ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মঠবাড়িয়ায় ৪ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার


মঠবাড়িয়ায় ৪ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার
 
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি অবৈধ গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে । রোববার দিবাগত (১১ অক্টোবর) রাত ৩:৩৫ ঘটিকায় উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া এলাকায় অভিযান চালয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম শুভ সাচকী (২২)। সে চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুবাস চন্দ্র সাচকী ও সবিতা রানীর ছেলে। অন্যদিকে পলাতক আসামি হলেন মো: অলিউর রহমান অলির (৪৯)।
পুলিশ জানায়, পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো: রবিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই মো: জাফরুল হাসানের নেতৃত্বে এসআই মো: আবদুল হান্নান মোল্লা, কনস্টেবল মো: জসিম, মো: তুহিন ও শুভংকর চালিতাবুনিয়া এলাকায় শুভ সাচকীর বসতঘরে অভিযান চালান। এসময় ঘরের মধ্যে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৩টি পোটলায় মোট ৪ (চার) কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, উদ্ধারকৃত গাঁজা সংক্রান্তে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৪০ ধারায় মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা (মামলা নং- ২০, তারিখ: ১১/১০/২০২৬ খ্রি:, জিআর-৩৩৩) রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইপিইউর বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা কেটে গেছে: স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


আইপিইউর বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা কেটে গেছে: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, "বাংলাদেশ সম্পর্কে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ভুল ধারণা কেটে গেছে।"

তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে এ মন্তব্য করেন।

স্পিকার গত ৫ অক্টোবর আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একই দিনে (৫ অক্টোবর) আইপিইউ এর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি। এর ফলে আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশ একটি অনন্য গৌরব অর্জন করেছে।

স্পিকারের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। এছাড়াও সংসদ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরওয়ার জামাল নিজাম এ, ই, সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন এবং রোকেয়া বেগম।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধি দল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুইয়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে ৩৭টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছর পার হলেও গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


বছর পার হলেও গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমানো এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘শান্তি বোর্ড’-এর এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, ইসরাইলি বাহিনীর দখল বন্ধ করা অথবা গাজায় ত্রাণ ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বোর্ডটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বরং, ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে। গাজার অধিকাংশ জনগণ বর্তমানে ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে গাজাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি।

ট্রাম্প ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শান্তি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন। তার পরিকল্পনা ছিল যে, বোর্ডটি গাজায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করবে। একই বছরের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বোর্ডটিকে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কিন্তু এক বছর পরেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা প্রায় প্রতিদিনই চলমান। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধ শুরুর পর তিন বছরে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং আকাশপথে ও কামান দিয়ে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইসরাইল গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। দখল করা এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা আরো ভেতরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে এবং তাদের বারবার বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। হলুদ রেখা অজান্তে অতিক্রম করায় ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

ইসরাইল দাবি করে যে, তাদের হামলার লক্ষ্য হামাসের সদস্যরা। তবে হামাস এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছিলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী কখনোই গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে না।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইল মূলত ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার বৃহত্তর নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘তারা জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।’ তিনি বলেন, এসবই পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।

ত্রাণ ও পুনর্গঠনেও অগ্রগতি নেই

গাজায় প্রতিদিন প্রায় ২২৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রবেশ করার কথা ছিল। খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইপিসির হিসাব অনুযায়ী, গাজার ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি অন্তত ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবেন। মে মাসের তুলনায় এই সংখ্যা ২ লাখ বেশি।

ইসরাইল তাঁবু ও ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি সরঞ্জামসহ হাজারো পণ্যকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এসব পণ্য সামরিক ও বেসামরিক—দুই কাজে ব্যবহার করা যায়, এমন যুক্তিতে সেগুলোর প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ফলে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বাস্তব অগ্রগতি নেই। ফিলিস্তিনিরা এখনো ইঁদুর ও পোকামাকড়ে ভরা তাঁবুশিবিরে বসবাস করছেন। তীব্র গরম কিংবা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই তাদের।

যদিও শান্তি বোর্ডের প্রথম সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো গাজার জন্য ৭০০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোর্ড ২৪০ কোটি ডলারের ৬৬টি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিকল্পনাও প্রকাশ করে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো গাজাবাসীর জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেনি।

গাজার শাসনভার ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাও আটকে রয়েছে। শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে শাসনভার তুলে দেওয়ার আগে শান্তি বোর্ড গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে। এ জন্য জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান কমিশনার আলী শাথের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটিটি সরাসরি শান্তি বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু ইসরাইল এখনো তাদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে কমিটিকে মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে কাজ করতে হচ্ছে।

হামাস গাজায় নিজেদের সরকার বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইসরাইল একে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, হামাস তাদের অস্ত্র জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটির কাছে হস্তান্তরে সম্মত হলেও নিরস্ত্রীকরণের শর্ত মানতে রাজি নয়।

তাদের যুক্তি, ইসরাইল হামলা বন্ধ করেনি এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারও করেনি। ইসরাইল আবার বলেছে, হামাস নিরস্ত্র না হলে তারা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে এগোবে না। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর। ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, আলবেনিয়া, কসোভো ও উগান্ডা বাহিনীটিতে সদস্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্বে ২০ হাজার সেনা ও ১২ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে বাহিনীটি গঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।

জাতিসংঘের সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, উন্নয়ন কর্মসূচি ও সামাজিক সেবা দিয়ে আসছে। সংস্থাটিতে প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি কর্মী কাজ করেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ও শান্তি বোর্ড সংস্থাটির ভূমিকার বিরোধিতা করেছে। গত মাসে বোর্ড জানায়, তারা ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে কাজ করবে না।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে শান্তি বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর কর্মসূচিগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হলে সংস্থাটি গাজায় কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তবে তার ভাষায়, সংস্থাটির ‘দিন শেষ’। এ সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তিসংগত নয়’ বলে মন্তব্য করেছে ইউএনআরডব্লিউএ।

গত জুনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে, শান্তি বোর্ডকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শান্তিপ্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সময় বোর্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জাতিসংঘ এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, শান্তি বোর্ড গাজার পুনর্গঠনের সব দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে পারে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ গাজায় জাতিসংঘের ভূমিকা প্রতিস্থাপনের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

তবে এলমাসরির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় যেতে কোনো দেশই আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চায় না। এর ফলে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ কার্যত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন মাবনের মূল্যায়ন, শান্তি বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, গাজা সংঘাত বন্ধে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারা বোর্ডটির অকার্যকারিতা প্রমাণ করে। ইসরাইল এবং তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় হলেও হামাসকে নিজেদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রাখতে পারেনি বোর্ডটি। এর ফলে গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে।

শান্তি বোর্ডের এক বছরে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি, পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের উদ্যোগ দেখা গেলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি সামান্য। ফলে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড গঠিত হয়েছিল, তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৫৭ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৫৭ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার

রাজশাহী, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের চলমান অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন থানায় মোট ৪৮টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে দস্যুতা ১টি, চুরি ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১টি এবং অন্যান্য খাতের ৪৫টি মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই সময়ে হত্যা, ডাকাতি, যৌতুকের জন্য হত্যা, সাইবার অপরাধ কিংবা দ্রুত বিচার আইনে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৫টি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে পুলিশ মোট ১৫৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ৬২ জন, সাজাপ্রাপ্ত ১২ জন, তদন্তাধীন মামলার আসামি ৭২ জন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ১১ জন রয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে ১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন পুলিশ আসামিদের হেফাজত থেকে ২টি বার্মিজ চাকু, ২ গ্রাম হিরোইন, ১৬ পিস ইয়াবা, ১২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২ কেজি ২শ’ গ্রাম গাঁজা এবং ৯শ’ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। তবে এ সময়ে কোনো চোরাচালান পণ্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, প্রকৃত সংবাদ প্রাপ্তি সকলের অধিকার এবং অপতথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। পুলিশিং সেবা প্রদান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৯২৩ জন এবং চলতি মাসে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪ হাজার ৭০৮ জন নাগরিককে প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিবিয়ায় জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


লিবিয়ায় জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টের নেতৃত্বের পরিবর্তন, যা ১২ বছর পর ঘটেছে, দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন স্পিকার আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদির নির্বাচনের ফলে পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের প্রভাব আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এই পরিবর্তনটি দেশটির বিভক্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

১২ বছরের নেতৃত্বের অবসান

আগের স্পিকার আগুইলা সালেহ ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি পার্লামেন্টের সদস্যরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাসে সীমিত করার বিধান অনুমোদন করেন। এর পরদিন নতুন স্পিকার হিসেবে আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদি নির্বাচিত হন।

তবে আগুইলা সালেহ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। কিছু সপ্তাহ আগে পার্লামেন্টের সদর দপ্তরে প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছিল।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের পেছনে পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কাজ করে থাকতে পারে। তবে নতুন নিয়মে স্পিকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ার ফলে পদটির স্বাধীনতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের সামরিক নেতৃত্বের প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।

হাফতারের প্রভাব বলয়ে নতুন স্পিকার

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের ব্যাপক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। নতুন স্পিকার আল-আবিদির নিয়োগকে এই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে পার্লামেন্টের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল-আবিদি ও আগুইলা সালেহ—দুজনই ওবেইদাত গোত্রের সদস্য। পূর্বাঞ্চলের সাইরেনাইকা অঞ্চলে এই গোত্রের উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে; তবরুক এলাকায় তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। লেখকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই গোত্র থেকে নতুন স্পিকার নির্বাচনের ফলে স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং গোত্রভিত্তিক অসন্তোষ এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নেতৃত্বের পরিবর্তনের তাৎপর্য শুধু গোত্রীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আল-আবিদি অতীতে লিবিয়া-তুরস্ক পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে তুরস্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ পূর্বাঞ্চলের নেতৃত্বকে আঙ্কারার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পূর্বাঞ্চলের হাফতারপন্থী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ অবস্থায় নতুন স্পিকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় কতটা কার্যকর হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগে নতুন অনিশ্চয়তা

লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রীয় সমস্যা হলো, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও সশস্ত্র শক্তির প্রভাব বজায় রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা, বৈধতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে।

আগস্টে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতার মাধ্যমে ২৪ মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ৫ অক্টোবর ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ পরিষদ ওই সমঝোতার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।

এমন পরিস্থিতিতে পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টে নেতৃত্ব পরিবর্তন জাতীয় সমঝোতার প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সামরিক নেতৃত্বের প্রভাববলয়ে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিজে থেকেই জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা শেষ করে দেয় না। নতুন স্পিকার যদি পার্লামেন্টের স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারেন এবং নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে কার্যকর আলোচনা এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে সমঝোতার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তেলসম্পদ ও রাষ্ট্রীয় অর্থের নিয়ন্ত্রণ

লিবিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ গভীরভাবে যুক্ত। দেশটির অর্থনীতি তেল ও গ্যাসনির্ভর। জিডিপির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি এবং সরকারি রাজস্বের ৯৫ শতাংশেরও বেশি আসে এই খাত থেকে।

তাই বাজেট অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের ওপর প্রভাব বিস্তার করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন ও বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকই রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রদানের প্রধান কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। ফলে পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেই জাতীয় কোষাগারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বদলে যায় না। তা সত্ত্বেও বাজেট অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতাকাঠামোর অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

নতুন স্পিকার যদি সামরিক নেতৃত্বের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হন, তাহলে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের স্বাধীন নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পুনর্গঠন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নও ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। খলিফা হাফতারের ছেলে বেলকাসেম হাফতার লিবিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তহবিলটি পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত।

তহবিলটির আর্থিক তদারকি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের বৃহত্তর ব্যয়ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন। বেলকাসেম হাফতার অবশ্য তহবিলের নিরীক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত জাতীয় বাজেটের বাইরে ব্যয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে স্বাধীন নিরীক্ষা, চুক্তি প্রকাশ এবং পার্লামেন্টারি তদারকির গুরুত্ব বেড়েছে। সামরিক, আইনপ্রণয়ন ও উন্নয়নসংক্রান্ত কর্তৃত্ব যদি পরস্পর-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে জবাবদিহি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নতুন স্পিকারের সামনে তাই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে—পার্লামেন্ট উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি যাচাই করতে পারে কি না, সরকারি অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে কি না এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের স্বাধীন পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে পারে কি না।

মিসর-তুরস্কের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা

লিবিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মিসর পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নিজের সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করে। অন্যদিকে তুরস্ক পশ্চিম লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও পূর্বানুমানযোগ্য সম্পর্ক মিসরের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে আল-আবিদির পূর্ববর্তী সংসদীয় যোগাযোগ আঞ্চলিক সম্পর্ক পরিচালনায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এসব সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নতুন স্পিকার কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং লিবিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন তার ওপর।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রকৃত পরীক্ষা

লিবিয়ার নতুন পার্লামেন্টারি নেতৃত্বের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক, পার্লামেন্টের স্বাধীনতা বজায় রাখা, রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং জাতিসংঘ-সমর্থিত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।

শুধু নিয়মিত পার্লামেন্ট অধিবেশন আয়োজন করলেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর স্বাধীনতা প্রমাণিত হবে না। বরং বাজেট ও পুনর্গঠন প্রকল্পের ব্যয় যাচাই, চুক্তি প্রকাশ, নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই নতুন নেতৃত্বের প্রকৃত ভূমিকা মূল্যায়ন করা সম্ভব।

লিবিয়ার সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান থেকে পাওয়া আর্থিক ও রাজনৈতিক সুবিধার বড় ভূমিকা রয়েছে। নতুন স্পিকারের উত্থান পূর্বাঞ্চলের ক্ষমতাকাঠামোকে আরো সংহত করবে, নাকি পার্লামেন্টকে জাতীয় সমঝোতার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শেষ পর্যন্ত আল-আবিদির নেতৃত্বের সাফল্য নির্ভর করবে তিনি সামরিক-রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে পার্লামেন্টের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেন কি না এবং বিভক্ত লিবিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে পারেন কি না, তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%