বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১১:১৪ এম
ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের মধ্যে দুটি দফায় যে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, তার রেশ একপ্রকার শেষ হতে না হতেই, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই ভূমিকম্পের জন্য কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) উল্লেখ করেছে, ভূমিকম্পটির শক্তি ছিল ৭.২। এটি ইওয়াতে প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূলের কাছে আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৯ নির্ধারণ করা হয়েছিল কিন্তু পরে তা সংশোধন করে ৭.২ করা হয়। এ বিষয়ে এপি বিশদ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৯ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ অঞ্চলটি একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহ ব্যাপী 'মেগা-ভূমিকম্প সতর্কতা' জারি করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালের ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের সামনে বক্তৃতা প্রদানকালে বলেন, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে সরকারের জরুরি প্রতিক্রিয়া দল 'মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব' দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আওমোরি প্রিফেকচারের হাশিকামি শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোমোকো নাগানে জানান, ভূমিকম্প সতর্কবার্তা জারি হওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মাঝারি মাত্রার দুলুনি অনুভব করেছিলেন। স্কুলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকলেও অনেক শিশু আতঙ্কে কেঁদে ফেলেছিল। পরে দিনের সব ক্লাস বাতিল করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়।
জাপানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনএইচকে-এর ফুটেজে সেনদাই ও মরিওকাসহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শহরের সাংবাদিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, কিছু মিনিট ধরে কম্পন অনুভব করার পরও কোনো ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য চোখে পড়েনি। ফুটেজে মানুষদের স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী কিছু বুলেট ট্রেন ও স্থানীয় রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি। কর্মকর্তারা রেলপথ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদক সেবনের অভিযোগে পাঁচজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৪ জুন), উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কসবা থানা পুলিশ তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার মীরশাহাপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে মো. বাবুল (৩০), মাদলা গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে সজিব মিয়া (২২), কুটি দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. শরিফ মিয়া (৩০), কুটি গ্রামের মৃত কালন সরদারের ছেলে দেলোয়ার (৩৫) এবং কুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে আকরাম (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক সেবনের অপরাধে প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
কসবা থানার সূত্রে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এ অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সাজাপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানিয়েছেন যে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পানির মোটর খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিকভাবে রাশিদুল শেখ (১৮) নামের এক কিশোরের মৃত্যু ঘটে।
এটি ঘটে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজধর পুর গ্রামে।
নিহত কিশোর রাশিদুল শেখ ওই গ্রামের রফিক শেখের পুত্র এবং তার পেশা ছিল একজন দিনমজুর।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাশিদুল একই গ্রামের মোস্তফার বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করছিল। বুধবার দুপুরে, সেই বাড়ির পুকুরের পানি সেচার পর মোটর খুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সঙ্গে তার স্পর্শ হয়ে যায়। এর ফলে, সে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল রব তালুকদার জানান, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামের নিলাম শেডে অগ্নিকাণ্ডের এক ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামের নিলাম শেডে আগুন লাগার খবর ফায়ার সার্ভিস পেয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। তাদের প্রচেষ্টায় সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দাবি করেছেন যে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের (মার্কিন আইনপ্রণেতা) একটি কমিটির কাছে দেওয়া রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যের প্রকাশিত নথিগুলোতে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিল গেটস ১০ জুন প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির কাছে গোপন সাক্ষ্য দেন। সেখানে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে এক ধরনের দূরত্ব তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
গেটস সাক্ষ্যে বলেন, তাকে সরাসরি ব্ল্যাকমেইল করা হয়নি, তবে এপস্টেইনের কিছু খসড়া ই-মেইল দেখে তার মনে হয়েছে, তিনি ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইলের পথ খুঁজছিলেন। গেটসের ভাষায়, তিনি মনে করেন এপস্টেইন হয়তো নিজে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল অনুশীলন করছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এপস্টেইন তাকে কখনো সরাসরি এমন কোনো বার্তা পাঠাননি, যাকে তিনি ব্ল্যাকমেইল বলতে পারেন। তবে প্রকাশিত নথিগুলো দেখে বিষয়টি তার কাছে সেই দিকেই এগোচ্ছিল বলে মনে হয়েছে।
সাক্ষ্যে বিল গেটস আরও দাবি করেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে গেটস স্বীকার করেছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা তার জীবনের একটি বড় ভুল ছিল। তিনি এই সাক্ষাৎকারে আরও জানান, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, তবে এপস্টেইনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোন যোগসূত্র ছিল না।
গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তার এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। কিন্তু তার তিন বছর আগে এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে যৌন অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন। গেটস বলেন, তিনি জানতেন যে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ ছিল, তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেননি। এই নীরবতা এখন তার কাছে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তার মামলার নথিপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির নাম নথিতে থাকা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ