১১:১২ পি.এম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা একটি মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোররা পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তারা মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। এতে তারা দেশপ্রেমিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
আজ রোববার বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’র কার্যালয় পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের মানিকগঞ্জে ১২ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
মন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করলে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
আসাদুল হাবিব দুলু আশা প্রকাশ করে বলেন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার আরও শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, আবৃত্তিকার এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে, যারা দেশীয় সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। সরকার তথা সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আরও সমৃদ্ধ হবে, বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল জানান, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে।
আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
প্রতিষ্ঠাতা আসাদুল হাবিব দুলুর এ পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে। ভবিষ্যতে এখানে আরও বেশি প্রতিভাবান শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখবেন, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল আমিন সরকার, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী লালমনিরহাটের বড়বাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন