ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিন্ন কর নীতির দাবির উত্থাপন


পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিন্ন কর নীতির দাবির উত্থাপন

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালিসহ সব সম্প্রদায়ের জন্য একটি অভিন্ন কর নীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কর্তৃক।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৯৭ সালের চুক্তির মাধ্যমে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে বাকৃবি-নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের সমঝোতা

তিনি সম্প্রতি চারজন সংসদ সদস্য কর্তৃক অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠির তীব্র প্রতিবাদ জানান। ওই চিঠিতে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে উপজাতিদের জন্য আগের মতো পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিতে চাই। যারা ট্যাক্স দেয় না, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে না। তারা দেশের স্বাধীনতাও মানে না। ফলে তারা দেশ ও জাতির চরম শত্রু।’

পাহাড়ে সেনা শাসন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে কোনো সেনা শাসন চলে না। যদি চলত তাহলে জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য মন্ত্রী, হেডম্যান, সার্কেলচিফসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য পদে উপজাতিরা থাকত না, সেনাবাহিনীর লোক থাকতেন। আসলে সেনাবাহিনীকে নিয়ে একটা গুজব ছড়ানোর জন্যই এটা বলা হচ্ছে।’

তিনি শান্তিচুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘শেখ হাসিনা নাই্, অথচ তার আইনেই এখন পাহাড় চলছে। আমরা চুক্তিকে সম্মান করি। কিন্তু ওই চুক্তি বিশ্বাস করি না, যা বৈষম্যমূলক এবং একটিমাত্র পক্ষকে সুবিধা দেয়।’

আরও পড়ুন: কামরুজ্জামান জুয়েলের উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড় নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক বুদ্ধিজীবী জড়িত। যারা জীবনেও পাহাড়ে যায়নি। অথচ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ এইচ এম ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমরা পার্বত্যবাসী সরকারকে কর দিতে চাই। আমরা কোনো বৈষম্য চাই না। একই স্থানে দুই নীতি চলতে পারে না। কর সিস্টেম বাদ দিলে পাহাড়ের উপজাতি-বাঙালি সবারটাই বাদ দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড়ে কথিত শান্তিচুক্তির কালো আইনের বেড়াজালে পার্বত্য বাঙালিরা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত, সাংবিধানিক অধিকার বঞ্চিত। তার পরও পার্বত্য বাঙালিদের নিয়ে নানা অভিযোগ, নানা ষড়যন্ত্র করা হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল পয়েন্টগুলো হলো—

আরও পড়ুন: বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স

অর্থনৈতিক বৈষম্য: ১৯৮৪ সাল থেকে দীর্ঘ চার দশক ধরে করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে উপজাতিদের একটি বড় অংশ আজ অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তারা ব্যবসা, সরকারি চাকরি এবং ঠিকাদারি খাতের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ একই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিরা নিয়মিত কর দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সচল রাখছেন। এতে সরকার একদিকে রাজস্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে উপজাতিদের কর না থাকায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা কর হারাচ্ছে সরকার।

সংবিধান ও সম-অধিকারের লঙ্ঘন: নাগরিক পরিষদের মতে, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে অনন্তকাল করমুক্ত রাখা সংবিধানে বর্ণিত নাগরিকদের সম-অধিকার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাহাড়ের অনগ্রসরতার দোহাই দিয়ে এই সুবিধা চিরস্থায়ী করার প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।

ভুল তথ্যের প্রতিবাদ: সংসদ সদস্যরা পাহাড়ের অনগ্রসরতার যে চিত্র (যেমন: সুপেয় পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবা ও সড়কের অভাব) তুলে ধরেছেন, তাকে ‘একপেশে ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। নাগরিক পরিষদের মতে, পাহাড়ে অনগ্রসরতা থাকলে তা বাঙালি ও উপজাতি উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু চিঠিতে বাঙালিদের দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষোভ: খাগড়াছড়ির বাঙালি সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া উপজাতি এমপিদের সঙ্গে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। একে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থী এবং ‘পিঠে ছুরি মারা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনা সদস্য গুরুতর আহত

ভবিষ্যত শঙ্কা ও দাবি: নাগরিক পরিষদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, শুধু উপজাতিদের জন্য কর মওকুফ বহাল রাখলে পাহাড়ে বড় বড় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে, যা দেশের মূল অর্থনৈতিক রাজস্ব নীতিকে পঙ্গু করে দেবে। এটি পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার একটি নীলনকশা বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সরকারের প্রতি কোনো প্রকার রাজনৈতিক হুমকিতে মাথা নত না করার অনুরোধও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আয়কর সংশোধনী কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সব নাগরিকের জন্য একই নীতিতে কর আরোপ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংগঠনের লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক, শেখ আহমেদ রাজু, দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাত হোসেন কায়েশ ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ।

প্রসঙ্গত, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৯নং অনুচ্ছেদে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের জন্য আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি বহাল রাখা হয়েছে। এটি মূলত ‘আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪’-এর ৬ষ্ঠ তফশিলের ২৭নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত সুবিধারই ধারাবাহিকতা। তবে বর্তমানে আয়কর আইন ২০২৩-এর ৬ষ্ঠ তফসিলে একটি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো উপজাতিদের জন্য পূর্বে বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বাতিল করা বা পরিবর্তন আনা। যাতে উৎস অনুসারে, পাহাড়ে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে উপজাতি ও বাঙালি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন কর নীতি কার্যকর করা যায়।

আরও পড়ুন: ছবি দিয়ে রাজনৈতিক চরিত্রহননের চেষ্টা! দীর্ঘ ত্যাগের পরও অপপ্রচারের অভিযোগ বিএনপি নেতা রিপন বল্লভের

প্রস্তাবিত এই সংশোধনী বাতিলের জন্য গত ২১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের চার সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ চিঠি পাঠান। ফলে পাহাড়ে এই নিয়ে চরম বির্তক ও বৈষম্য বিরাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘হরর সিনেমার দৃশ্য মনে হচ্ছিল’, ভূমিকম্পের ভয়াবহতা বর্ণনায় বেঁচে ফেরা নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


‘হরর সিনেমার দৃশ্য মনে হচ্ছিল’, ভূমিকম্পের ভয়াবহতা বর্ণনায় বেঁচে ফেরা নারী

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে আতঙ্কিত স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন মারিয়া আলেহান্দ্রা, যিনি কারাকাসের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের ভবনের ভেতরে ছিলেন এবং কিছু মুহূর্তের মধ্যে তার চারপাশ যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যায়।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি কোনোমতে পোশাক পরতে পেরেছিলাম। এরই মধ্যে ভবনের সব দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। অনেক কষ্টে আমরা দরজা খুলতে সক্ষম হই। চারদিকে এত ধুলোর মেঘ ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “নিচে নেমে যা দেখেছি, তা যেন কোনো হরর সিনেমার দৃশ্য। ভবন থেকে বের হতে আমাদের ধ্বংসস্তূপ টপকে যেতে হয়েছে। আমি মাত্র একটি পরিবারকে সেখান থেকে বের হতে দেখেছি।”

মারিয়ার এই বর্ণনা ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়েছে, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোর্স: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত’ বিবি, নেতানিয়াহুকে ফোনকলে বলেছিলেন ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত’ বিবি, নেতানিয়াহুকে ফোনকলে বলেছিলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক সময় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে বলেছিলেন, ‘সব ইহুদি আপনার ওপর বিরক্ত।’ নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বইয়ে এটি দাবি করা হয়েছে।

আসলে, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজার যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার দাবি করেন এবং তাঁকে বলেন, ইহুদিরা আপনার উপর বিরক্ত।

‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অফ ডনাল্ড ট্রাম্প’ শীর্ষক বইটিতে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে, যখন তিনি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন।

বইতে বলা হয়েছে, সেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় ট্রাম্পও বলেছিলেন, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই কলে থাকা দুজন ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত,’ তিনি এই মন্তব্যটি ইহুদি মার্কিন কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের দিকে লক্ষ্য রেখে বলেন।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ ছিল, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে সংঘটিত হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধের অবসান এবং উপত্যকাটি পুনর্গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।

ওই মাসের শুরুতে তেল আবিব ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ইসরাইল কাতারে হামাসের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছিল। যদিও এই হামলায় হামাসের নেতারা নিহত হননি, তবে হামাসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একজন কাতারি রক্ষীও নিহত হন।

ফোনকলের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে তার ‘পিছিয়ে আসার’ অনুমতি নেই। তিনি নেতানিয়াহুকে জানান, ‘ইসরাইলের এযাবৎকালের সেরা বন্ধু আমি। সবাই আপনাকে ঘৃণা করে, আর আমি আপনার পাশে থেকেছি।’

বইটির একটি পৃথক অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় প্রশাসনের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে ‘প্রতারক’ বলেও অভিহিত করেছিলেন।

এই বইটির উদ্ধৃতিগুলো এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

অথবা অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক একটি ফোনকলে ট্রাম্প লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এটি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বিপন্নের হুমকি সৃষ্টি করেছিল।

ট্রাম্প এই ফোনকলের সময় আরও দাবি করেছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে জেল থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করেছেন — এটি ইসরাইলি নেতার দুর্নীতির বিচার চলাকালীন তার সমর্থনের প্রতি একটি ইঙ্গিত।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে এক ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে এক ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সদর রোডে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির জন্য প্রদর্শন ও সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার সদর রোড এলাকায় বাজার মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে বাবুল ফার্মেসি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ফার্মেসিটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক নকুল চন্দ্র দাসকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ফার্মেসিতে কোনো ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ বা প্রদর্শন না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. জামাল উদ্দিন মোল্লা এবং মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি টিম।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান ভবিষতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে যেসব ভাতা কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে যেসব ভাতা কমতে পারে

পে-স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটির সভায় কয়েকটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে আলোচনা হয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতার বিষয়েও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে যে, প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে, কিন্তু বিভিন্ন খাতের ভাতায় বড় ধরনের কাটছাঁট হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম পে-স্কেলের রূপরেখা, আর্থিক প্রভাব এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিকে ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এর জন্য নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

তবে বেতন বেড়ে যাওয়ায় সরকারি খরচ কমাতে চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হতে পারে।

এর অংশ হিসেবে বাড়িভাড়া ভাতা কমে আসতে পারে। বর্তমানে অঞ্চলভেদে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেয়া হয়। নতুন কাঠামোয় মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার কাছাকাছি বেড়ে গেলে যদি এই শতাংশ একই রাখা হয়, তাহলে সরকারি ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে যাবে। তাই বাড়িভাড়া ভাতার শতাংশ কমিয়ে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমতে পারে চিকিৎসা ভাতা। বর্তমানে সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা ফিক্সড চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন স্কেলে এই ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ কিংবা একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষা সহায়ক ভাতাও কমতে পারে। বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য সরকারি কর্মচারীরা যে শিক্ষা সহায়ক ভাতা পান, সেটি পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে। এর একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হতে পারে।

এছাড়া যাতায়াত ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা সমন্বয়ের পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক ভাতা বিলোপ করারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%