ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‎ত্রিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ড. রফিক ও সম্পাদক মোখলেছ


‎ত্রিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ড. রফিক ও সম্পাদক মোখলেছ

নাগরিক অধিকার-আমাদের অঙ্গীকার’ শ্লোগান কে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ত্রিশাল নাগরকি অধকিার আন্দোলন।
‎
‎শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে ত্রিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নাগরিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৭-২০২৮ সালের জন্য নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়।
‎
‎এতে সভাপতি হিসেবে এডভোকেট ড. রফিকুল ইসলাম কে সভাপতি ও সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান সবুজকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
‎
‎প্রচলিত আইন অনুযায়ী নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নাগরিক মতবিনিময়, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, গনশুনানি, জনসচতেনতামূলক র্কাযক্রম, পারচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, নাগরিক সমস্যা নিয়ে জরিপ, সেমিনার ও আলোচনা সভা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম করার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি।
‎
‎নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ- সভাপতি অধ্যাপক বজলুল করিম শাহীন, সহ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর কবির, আইন ও নাগরিক অধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্যারা হলেন, খোরশিদুল আলম মজিব, অধ্যাপক মাহমুদুল করিম সেলিম, এইচ এম জোবায়ের হোসাইন, মো: দেলোয়ার হোসেন, মুহাম্মদ মেজবাহুদ্দোজা, মো: ফয়জুর রহমান ফরহাদ, মো: মাহবুবুল আলম, মো: আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১০৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১০৪

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১০৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হাতিয়া থানায় ৪০ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩১ জন, চরজব্বর থানায় ১০ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৬ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, কবিরহাট থানায় ৪ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৩ জন, সেনবাগ থানায় ২ জন এবং সোনাইমুড়ী থানায় ২ জন রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়িয়ায় ৪ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


মঠবাড়িয়ায় ৪ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার
 
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি অবৈধ গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে । রোববার দিবাগত (১১ অক্টোবর) রাত ৩:৩৫ ঘটিকায় উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া এলাকায় অভিযান চালয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম শুভ সাচকী (২২)। সে চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুবাস চন্দ্র সাচকী ও সবিতা রানীর ছেলে। অন্যদিকে পলাতক আসামি হলেন মো: অলিউর রহমান অলির (৪৯)।
পুলিশ জানায়, পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো: রবিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই মো: জাফরুল হাসানের নেতৃত্বে এসআই মো: আবদুল হান্নান মোল্লা, কনস্টেবল মো: জসিম, মো: তুহিন ও শুভংকর চালিতাবুনিয়া এলাকায় শুভ সাচকীর বসতঘরে অভিযান চালান। এসময় ঘরের মধ্যে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৩টি পোটলায় মোট ৪ (চার) কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, উদ্ধারকৃত গাঁজা সংক্রান্তে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৪০ ধারায় মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা (মামলা নং- ২০, তারিখ: ১১/১০/২০২৬ খ্রি:, জিআর-৩৩৩) রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইপিইউর বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা কেটে গেছে: স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


আইপিইউর বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা কেটে গেছে: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, "বাংলাদেশ সম্পর্কে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ভুল ধারণা কেটে গেছে।"

তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে এ মন্তব্য করেন।

স্পিকার গত ৫ অক্টোবর আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একই দিনে (৫ অক্টোবর) আইপিইউ এর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি। এর ফলে আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশ একটি অনন্য গৌরব অর্জন করেছে।

স্পিকারের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। এছাড়াও সংসদ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরওয়ার জামাল নিজাম এ, ই, সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন এবং রোকেয়া বেগম।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধি দল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুইয়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে ৩৭টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছর পার হলেও গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


বছর পার হলেও গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমানো এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘শান্তি বোর্ড’-এর এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, ইসরাইলি বাহিনীর দখল বন্ধ করা অথবা গাজায় ত্রাণ ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বোর্ডটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বরং, ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে। গাজার অধিকাংশ জনগণ বর্তমানে ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে গাজাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি।

ট্রাম্প ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শান্তি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন। তার পরিকল্পনা ছিল যে, বোর্ডটি গাজায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করবে। একই বছরের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বোর্ডটিকে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কিন্তু এক বছর পরেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা প্রায় প্রতিদিনই চলমান। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধ শুরুর পর তিন বছরে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং আকাশপথে ও কামান দিয়ে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইসরাইল গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। দখল করা এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা আরো ভেতরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে এবং তাদের বারবার বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। হলুদ রেখা অজান্তে অতিক্রম করায় ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

ইসরাইল দাবি করে যে, তাদের হামলার লক্ষ্য হামাসের সদস্যরা। তবে হামাস এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছিলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী কখনোই গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে না।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইল মূলত ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার বৃহত্তর নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘তারা জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।’ তিনি বলেন, এসবই পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।

ত্রাণ ও পুনর্গঠনেও অগ্রগতি নেই

গাজায় প্রতিদিন প্রায় ২২৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রবেশ করার কথা ছিল। খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইপিসির হিসাব অনুযায়ী, গাজার ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি অন্তত ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবেন। মে মাসের তুলনায় এই সংখ্যা ২ লাখ বেশি।

ইসরাইল তাঁবু ও ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি সরঞ্জামসহ হাজারো পণ্যকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এসব পণ্য সামরিক ও বেসামরিক—দুই কাজে ব্যবহার করা যায়, এমন যুক্তিতে সেগুলোর প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ফলে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বাস্তব অগ্রগতি নেই। ফিলিস্তিনিরা এখনো ইঁদুর ও পোকামাকড়ে ভরা তাঁবুশিবিরে বসবাস করছেন। তীব্র গরম কিংবা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই তাদের।

যদিও শান্তি বোর্ডের প্রথম সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো গাজার জন্য ৭০০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোর্ড ২৪০ কোটি ডলারের ৬৬টি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিকল্পনাও প্রকাশ করে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো গাজাবাসীর জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেনি।

গাজার শাসনভার ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাও আটকে রয়েছে। শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে শাসনভার তুলে দেওয়ার আগে শান্তি বোর্ড গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে। এ জন্য জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান কমিশনার আলী শাথের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটিটি সরাসরি শান্তি বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু ইসরাইল এখনো তাদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে কমিটিকে মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে কাজ করতে হচ্ছে।

হামাস গাজায় নিজেদের সরকার বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইসরাইল একে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, হামাস তাদের অস্ত্র জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটির কাছে হস্তান্তরে সম্মত হলেও নিরস্ত্রীকরণের শর্ত মানতে রাজি নয়।

তাদের যুক্তি, ইসরাইল হামলা বন্ধ করেনি এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারও করেনি। ইসরাইল আবার বলেছে, হামাস নিরস্ত্র না হলে তারা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে এগোবে না। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর। ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, আলবেনিয়া, কসোভো ও উগান্ডা বাহিনীটিতে সদস্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্বে ২০ হাজার সেনা ও ১২ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে বাহিনীটি গঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।

জাতিসংঘের সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, উন্নয়ন কর্মসূচি ও সামাজিক সেবা দিয়ে আসছে। সংস্থাটিতে প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি কর্মী কাজ করেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ও শান্তি বোর্ড সংস্থাটির ভূমিকার বিরোধিতা করেছে। গত মাসে বোর্ড জানায়, তারা ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে কাজ করবে না।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে শান্তি বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর কর্মসূচিগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হলে সংস্থাটি গাজায় কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তবে তার ভাষায়, সংস্থাটির ‘দিন শেষ’। এ সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তিসংগত নয়’ বলে মন্তব্য করেছে ইউএনআরডব্লিউএ।

গত জুনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে, শান্তি বোর্ডকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শান্তিপ্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সময় বোর্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জাতিসংঘ এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, শান্তি বোর্ড গাজার পুনর্গঠনের সব দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে পারে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ গাজায় জাতিসংঘের ভূমিকা প্রতিস্থাপনের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

তবে এলমাসরির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় যেতে কোনো দেশই আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চায় না। এর ফলে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ কার্যত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন মাবনের মূল্যায়ন, শান্তি বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, গাজা সংঘাত বন্ধে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারা বোর্ডটির অকার্যকারিতা প্রমাণ করে। ইসরাইল এবং তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় হলেও হামাসকে নিজেদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রাখতে পারেনি বোর্ডটি। এর ফলে গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে।

শান্তি বোর্ডের এক বছরে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি, পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের উদ্যোগ দেখা গেলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি সামান্য। ফলে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড গঠিত হয়েছিল, তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%