ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত


খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত

টানা ২ দিনের ভারি বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার

অনেক পরিবারের ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি ওঠে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় আসবাব, কাপড়-চোপড় ও মূল্যবান জিনিসপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন।

তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সিলেটের কিছু এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে।

অনেক অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা কন্ট্রোল রুম চালু করেছি ও ঘটনাস্থলে রয়েছি। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ভুগছে ড. আখতার হামিদ খানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান কেটিসিসিএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৭ এম


চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

টানা ভারি বর্ষণ, বন্যা, পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রাম সফরে তিনি।

এই সফরের সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন, চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের খোঁজ নেবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি প্রথমে বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেলের ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম মহানগর উপজেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এ ছাড়া মহানগর এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সংসদে শিক্ষা সফর: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৯ এম


জাতীয় সংসদে শিক্ষা সফর: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ৪৩ জন শিক্ষক প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনে যান। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সফর তাদের জন্য একটি স্মরণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ী এবং স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

এই সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল চর্চার প্রতি সমান গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। স্মরণীয় মুহূর্তটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করতে পেরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধিদল প্রথমে দক্ষিণ প্লাজা এবং এলডি হল পরিদর্শন করেন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।

এরপর বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনের নান্দনিক স্থাপত্য এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তারা ঘুরে দেখেন। সংসদের উত্তর প্লাজা, ক্রিসেন্ট লেক, অধিবেশন কক্ষ এবং সংসদ গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। তারা চলমান বাজেট অধিবেশনটি সরাসরি উপভোগ করেন।

সংসদ ভবনে আয়োজিত ব্রিফিং সেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। এই সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে গান পরিবেশন করা হয়।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘আজ আমরা বঙ্গভূমির হৃৎস্পন্দনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই শিক্ষা সফর আমাদের মনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্র চেতনার বীজ বুনে দিয়েছে। এটি কেবল একটি শিক্ষা সফর বা অভিজ্ঞতা নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য একটি অনুপ্রেরণা ও গর্বের স্মৃতি হয়ে থাকবে’।

এছাড়াও তারা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্লোগান দেয়- ‘করবো পড়াশোনা, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’ সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের এলডি হলে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সফররত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের সরাসরি দেখার বিরল সুযোগ পান। পরিদর্শন শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৬ এম


সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

গত বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোর্শেদ প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে, ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এরপর, ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরে রেজা হাসান কুমিল্লার ডিসির দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও সিলেটে যোগদান করেননি। কুমিল্লায়ও নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৮ এম


কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

কক্সবাজারে গত ৬ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার রামু, চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে।

৪ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে যাওয়ার কারণে যানবাহনের চলাচলে গুরুতর বিঘ্ন ঘটছে।

একসঙ্গে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় পাহাড়ধসে ২০ জন এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ও ডুবে ৪ জনসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ ওয়াকিম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।

এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে তৌসিফ (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭) নামের চাচাতো ভাই-বোন নিহত হন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে বিভিন্ন এলাকায় উপচে পড়েছে।

রামু উপজেলার গর্জনীয়া, कচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, চাকমারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ও পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাতামুহুরির কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বানের পানি ঢুকে পড়ে।

এর ফলে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়কে পানি উঠে যাওয়ার কারণে যানচলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও সরকারি সহায়তা এখনো অনেক এলাকায় পৌঁছেনি।

এদিকে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণ বিতরণের জন্য খাদ্যসামগ্রী, মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।

প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ৬ দিনে কক্সবাজারে ৬৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%