ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুসলিমদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান পাওয়া তায়েফের ঐতিহাসিক মসজিদ


মুসলিমদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান পাওয়া তায়েফের ঐতিহাসিক মসজিদ

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেগুলো শুধু স্থাপত্যের কারণে নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর রহমতের অবিস্মরণীয় স্মৃতির জন্য যুগে যুগে মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। সৌদি আরবের তাইফ শহরে অবস্থিত মসজিদ আদ্দাস তেমন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

প্রচলিত বর্ণনা অনুসারে, এখানেই নবী মুহাম্মদ (সা.) তাইফবাসীর নির্মম নির্যাতন ও প্রত্যাখ্যানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এখানে ঘটে যায় একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা—যা একজন খ্রিস্টান ক্রীতদাসের হৃদয়ে ইসলামের আলো প্রজ্বলিত করে।

নবুওয়তের দশম বছরে, মহানবী (সা.) প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তাইফে যান। সেখানে তিনি প্রত্যাশিত সাড়া পাননি, বরং শহরের প্রভাবশালীরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে।

আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

উসকানি দিয়ে শিশু ও দুর্বৃত্তদের তাঁকে পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয়। তারা পাথর নিক্ষেপ করতে করতে তাঁকে শহরের বাইরে বের করে দেয়। ফলে তাঁর পবিত্র শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং জুতা পর্যন্ত রক্তে ভিজে যায়।

মহানবী (সা.) রক্তাক্ত ও ক্লান্ত শরীর নিয়ে শহরের অদূরে একটি আঙুরবাগানে আশ্রয় নেন।

দূর থেকে তাঁর অবস্থা দেখে বাগানের মালিকরা তাদের খ্রিস্টান ক্রীতদাস আদ্দাসকে একটি থোকা আঙুর নিয়ে তাঁর কাছে পাঠান। আদ্দাস যখন আঙুরের পাত্র নবীজির সামনে রাখে, তখন তিনি খাওয়ার আগে বলেন, 'বিসমিল্লাহ্' (আল্লাহর নামে শুরু করছি)। এটি শুনে আদ্দাস থমকে যান। তায়েফ বা মক্কার পৌত্তলিকরা এভাবে কথা বলে না। তিনি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, 'এই উপত্যকার মানুষ তো এমন কথা বলে না। আপনি কে?' মহানবী (সা.) পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'তোমার আদি বাড়ি কোথায়, তোমার ধর্ম কী?' আদ্দাস উত্তর দেন, 'আমি ইরাকের নিনেভা শহরের এক খ্রিষ্টান।' নিনেভার নাম শুনে নবীজির রক্তাক্ত মুখে একটি চিলতে হাসি ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, 'তুমি তবে সেই পুণ্যবান নবী ইউনুস ইবনে মাত্তার শহরের লোক!' আদ্দাস আরও অবাক, কারণ এই মরুভূমির মানুষ ইউনুসের নাম জানার কথা নয়। মহানবী (সা.) বলেন, 'ইউনুস ছিলেন আমার ভাই। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী, আমিও আল্লাহর নবী।'

এই একটি বাক্য জাগিয়ে তুলেছিল আদ্দাসের ভিতরের ঘুমিয়ে থাকা বিশ্বাস। সে বুঝে যায় যে, সামনে বসা মানুষটি মক্কার সাধারণ নেতা নন, বরং তিনি সেই শেষ নবী, যাঁর কথা তার নিজ কিতাবেও লেখা আছে। সে নবীজির হাতে, পায়ে ও কপালে চুমু খেতে লাগলে দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখে উতবা-শাইবা আফসোস করে বলেন, 'সর্বনাশ, লোকটা আমাদের দাসকেও নষ্ট করে দিয়েছে!' ফিরে আসার পর তারা আদ্দাসকে জিজ্ঞেস করে কেন সে ওভাবে চুমু খাচ্ছিল। আদ্দাস দৃঢ়ভাবে জবাব দেন, 'এই পৃথিবীতে এই মানুষটির চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই। তিনি আমাকে এমন এক সত্য বলেছেন, যা একজন নবী ছাড়া কেউ জানতে পারে না।'

আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার

এই তাৎক্ষণিক ইসলাম গ্রহণ ছিল তায়েফের সেই অন্ধকার দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক টুকরো সান্ত্বনা। ওই আঙুর বাগানের জায়গাতেই পরে গড়ে ওঠে একটি মসজিদ—মসজিদে আদ্দাস। বাহ্যিক ব্যর্থতার আড়ালে আসলে সফলতা লুকিয়ে রয়েছে। পুরো তায়েফ শহর নবীজিকে তাড়িয়ে দেয়, অথচ আল্লাহ ঠিক তখনই একজন সাধারণ দাসের অন্তর খুলে দেন। তাই আজও তায়েফে যারা বেড়াতে যান, তারা মসজিদ আদ্দাসের শান্ত পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হন এবং অস্থির হৃদয়ে সান্ত্বনা লাভ করেন। তারা বুঝতে পারেন যে, যখন দুনিয়ার সব মানুষ বিপক্ষে চলে যায় এবং চারপাশ তাড়িয়ে দেয়, তখনও আল্লাহর রহমতের একটা আঙুরের থোকা এবং একজন বিশ্বস্ত আদ্দাস কোথাও না কোথাও অপেক্ষা করে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব মাদ্রাসায় ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


সব মাদ্রাসায় ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের নির্দেশ

 বাংলাদেশের সব স্তরের মাদ্রাসায় আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’-এর কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে।

আজ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে বোর্ডের আওতাধীন সমস্ত স্তরের মাদ্রাসায় আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে তদারকি এবং বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর তিন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচলে বিঘ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


রাজধানীর তিন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচলে বিঘ্ন

রাজধানী ঢাকা, উত্তরা, সায়েন্সল্যাব মোড় এবং মিরপুর-১০ এই তিন স্থানে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে। এটি পূর্ব ঘোষিত 'লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়' কর্মসূচির অংশ। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা এই সড়ক অবরোধ করেন।

পুলিশ সড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এই কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ গণমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছে এবং আমরা তাদের সড়ক ছাড়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা সতর্ক রয়েছি।

এছাড়া সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা বাদে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের অনেক কেন্দ্রে কোমরপানি পেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে, মন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের 'ফার্মের মুরগি' সম্বোধন করেছেন। এদিকে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক উঠে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এরপর শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন, যা পরে তিন দফা দাবিতে পরিণত হয়। এই তিন দাবির মধ্যে রয়েছে, উপযোগী পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে; পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের জন্য সম্পূর্ণ নম্বর দিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেন এবং সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপরেও তবে শিক্ষার্থীরা শান্ত হননি এবং তারা এখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন। এই দাবিতে শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


পটুয়াখালীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ পটুয়াখালীতে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা।

বুধবার সকালের প্রথমে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এই শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় ঝাউতলা সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠের মেলা প্রাঙ্গণে।

এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন কর্মকর্তা নুরুন্নাহারের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককেও তাঁর নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমানো, অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

জেলা প্রশাসন ও উপকূলীয় বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলা চলবে ১৫ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২৫টি স্টলে ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছের বিভিন্ন প্রজাতির চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সারা শহরজুড়ে দুর্গন্ধ, নাক চেপে চলতে হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


‘সারা শহরজুড়ে দুর্গন্ধ, নাক চেপে চলতে হচ্ছে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা এলাকায় শহরের সড়কের পাশে রয়েছে ময়লার স্তূপ। সম্প্রতি তোলা হয়েছে ছবি।

হ্যান্ডেলবার থেকে হাত সরিয়ে হঠাৎ নাক চেপে ধরলেন রিকশাচালক হারুণ মিয়া। কথার মাঝে হঠাৎ তিনি চুপ হয়ে গেলেন।

প্রায় একশ গজ যাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আর কইয়েন না। সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। গন্ধ মানে পচা গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।

খালি আমি না, হগলেঅই দেখবেন নাহে ধইরা যায়। কেউ কেউ দেখবেন মাস্ক লাগায়া রাখছে।’

হারুণ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের অবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন। মেড্ডায় (সিও অফিস) অবস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এই কথাবার্তা হচ্ছিল।

মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস তার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই চোখে ময়লা পড়ে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লার জায়গাটুকু আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে পার হই। কখনো কখনো আগে মনে না থাকলে দুর্গন্ধ নাকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা হোক না কেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ দুর্দান্তভাবে চোখে পড়বে।

এ ধরনের ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে পৌর এলাকায় চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে কাউতলী এলাকায় ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে। রেলপথের স্টেশন থেকে শহরে আসার পথে ডানদিকে একাধিক ময়লার স্তূপ দেখতে পাওয়া যায়। আবার নৌপথে গোকর্ণঘাটে নামলে রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও এতে কোনো ফল মেলেনি।

বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে থাকা ময়লা-আবর্জনা মানুষকে আরো বেশি অস্বস্তিতে ফেলছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একাধিক ময়লার স্তূপ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা জানিয়ে দিচ্ছে।

শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের মঠের গোড়ার সামনেই একটি ডাস্টবিন রয়েছে। এছাড়া হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া, শিমরাইলকান্দি সহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত অর্ধশত ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে।

জানতে পারা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার প্রক্রিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় অনেকটাই সীমিত ও অনিয়মিত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে দিয়ে রাখা ডাস্টবিনে ময়লা ফেলেন। আবার কিছু জায়গায় কেউ ময়লা ফেললে সেখানে অন্যরাও ময়লা ফেলেন। এর ফলে শহরের শতাধিক স্থান ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলা যায় না। শহরজুড়ে এখন ময়লার দুর্গন্ধ রয়েছে। বলা যায় যে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে শামীম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নানা অজুহাত দেখান। কখনো বলেন লেবার সংকট, কখনো বলেন গাড়ি কম। সব মিলিয়ে শহরের মানুষের জন্য দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লা ড্রেনে ঢুকে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।’

সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেন শামীম আহমেদ।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘কিছু এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের বিষয় আমি নিজেই তদারকি করি। মূলত আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%