১০:৪১ পি.এম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে ২ ও ৩ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রপ্রেমীদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে যেন ওঠে। এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১ হাজার ১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেখান থেকে ৬৪টি সেরা ছবি প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়।
নির্বাচিত ছবিগুলোতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা ও মানবিক নানা গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ ও একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি একটি শিল্পমাধ্যম বলছিনা, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একটি ছবির মাধ্যমে মানব জীবনের সংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সমাজের বাস্তবতা একেবারেই এমনভাবে তুলে ধরা সম্ভব, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা যায় না।
তরুণ আলোকচিত্রীদের প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরায় বন্দী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বাড়বে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল।
আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে নোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও আলোকচিত্রপ্রেমীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন