সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
বরিশাল, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্ত্রীকে আবাসিক হোটেলে হত্যার ঘটনায় স্বামী এবং এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার কারণ ছিল।
একই মামলায় অপর আসামি, হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর, আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু বাসসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে একই দিন কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম এবং হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৩ জন সাক্ষির মধ্যে ১০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, নিহতের ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল জহিরুল ইসলামের। ওই সময় তিনি বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন।
পরকীয়া জেনে ফেলায় ঘটনার দিন স্ত্রী শোভাকে বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে পঞ্চম তলার একটি কক্ষে হত্যা করেন স্বামী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। এই ঘটনায় গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।
অন্যদিকে, হোটেল কার্যক্রম পরিচালনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় ১৬ বছর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করবো না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার নাগরিক সেবার প্রাপ্তি সহজতর করতে আলাদা পরিচয়পত্রের পরিবর্তে একটি জাতীয় ‘ইউনিক’ আইডি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ।
আজ সোমবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক আয়োজিত ‘ওয়ান কার্ড’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ‘ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত পরিচয়পত্র চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, যেকোনো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যকারিতা যাচাই করা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে উদ্যোগটির বাস্তব প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা বৃহত্তর পরিসরে চালু করা যেতে পারে। ইউএপি ‘ওয়ান কার্ড’-এর মাধ্যমে একটি প্রশংসনীয় কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে একটি বিভাগে এর প্রয়োগ দেখে ধাপে ধাপে অন্যান্য বিভাগেও এটি চালু করা যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, সরকার প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা কার্ড না রেখে একটি ইউনিক আইডির মাধ্যমে নাগরিকদের সকল সেবা প্রদানের পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউএপির এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সহায়ক হবে।
উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষার বিস্তারে এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে তারা সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎসাহিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সর্বশেষ বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ইউএপি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা যাচাই করে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সহজ হয়। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইউএপির এই উদ্যোগ যথেষ্ট সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মোজিবুল হক বলেন, ওয়ান কার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি বড় মাইলফলক। এটি ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক, দক্ষ ও সুসংগঠিত ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএপি’র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান কার্ড একটি আধুনিক সেবা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল পরিচয়, লেনদেন (পেমেন্ট) ও তথ্যাদি ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাস জীবনকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে।
অনুষ্ঠানে ওয়ান কার্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ ওয়ান কার্ডের প্রযুক্তিগত দিক- যেমন ওয়ান আইডি, ডিজি পে, ওয়ান কার্ড ভল্ট এবং সমন্বিত পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিলের বনরুটি জাতীয় খাবার পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে, মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগে রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নষ্ট রুটিগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলেও খাবারের মান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৫২নং চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড-ডে মিলের খাবার হিসেবে বনরুটি জাতীয় এসব খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার বিতরণের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী রুটিতে কালো আস্তরণ এবং রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নষ্ট রুটিগুলো দ্রুত ফেরত নেওয়া হয়।
অভিভাবক শাহ পরান, মো. ইমরান ও আব্দুল্লাহ হিল ওয়ানি অভিযোগ করেন, সরকারি উদ্যোগে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হলেও এর মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। রুটির প্যাকেটে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর উল্লেখ থাকলেও ১৩ সেপ্টেম্বর বিতরণের সময়েই রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ দেখা যায়।
তারা বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। খাবার সংরক্ষণ, পরিবহণ কিংবা সরবরাহের কোনো পর্যায়ে গাফিলতি হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দুইজন শিক্ষার্থীর মা মোছা. স্বপ্না আক্তার অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের প্রায়ই কাঁচা কলা, দুর্গন্ধযুক্ত রুটি, কম সিদ্ধ ও নষ্ট ডিম দেওয়া হয়। বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার জানান, রোববার শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদরে ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণের পর কিছু রুটি নষ্ট ও দুর্গন্ধযুক্ত দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়। খাবার বিতরণের পর বিষয়টি নজরে আসে এবং পরে নষ্ট রুটিগুলো সংগ্রহ করে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিলের খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ, মেয়াদ ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে তদারকি করা হোক। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খাবার নষ্ট হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ৫২ নম্বর চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নষ্ট রুটি দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। রুটিগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে এবং যারা খাবার সরবরাহ করে, তাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে জেনেছেন। শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) আনা এক বন্দিকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
মৃত বন্দির নাম মো. রফিকুল ইসলাম (৫৪)। তিনি কোন মামলায় কারাবন্দী ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কুড়িগ্রামের বাসিন্দা রফিকুলের বাবার নাম মো. রজব আলী।
কারাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, রফিকুল কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় আজ সকালে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রফিকুলকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এই কারণে মরদেহ কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আলী আকবর মণ্ডল (৬৭) নামের এক কারাবন্দি মারা যান। তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।
এর পূর্বে ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিটের মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে তিনজন কারাবন্দির মৃত্যু ঘটে। তাদেরও কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃতদের মধ্যে ছিলেন আবুল বাশার (৫৮), আবদুল কাইয়ম (৬২) ও মো. শাহাদত হোসেন লিটন (৫২)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ডাকসু নিয়ে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি সংবাদ লক্ষ্য করেছে। এসব সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
এতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩ (Dhaka University Order, 1973) এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স অ্যান্ড রেগুলেশনস (Dhaka University Ordinances and Regulations) এর চ্যাপ্টার ১৪ (Chapter XIV) এর ধারা ৪ এর নোট অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যে কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে নেবেন।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এটি এখতিয়ারবর্হিভূত।
এছাড়া, ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে এই ওয়েবসাইট চালু করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও বাইরে আনা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Teaching Evaluation-এর (শিক্ষক মূল্যায়ন) জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ফলে অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার সামিল। এমতাবস্থায় ডাকসুর এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ, পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ