নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১১:০৪ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের আকস্মিক বিদায় যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না সে দেশের ফুটবল মহল।
এই ভরাডুবির পর সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইতালিয়ান এই কোচের কঠোর সমালোচনা করে তাকে অবিলম্বে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের এই ব্যর্থ অভিযানকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি আনচেলত্তিকে দ্রুত বিদায় করার পক্ষে সওয়াল করেন।
সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রোমারিও বলেন, তিনি যদি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হতেন, তবে ম্যাচের পরপরই ড্রেসিংরুমে গিয়ে আনচেলত্তির চুক্তি ছিঁড়ে ফেলতেন এবং তাকে বিদায় নিতে বলতেন। তিনি মনে করেন, আইনি লড়াইয়ের পরোয়া না করে এই ব্যর্থতার জন্য কোচকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত ছিল।
এর আগেও একাধিকবার সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ কোচের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা রোমারিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এমন বিপর্যয়ের পর আনচেলত্তির ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
কোচের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি আনচেলত্তির অদ্ভুত সব কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোমারিও। ম্যাচে ব্রুনো গিমারায়েসকে তুলে নেওয়া কিংবা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সংকটের অজুহাতে এডারসনকে রাইটব্যাকে খেলানোর মতো সিদ্ধান্তগুলো তার কাছে একেবারেই বোধগম্য হয়নি।
দলে সঠিক ফুলব্যাক না রাখা এবং চোটের বিপরীতে সেন্টারব্যাক দিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার এই রণকৌশলকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
ব্রাজিল দলের অতীত কোচদের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই তারকা স্ট্রাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে দুঙ্গা হেরে বিদায় নিয়েছেন, স্কোলারি বিশ্বকাপ জিতে টিকে ছিলেন, আবার তিতে হেরেও দায়িত্বে থেকে পরবর্তীতে আবারও হেরেছেন।
কিন্তু এবার আনচেলত্তির মতো একজন বিদেশি কোচ এমন লজ্জাজনক হারের পরও দায়িত্বে থেকে যাবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের এই হেক্সা মিশন ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে যে ঝড় বইছে, রোমারিওর এই বিস্ফোরক মন্তব্য তাতে নতুন করে ঘি ঢালল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলস্বরূপ, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
নদীর পানি কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ার জন্য, হাজারো কৃষকের সবজি ক্ষেত পানির তলায় চলে গেছে। এতে লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, পুঁইশাকসহ একাধিক মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সহস্রাধিক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পরেছেন।
বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এবং আদর্শ সদর উপজেলার কাচিয়াতলী ও আমতলী এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে যেখানে সবুজ ভরে ছিল সবজির ক্ষেত, সেখানে বর্তমানে কেবল পানি আর পানি। কোথাও গাছের ডগা পানির ওপর দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও ভেসে বেড়াচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া শাকসবজি। অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগেই যতটুকু সম্ভব ফসল তুলে আনতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের কাছে ফসল রক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না। অধিকাংশ সবজি এখনও বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে ওঠেনি। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় ফসল তুলে স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন খরচও উঠছে না।
বালিখাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হক জানান, তিনি আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু গোমতীর পানি বাড়ানোর কারণে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আরও দুই দিন যদি পানি থাকে তবে কাদা চাপায় চারাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
কাচিয়াতলী এলাকার কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের অন্তত শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক বাহার মিয়া জানাচ্ছেন, ‘লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক ও চালকুমড়াসহ নানান সবজি কাঁচা অবস্থাতেই তুলে নিতে হচ্ছে। পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে যতটুকু পারছি বিক্রি করছি। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গোমতী নদীর পানি এখনও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তবে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে আমনের বীজতলা ও অন্যান্য কৃষি ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এবং কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার জানান, ‘গোমতী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বাড়ছে এবং কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কারণে দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালকের পক্ষে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে এটি লঘুচাপ আকারে মধ্য উত্তরপ্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই লঘুচাপটি ক্রমশ দুর্বল হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর ফলে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি সামরিক স্থাপনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় হামলার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের বাহিনী বৃহস্পতিবার ইরানে কোনো নতুন হামলা চালায়নি। এর ফলে সবশেষ বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বুশেহর প্রদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ানের বরাতে জানিয়েছে, বুশেহর শহরের কাছে একটি সামরিক স্থাপনায় ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে।
তবে হামলায় কেন এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বুশেহর প্রদেশে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে। এখানে রয়েছে উপকূলীয় শহর বুশেহরের কাছে অবস্থিত ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এখন পর্যন্ত এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের ওমান উপসাগর তীরবর্তী কৌশলগত বন্দরনগরী কোনারাকের একটি নৌসামরিক অঞ্চলে ‘শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান’ থেকে দুই দফা হামলা চালানো হয়েছে।
কোনারাক জেলার গভর্নর মোহাম্মদ ইউনুস হাকানির বরাতে বলা হয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, হামলার খবর প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করছিল না।
ইসরাইলি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের ভেতরে সংঘটিত এসব হামলায় ইসরাইলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা অবগত নন।
এখন পর্যন্ত পরস্পরবিরোধী এসব দাবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল এবং এরপর ইরানও অঞ্চলে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই দিন পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আবারও কূটনৈতিক আলোচনা সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনও তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ