার সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে যায়। এর ফলে খাবারে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে পেট ফাঁপা ও বদহজমের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: প্রেম খুঁজতে ফিনল্যান্ডে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন কারা?
সাবধান হওয়ার মতো কিছু সতর্কসংকেত
যদি আপনার পরিপাকতন্ত্র বা ‘গাট ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শরীরের পক্ষ থেকে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন:
ঘন ঘন পেট ফাঁপা এবং গ্যাস হওয়া,
পেটে এসিডিটি ও খাবার পর পেট ভারী লাগা,
আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের সাফল্য নিয়ে ৮টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি
নির্দিষ্ট কিছু খাবারে হজমের সমস্যা বা সংবেদনশীলতা,
অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা এবং অনিয়মিত মলত্যাগ।
জরুরি সতর্কতা
যদি পেট ফাঁপার সঙ্গে সঙ্গে ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমতে থাকে, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায় কিংবা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে অবহেলা না করে অবিলম্বে পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: বেগুনের খোসায় ফিরবে চুলের উজ্জ্বলতা
চা-বিস্কুটের ক্ষতিকর অভ্যাস বদলে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর পরিবর্তন আনা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে বিস্কুটের পরিবর্তে ভাজা ছোলা, বাদাম ও বীজ, ফল ও দই অথবা লাল আটার পাউরুটি দিয়ে তৈরি সবজি স্যান্ডউইচ গ্রহণ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ চায়ের পরিবর্তে আদা চা, জিরা পানি, কিংবা মৌরি ভেজানো পানি পরিপাকতন্ত্রের জন্য বেশ আরামদায়ক হতে পারে। সহজপাচ্য খাবার হিসেবে ঘরে পাতা দই, ফারমেন্টেড খাবার, কলা, ওটস, ডাল, এবং সেদ্ধ সবজি পেটের স্থায়িত্ব ও হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতাই আপনার পরিপাকতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন