০৫:০৫ পি.এম
ইউক্রেনকে গোপনে অস্ত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের একটি যৌথ পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য অর্জন করেছে রাশিয়া। ছবিতে দেখা গেছে: সংগৃহীত। ইউক্রেনকে গোপনে অস্ত্র সরবরাহের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে একটি যৌথ পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য রাশিয়ার হাতে এসেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যে রাশিয়ার গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তুরস্কে পাঠিয়ে সেখান থেকে ইউক্রেনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে রাশিয়া ইতোমধ্যে পরিকল্পনাকারী দুই দেশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্ক যৌক্তিক কোনো ব্যাখ্যা না দেয় তাহলে দুই দেশের সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। শনিবারের বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গোয়েন্দাসূত্রে আমরা খবর পেয়েছি যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করতে উদ্যোগী হয়েছে। এসব অস্ত্র এবং গোলাবারুদ প্রথমে তুরস্কের বন্দরে প্রবেশ করবে এবং তারপর ওই বন্দরের মাধ্যমে ইউক্রেনে সেগুলি পাঠানো হবে।” রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়ে দেন যে রাশিয়া এই গোপন অস্ত্র পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের কাছে ব্যাখ্যা চাইছে। যদি সেখানে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না আসে, তাহলে ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হবে। উল্লেখ্য, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের অভাবে ভুগছে। সম্প্রতি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে গিয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আর কোনো অস্ত্র সহায়তা দেবে না। এই যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়া তুরস্কও বিভিন্ন সময়ে বলেছে যে আঙ্কারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না। যদিও রাশিয়ার গোয়েন্দাদের কাছে আসা সাম্প্রতিক তথ্য বলছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের মধ্যে যুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সামারা প্রদেশে ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকদিন ধরে হামলা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সামারা প্রদেশে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রোসকসমসের দপ্তর অবস্থিত। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, “রোসকসমসের স্থাপনার লক্ষ্য করে সফল হামলা পরিচালনা করা হয়েছে এবং এ হামলায় মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লেমিঙ্গো ব্যবহার করা হয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন