বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:২১ পি.এম
২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। বর্তমান সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় যে, প্রায় সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ lakh 15 thousand 473 crore টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর; এই তিনটি প্রধান খাত থেকে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে মোট আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। এ থেকে বোঝা যায় যে, ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বিদায়ী অর্থবছরে আয়কর খাত থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী অর্থবছরে এই খাত থেকে আদায় এসেছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে, কাস্টমস খাত থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ১৯৮ কোটি টাকা। এর ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : ‘২৪ এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে স্বাধীনতা চত্বরে জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিমের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাগেরহাট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, যুগ্ম আহবায়ক শমসের আলী মোহন, জেলা বিএনপি নেতা শেখ শাহেদ আলী রবি, সরদার ওয়াহিদুল ইসলাম পল্টু, বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলি রবি, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, কামরুজ্জামান শিমুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম শান্ত, কৃষকদলের আহ্বায়ক আসাফউদ্দৌলা জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসূল তরফদার নেওয়াজ, মহিলা দলের সভানেত্রী সাহিদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আক্তার ইভা, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আক্তার লুনা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল কবির রাহুলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় বলেন, ১৭ বছর যাবত বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা মামলার শিকার হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনের মুখে অবশেষে মসনদ থেকে বিদায় হন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার। বর্তমান সরকারকে প্রত্যেকেরই সহায়তা করতে হবে। বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সকল গ্রুপিং দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে এক হয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
এছাড়াও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বাগেরহাট শহরে বিশাল র্যালি বের হয়। জেলার ৯টি উপজেলা এং তিনটি পৌরসভায় বিএনপি’র উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ধারাবাহিক অভিযানে ৮৯ হাজার ৯১৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জারুলিয়াছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ আশারতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৪৬ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জারুলিয়াছড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল এলাকায় টহল জোরদার করলে কয়েকজন সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে দেখতে পায়। এসময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা একটি ব্যাগ ফেলে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরে ফেলে যাওয়া ব্যাগটি তল্লাশি করে ৯টি কার্টনে রাখা মোট ৮৯ হাজার ৯১৬ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মধ্যে হলুদ রঙের ৮৯ হাজার ১৬ পিস এবং সবুজ রঙের ৯০০ পিস ছিল। জব্দ ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানান বিজিবি। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স বলেন, ‘দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসতে পারেন তবে তার ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, বরং তিনি জেলে যাবেন—এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তিনি বলেছেন, ইদানিং শুনছি যে ছাত্র-জনতার প্রতি ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা নাকি আবার দেশে ফেরার কথা বলছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে সোহেল তাজ উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনা আসবেন ভালো কথা, কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যে—একজন মানুষ কত নির্লজ্জ/বেহায়া হলে তার সকল কৃতকর্মকে (গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি, গণতন্ত্র কবর, নিজস্ব স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করা, দেশ এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা, দুর্নীতি/লুটপাট করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা) অস্বীকার করে এবং মানুষকে এবং দলকে বিভ্রান্ত করে এখন ফিরে আসার অবাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।’
আরো পড়ুন: জুলাই জাদুঘরের টিকিটের মূল্য কত? অনলাইনে কাটবেন যেভাবে
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘নিজের ভুল স্বীকার না করে, কোনো অনুশোচনা, আত্মসমালোচনা না করে বরং একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ দলটিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশের মানুষকে একটি অন্ধকারের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। ইতিহাস বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচারের আবার ফিরে আশা এবং ক্ষমতা ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’
অবশেষে তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে তিনজন সফলভাবে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। তারা হলেন: ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের গুইতালিও ভার্গাস, দ্বিতীয় ৭০৫ সালে বিজান্টিন সম্রাট জাস্টিনিয়ান (২য়) এবং (১৮৩৩- ৫৫) মেক্সিকোর এন্টোনিও লোপেজ ডি সান্টা আনা। তাদের সকলকে সামরিক অভ্যুথানে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভুত্থানের মাধ্যমে নয়।
সোহেল তাজ আরও উল্লেখ করেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জনগণ একটি গণঅভুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করে এবং তিনি বাধ্য হন পালিয়ে যেতে। ভুলে গেলে চলবে না যে তার সরাসরি নির্দেশে শিশুসহ শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়, ৬০০ মানুষ অন্ধ হয়ে যায় এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষ পঙ্গু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করেছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক স্মারক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
এতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ গণঅভ্যুত্থান জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক।
রাষ্ট্রদূত সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশল- রিকভারি, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এই কৌশলের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুসংহত করা।
একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে আন্দোলনের পটভূমি ও এর তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ