ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শোকে স্তব্ধ নরওয়ে, অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা


শোকে স্তব্ধ নরওয়ে, অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা

রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর, যিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সিংহাসনে ছিলেন, শনিবার রাজা অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নরওয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

শুক্রবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে ৮৯ বছর বয়সে রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর, স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশটিতে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়।

এটি জানানো হয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

শুক্রবার রাজধানী অসলোতে হাজার হাজার মানুষ রাজপরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেন।

৫৩ বছর বয়সী হাকন একটি রাজতন্ত্রের দায়িত্ব নিচ্ছেন, যা আধুনিক ও সাধারণ জীবনযাপনের জন্য প্রশংসিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কেলেঙ্কারিতে চাপে পড়েছে।

নতুন রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর এক ভাষণে বলেন, ‘একটি যুগের অবসান হয়েছে। নতুন একটি যুগ শুরু হয়েছে। রাজা মারা গেছেন। রাজা দীর্ঘজীবী হোন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা রাজা হ্যারাল্ডকে তার জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা এবং আমাদের প্রতি তার অটুট আস্থার জন্য স্মরণ করব।’

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

শুক্রবার সন্ধ্যায় হ্যারাল্ডের মরদেহের কফিন অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে রাজপ্রাসাদে নেওয়ার সময় সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে হাকন তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রাকে—যিনি এখন নতুন ক্রাউন প্রিন্সেস—সঙ্গে নিয়ে রাজপ্রাসাদে যান। সেখানে তিনি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার মৃত্যুর খবর জানান।

এক বিবৃতিতে হাকন এই কঠিন সময়ে রাজপরিবারের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি জানানোর জন্য ‘সরকার ও নরওয়ের জনগণকে’ ধন্যবাদ জানান।

নরওয়ের পার্লামেন্ট জানিয়েছে, নতুন রাজা মঙ্গলবার পার্লামেন্টের প্রধান কক্ষে আনুগত্যের শপথ নেবেন।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

হ্যারাল্ডের শেষকৃত্য না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় শোক চলবে। তবে শেষকৃত্যের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

হাকনের রাজ্যাভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ ১৯০৮ সালে এই প্রথা বাতিল করা হয়।

তবে তার বাবা ও দাদার মতো হাকনও ট্রনহেইম ক্যাথেড্রালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার রাজত্বের আনুষ্ঠানিক আশীর্বাদ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ১৮১৪ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত এই ক্যাথেড্রালেই নরওয়ের রাজাদের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হতো।

‘দাদার মতো’

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

ইউরোপের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হ্যারাল্ড ১৭ আগস্ট থেকে অসলোতে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি রক্তের লোহিত কণিকা অস্বাভাবিক দ্রুত ধ্বংস হওয়ার কারণে সৃষ্ট হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়াতে ভুগছিলেন। এই রোগে সাধারণত দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

স্টোর বলেন, ১৯৯১ সালে সিংহাসনে বসা হ্যারাল্ড ছিলেন ‘তার সময়ের উপযোগী এবং সময়ের দাবি পূরণ করা একজন রাজা।’

তিনি আরও বলেন, কয়েক দশকের ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হ্যারাল্ড নরওয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সময়ে দেশটি ‘আরও ধনী হয়েছে, জনসংখ্যা বেড়েছে এবং সমাজ আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।’

শুক্রবার দিনভর হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান অসলো রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হন। সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টি শুরু হলেও মানুষের উপস্থিতি কমেনি।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তারা সেখানে ফুল, কার্ড এবং লাল-সাদা-নীল জাতীয় পতাকা রেখে শ্রদ্ধা জানান। অনেককে পরস্পরকে আলিঙ্গন করতে এবং একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।

৪৯ বছর বয়সী লাইন স্টুসল্যান্ড ফুলের তোড়া রাখার আগে এএফপিকে বলেন, ‘তিনি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ঐক্যবদ্ধকারী রাজা, জনগণের রাজা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যেন পুরো জাতির দাদার মতো ছিলেন।’

হ্যারাল্ডকে উদার ও সহনশীল নরওয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হতো।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট

শনিবার আইসল্যান্ডের নাগরিকরা গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সদস্যপদ পাওয়ার আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা নির্ধারণ করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলের ওপর ব্রাসেলস গভীরভাবে নজর রাখবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা স্থগিত ছিল।

এবারের গণভোটের ফলাফলও অত্যন্ত কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে ইইউতে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান প্রায় সমান দেখা যাচ্ছে।

ইইউপন্থি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর ক্যাটরিন গুনারসদোত্তির এএফপিকে জানিয়েছেন, “লড়াইটা বেশ কঠিন, তবে আমি সবসময় আশাবাদী। ফল না আসা পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।”

স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। এক্সিট পোলের অভাব এবং ভোটের ব্যবধান খুব কম হওয়ায় শনিবার গভীর রাতের আগে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার ভোটারকে একটি প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দিতে বলা হয়েছে:

‘আইসল্যান্ডের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদস্যপদ পাওয়ার আলোচনা পুনরায় শুরু করা উচিত?’

যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, তাহলে ব্রাসেলসের সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে একটি চুক্তি আলোচনা করা হবে। এরপর প্রকৃতপক্ষে ইইউতে যোগদান নিয়ে আবারও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

আইসল্যান্ডের অর্থনীতির একটি প্রধান ভিত্তি হলো মৎস্যসম্পদ। রেইকিয়াভিক এই খাতের ওপর নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। ফলে ইইউর সঙ্গে আলোচনায় মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তবে এবারের ব্রাসেলস এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে: কাদের গনি চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে: কাদের গনি চৌধুরী

সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহসভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর।

বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা করতে না পারলে দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সাংবাদিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে।

 

তিনি গণমাধ্যমের সুরক্ষার পাশাপাশি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে চ্যালেঞ্জ শেষ হয়নি। দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

 

রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তা—সব মিলিয়ে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবও বড় সমস্যা। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কখনো কখনো এমন চাপ তৈরি হয়, যা সাংবাদিকদের নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারে।

বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নিরাপত্তাই নয়, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড মেনে বেতন দেয় না।

 

অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বেতন দেন মালিকের ড্রাইভারের বেতনের চেয়েও কম। এসব বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে বলেছি ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর করতে। এটা করা গেলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব হবে।”

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা নিছক চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূর করায় সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গণমাধ্যমের যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমকে আলাদা করে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত মামলা, নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

সরকারের উদ্দেশে এ সাংবাদিক নেতা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা সরকারকে সত্য কথা বলবে। মিডিয়া যা বলছে তা যাচাইয়েরও সরকারের সুযোগ আছে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতির বিবেক যদি সাংবাদিক হন, আর সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি হয় কলম, তাহলে সেই কলম থামিয়ে দেওয়া মানে শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা নয়—এটি সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর আঘাত মানে বিবেকের ওপর আঘাত। একজন সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সত্য প্রকাশের কারণে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে এর প্রভাব শুধু তার ওপরই পড়ে না। এতে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়।

এ সাংবাদিক নেতা বলেন, সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম কোনো ধ্বংসের অস্ত্র নয়। এটি মানুষের কথা বলার, সত্য তুলে ধরার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যম।

তিনি বলেন, সাংবাদিকের কলম মানুষের কষ্টের কথা বলে। এই কলম অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে। এই কলম মানবিক বাংলাদেশের কথা বলে। এই কলম থামানো যাবে না। এতে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকের কলমকে ভয় না পেয়ে তাকে লিখতে দেওয়া, ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করতে দেওয়া এবং ক্ষমতাবানদের প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণের।

তিনি আরো বলেন, ভুলে গেলে চলবে না একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার ন্যায়বোধ, মানবিকতা, জবাবদিহি ও সত্য বলার সাহসের মধ্যে নিহিত। সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে কাজ করতে না পারেন, যদি সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, যদি প্রশ্ন করার কারণে হুমকি পান—তাহলে সমাজে ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি হয়।

বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, যখন জাতির বিবেক নীরব হয়ে যায়, তখন অন্যায়কে অন্যায় বলার মানুষও কমে যায়। তাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিকদের স্বার্থ নয়; এটি সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রক্ষারও অংশ। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সমাধান হতে হবে আইন ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। হামলা, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, জানানো হলো করণীয়-বর্জনীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, জানানো হলো করণীয়-বর্জনীয়

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন। শনিবার (২৯ আগস্ট) হাইকমিশন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানায়।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, করণীয় ও বর্জনীয় বিভিন্ন বিষয় অনুসরণের জন্য বিশেষ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

হাইকমিশনের পোস্টে নির্দেশনা অনুযায়ী করণীয় বিষয়গুলো হলো- কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিধিনিষেধ এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলা। পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা এবং চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা।

 

এছাড়া, অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রতারণা ও ফিশিং থেকে সাবধান থাকা; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

করণীয় বিষয়

হাইকমিশনের পোস্টে উল্লেখিত বর্জনীয় বিষয়গুলো হলো- সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য প্রচার না করা এবং গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

 

কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা এবং যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান না দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

একইসঙ্গে, কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করা; নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করা; ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া; ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়া এবং কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অন্যতম বড় সমস্যা হলো প্রতারণামূলক ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল নিয়োগপ্রক্রিয়া। অনেকের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্রের জটিলতার অভিযোগও উঠেছে।

 

বৈধ কাগজপত্র না থাকা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় নিয়মিত অভিযান ও আটকের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডার্বির আগে সান্তোসের অনুশীলনে নেই নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


ডার্বির আগে সান্তোসের অনুশীলনে নেই নেইমার

করিন্থিয়ান্সের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডার্বির আগে সান্তোসের অনুশীলনে নেইমার জুনিয়রকে দেখা যায়নি। ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার কারণে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রবিবার নিও কুইমিকা এরেনায় করিন্থিয়ান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সান্তোস। যদিও নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে আশাবাদী।

সান্তোস একটি বিবৃতিতে জানায়, নেইমারের ফ্লুর মতো উপসর্গের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী শুক্রবারের অনুশীলন থেকে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দলের অনুশীলনে ফিরে আসার কথা রয়েছে নেইমারের। এরপরই করিন্থিয়ান্সের বিরুদ্ধে ডার্বির স্কোয়াডে তাকে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চলতি মৌসুমে সান্তোসের আক্রমণভাগে নেইমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি এখন পর্যন্ত ২৪ ম্যাচে ৯টি গোল করেছেন এবং ৮টি অ্যাসিস্ট প্রদান করেছেন।

নেইমারকে ছাড়া সাম্প্রতিক ম্যাচে সান্তোস কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। কোপা দো ব্রাসিলের ম্যাচে পালমেইরাসের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল তারা।

কাম্পেওনাতো ব্রাসিলেইরোতে রেলিগেশন অঞ্চল থেকে নিরাপদ থাকতে করিন্থিয়ান্সের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের প্রয়োজন সান্তোসের। তাই এই ডার্বিতে নেইমারের উপস্থিতি দলের জন্য একটি বড় স্বস্তি হতে পারে।

করিন্থিয়ান্স ম্যাচের পর সান্তোস কোপা দো ব্রাসিলের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে পালমেইরাসের মুখোমুখি হবে। প্রথম লেগের ঘাটতি পূরণ করে পরের পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নেইমারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%