০৮:৫৪ পি.এম
চরফ্যাশনের নিম্নাঞ্চল ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে, ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।
টানা এক সপ্তাহের বর্ষণে ভোলার নদী-নালা ও খাল-বিলে পানি বেড়েছে। এ কারণে চরফ্যাশন উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন।
এ অঞ্চলের মানুষের ঘর-বাড়ি, কয়েক’শ মাছের ঘের, পুকুর, খাল ও বিল পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। ফলে মৎস্যচাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পানির প্রবাহ বেড়ে ঘর-বাড়ি, পুকুর-নালা ও মাছের ঘেরসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর, চরমাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, চরমানিকা ও নীলকমল ইউনিয়নের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট, চরমানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া, নজরুল নগর বাবুরহাট চর নলুয়াসহ ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চর নিজামে ভারী বর্ষণ ও অতি জোয়ারের কারণে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে খাল বিল, পুকুর ও জলাশয়ে মাছের ঘের এবং কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়েছে।
এছাড়া, বেড়িবাঁধের একাধিক স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে হাঁস মুরগির খামারসহ গবাদিপশুর খামারও পানিতে ডুবে গেছে।
মৎস্যচাষিরা জানান, উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর বেড়িবাঁধে কিছু স্লুইসগেট রয়েছে, সেগুলোর কপাট সবসময় খোলা থাকে না। লিজ নেওয়া ব্যক্তিরা মাছ ধরার সুবিধার্থে অধিকাংশ সময় গেটগুলো বন্ধ রাখেন। বিশেষ করে জোয়ারের সময় খোলা থাকে এবং অন্য সময় বন্ধ থাকে। ফলে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে না পেয়ে জনবসতী এলাকায় পানির পরিমাণ বেড়ে প্লাবিত হয়। সেখানকার আটকপাট, পাঁচকপাট ও এক কপাট এলাকা এবং চর মাদ্রাজের নতুন বাজার স্লুইসগেট ও পশ্চিমাঞ্চলের স্লুইসগেট অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বাসসকে বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১২১০ হেক্টর শাকসবজি এবং ১৭০ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ২ হাজার ৩৬০ জন মৎস্যচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়া, ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে, যার আয়তন ২১৮ হেক্টর।
এর মধ্যে ২৭২ মেট্টিক টন মাছ এবং মাছের পোনা ভেসে গেছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মৎস্যচাষি মনিরুল ইসলাম পন্ডিত, আবুল খায়ের, জসিম মিয়া ও মৎস্য উদ্যোক্তা ছালেহা খাতুন জানান, এলাকায় কোটি টাকার মাছের ঘেরসহ অনেকের বাড়ি-ঘর, পুকুর, নালা পানিতে ডুবে গেছে। খামারে ছাড়া মাছগুলো পানির সাথে চলে গেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বাসসকে জানান, অবিরাম বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় এবং ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।
সেখানে জলাবদ্ধতা নিরসন, সংকট মোকাবিলা এবং সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
চরফ্যাশনের (ভোলা-৪ আসন) সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বাসসকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। অসহায় পরিবারগুলোকে যথাযথ সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন