১০:২৮ এম
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়া একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেছেন একজন মা। তবে, গর্ভের বয়স ছিল সাড়ে ছয় মাস বা তার একটু বেশি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে প্রসব করায় পাঁচ জনের মধ্যে চারজন মারা গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। তাদের মধ্যে তিনজন ছেলে এবং দুটি মেয়ে। বর্তমানে একটি ছেলে সন্তান জীবিত আছে।
শিশুর বাবার নাম মাহামুদুল হাসান ডলার (৩০)। তিনি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল বেপারীর ছেলে এবং সিঙ্গাপুরে প্রবাসী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন
শিশুগুলোর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেড় বছর আগে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের (২২) সঙ্গে বিয়ে হয় মাহামুদুল হাসান ডলারের। তাদের বিয়ের বেশ কয়েক মাস পর চাঁদনী বেগম সন্তানসম্ভবা হলে এই দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছিল। এরপর তারা জানতে পারেন যে চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে একটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালটির লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই নারীকে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম বাচ্চা প্রসব করেন। পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি ৪টি বাচ্চাও প্রসব করেন।
তিনি বলেন, বাচ্চাগুলো সাত মাসেরও কম সময়ে অস্ত্রোপচার ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় বাচ্চাগুলোর ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ছিল।
আরও পড়ুন: বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন
নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী জানান, হাসপাতাল আসার পর পাঁচটি বাচ্চাই জীবিত ছিল। তবে ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের নবজাতক এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট শ্রেণিতে পড়ে। এই ধরনের শিশু সাধারণত অনেক আগে (প্রায় ২৪–২৬ সপ্তাহে) জন্মায় এবং তাদের নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা (এনআইসিইউ) প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেডিকেলে পর্যাপ্ত নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র না থাকায় তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবার তা গ্রহণ করেনি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস জানিয়েছেন, পাঁচ শিশুর চারজন বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে মারা যায়। সর্বশেষ একজন ছেলে মারা যায় ভোরের দিকে। বর্তমানে একটি ছেলে সন্তান জীবিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন