০৫:৩২ পি.এম
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে ২০ লাখ রুপির জীবনবিমা পাওয়ার উদ্দ্যেশ্যে এক নারী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি তার স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যা করেছেন। পুলিশের মতে, তারা আলাদা করে হত্যার পর এটি সাপের কামড়ে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন দামিনী পাওয়ার (৩০), তার প্রেমিক তুষার কুমার (৩৪), এবং দুই সাপুড়ে সোনু কুমার ও উদয় কুমার। এই ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার মিরাটের হস্তিনাপুরে।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, দামিনী ও তুষার একত্রে দামিনীর স্বামী অতুল পাওয়ারকে (৩২) হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। উল্লেখ্য, অতুল ও দামিনী ২০১৯ সালে বিবাহিত হয়েছেন এবং তাদের একটি ছয় বছরের সন্তান রয়েছে। তিন মাস আগে, তারা একটি নতুন প্লে-স্কুল চালু করেন, যেখানে তুষারকে ভ্যানচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর দুটি মানুষ মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় বলেই তদন্তে প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
পুলিশের দাবি, অতুলকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি তারা বেশ কিছুদিন ধরে সাজাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে অতুলকে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাওয়ানো হয় এবং যখন তিনি ঘুমিয়ে পড়েন, তখন তার বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের মতে, সাপের কামড়েই অতুলের মৃত্যু হয়েছিল।
শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে দামিনী ঘরে ফিরে অতুলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং পরে বিছানায় একটি সাপ দেখে তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন। অতুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাড়ির ভেতর সাপটি পরে স্থানীয় লোকেরা মেরে ফেলেন।
অপরদিকে, অতুলের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়েছিল। তাদের প্রশ্ন ছিল, ঘরের ভেতর বিছানায় সাপ কীভাবে এল? পরে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তে পুলিশ এটি জানতে পারে যে, দামিনী ও ব্যান্ডরের সাথে তুষারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তুষারের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একটি বাক্সে রাখা সাপের ছবিও পাওয়া যায়। পরে দামিনী ও তুষার জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে হত্যার পরিকল্পনা করার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
মিরাটের এসএসপি অবিনাশ পাণ্ডে বলেন, দামিনীর উদ্দ্যেশ্যে তুষার দুই সাপুড়ের কাছ থেকে বিষধর সাপটি ক্রয় করেছিলেন। এবং সেই সাপ দামিনীকে প্রদান করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, জীবনবিমার ২০ লাখ রুপি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পুলিশের আরও দাবি, তুষার তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দামিনীকে বিয়ে করার তোড়জোড়ও করেছিলেন। এই ঘটনায় দামিনী ও তুষারের পাশাপাশি সাপ সরবরাহের জন্য সোনু কুমার ও উদয় কুমারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) ধারায় হত্যা ও ১২৩ ধারায় বিষ, নেশাজাতীয় বা অচেতনকারী পদার্থের মাধ্যমে আঘাত করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন