০৩:৩৭ পি.এম
ভোলার চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাটে ইলিশের পচা গন্ধ বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শতাধিক ট্রলার মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ঘাটে ফিরে এসেছে। সাধারণ ক্রেতারা শত শত টন পচা ইলিশের স্তূপ দেখে বিস্মিত হচ্ছেন।
এদিকে, মাছের আড়তদার ও পাইকারদের মধ্যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন গভীর সাগরে অবস্থান করে একাধিক ট্রলারের জেলেরা ইলিশ শিকার করেছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নদী ও সমুদ্রে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা গভীর সাগরে থেকে মাছ শিকার করেছেন। সাগর থেকে ফেরা একাধিক জেলে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বরফজাত করে রাখার কারণে এসব ইলিশের বড় একটি অংশ পচে গেছে।
আরও পড়ুন: নান্দাইলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে ট্রাকে আগুন, শহর বিদ্যুৎহীন
শনিবার সরেজমিনে সামরাজ মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একে একে ঘাটে নোঙর করছে ইলিশবোঝাই ট্রলার। এসব ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি ইলিশ নামিয়ে আড়তে নেওয়া হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ বেচাকেনা শুরু হয়। কিছু মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য গাড়িতে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে পচা মাছের দুর্গন্ধ পুরো ঘাটে ছড়িয়ে পড়েছে।
ট্রলারভর্তি ইলিশের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে ৮ অক্টোবরের আগে বরফ, তেল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তাঁরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যান। এরপর নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সাগরে অবস্থান করে মাছ শিকার করেন। দীর্ঘদিন বরফের মধ্যে সংরক্ষণ করায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাছ পচে গেছে।
সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি নুরমোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে সামরাজ মৎস্যঘাটের বেশ কয়েকজন আড়তদার বলেন, এসব মাছ সাগরের। ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করেছে।
সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি আজিজ জানান, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে কিছু জেলে সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ বিষয়ে আমাকে একজন অবগত করেছে।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার তিন দিন পর সাগরগামী ট্রলারগুলো ইলিশবোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরে আসা কতটা সম্ভব, এমন প্রশ্নে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু জেলে গোপনে সমুদ্রে যেতে পারে। আর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সমুদ্রে নজরদারি করে কোস্ট গার্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন