ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিদ্ধিরগঞ্জে আ. লীগ-যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার


সিদ্ধিরগঞ্জে আ. লীগ-যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সদস্য। শনিবার (৬ জুন) রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- জীবন (৩৪), আলম মিয়া (৩০), সোহেল মিয়া (৪৪), আয়নাল মিয়া (৪৫), এবং জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ (৩৫)। তারা সকলেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আটক

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল-ডেমরা সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি নজরে আসার পর পুলিশের অভিযান শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে পরিচালিত অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে জীবন ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী, আয়নাল মিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য। এছাড়া মো. আলম এবং মো. সোহেল আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘শিমরাইল-ডেমরা সড়কে মিছিলের ঘটনায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণায় বাবার প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণায় বাবার প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যা করার অভিযোগে রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা। তিনি বলেন, "এই রায় দ্রুত কার্যকর করা উচিত।" রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়টি ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

রায় ঘোষণার আগে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হত্যার আগে রামিসার ধর্ষণ এবং বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামির স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোন আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। এছাড়া রামিসার স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করায় স্ত্রী স্বপ্নাকেও দণ্ডিত করা হয়েছে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের দুজনকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত বিচার শুরুর আদেশ দেয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার এজাহার অনুসারে, গত ১৯ মে সকালে সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানেই সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান তারা।

পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসার বাবা অঝোরে কাঁদছিলেন, চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন স্বপ্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


রামিসার বাবা অঝোরে কাঁদছিলেন, চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন স্বপ্না

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দুই আসামির জন্য সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার পর আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন।

বিচারক রায়ের সময় রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা অঝোরে কাঁদেন। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না চোখ বন্ধ করে বসে ছিলেন।

বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত উল্লেখ করে বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে প্রমাণ হয়েছে যে, রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, রামিসাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী স্বপ্না ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। স্বপ্নার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিরোধ না করে যে অমানবিক কাজ করেছেন, তাই তিনি সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। তাদের অপরাধ সংশোধনের যোগ্য নয় এবং তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়।

পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্নাকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়েছিল।

মামলার বিবরণ অনুসারে, নিহত শিশু রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার মাতা আসামিদের ঘরের সামনে তার জুতো দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনিক্যাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


টেকনিক্যাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকনিক্যাল ও কর্মমুখী শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ কর্মসূচিটি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক ও গাছের চারা উপহার দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সেই সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষকরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’—এ গানটি ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডাটা সায়েন্স সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। এসব বিষয়ে পাঠদান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করা হয়েছে।

তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসা হত্যার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


রামিসা হত্যার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট

রাষ্ট্রপক্ষ রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট রয়েছে। রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রামিসার বাবা ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়েছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে রামিসার বাবা এই চিহ্ন প্রদর্শন করেন।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার রায় রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১ টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দ্বারা ঘোষণা করা হয়। বিচারক ১১ টা ৪১ মিনিটে রায় ঘোষণা শেষে আদালতের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আজ বেলা ১১ টায় বিচারক আদালতে উঠে রায় পড়তে শুরু করেন। এই সময় বিচারক আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন।

বিচারক সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান। সাধারণ তথ্য এবং সাক্ষ্য প্রমাণের আলোকে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সন্তুষ্টি জানান।

রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে।

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই মামলাটি বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছালো। গত ১৯ মে রাতে ১২ টা ৫ মিনিটে মামলাটি দায়ের হয়েছিল এবং ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একইদিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

এরপর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে নির্ধারিত বিচারিক ছুটি বাতিল করা হয় এবং বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে ১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর পরের দিন মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত একদিনে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা শেষ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন ৪ জুন।

৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের পর বিচারক আজকের জন্য রায়ের দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়া সময় আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে খোঁজাখোঁজি করতে থাকে তার পরিবার। একপর্যায়ে তারা আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং আসামির শয়নকক্ষে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতিতে মাথা দেখতে পান।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা রামিসাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে এবং পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে।

এ ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিনে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%