০৮:৪৪ পি.এম
কড়া প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক ঋষিঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় আয়োজন গঙ্গাস্নান ও বারুণী মেলা। বুধবার (২৪ জুন) করতোয়া নদীর তীরে সিংড়া ইউনিয়নের ঋষিঘাট এলাকায় এ উপলক্ষে হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
ভোর থেকে বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, পীরগঞ্জ, পলাশবাড়ীসহ দিনাজপুর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঋষিঘাটে জড়ো হন। গঙ্গাস্নান ৪টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। পুণ্যার্থীরা করতোয়া নদীর জলে স্নান করে আত্মার শুদ্ধি ও পাপমোচনের জন্য প্রার্থনা করেন।
স্নান শেষে ভক্তরা আম, কাঁঠাল, কলা, মুড়ি, দইসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী একত্রে মিশিয়ে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। একদিকে বিভিন্ন স্থানের সাধু-সন্ন্যাসীদের সান্নিধ্যে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনব্যাপী গঙ্গা দেবী, শিবসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা পরিচালিত হয়। মানত হিসেবে ভক্তরা অর্থ, মিষ্টান্ন ও অন্যান্য উপঢৌকন নিবেদন করেন।
আরও পড়ুন: বরিশালের চরকাউয়ায় ২০ বছর ধরে বাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, জিম্মি সাধারণ যাত্রী
ধর্মীয় আয়োজনটি ছাড়াও মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে হস্তশিল্প, খেলনা, মিষ্টি ও নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে। ফলে এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয় বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলাতেও পরিণত হয়।
মেলায় আগত পুণ্যার্থী তিতাস চন্দ্র মহন্ত জানান, ঋষিঘাট সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এখানে বিশ্বাস করা হয়, প্রাচীনকালে বহু ঋষি-মুনি এখানে সাধনা ও স্নান করতেন। তাই এখানে স্নান করলে আত্মার শুদ্ধি অর্জিত হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। পুণ্যার্থীদের জন্য চিকিৎসাসেবা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়।
মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল আল মামুন কাওসার শেখ, ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন মোহন্ত ভুট্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ তিন জেলাকে সিলেট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব সিলেটবাসীর
মেলা কমিটির সভাপতি অরুণ কুমার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার সরকার বিধান জানান, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে গঙ্গাস্নান ও বারুণী মেলার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন