০৪:৫৪ পি.এম
বিনোদন জগতের একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য রুপালি পর্দার চরিত্র এবং বাস্তব জীবনের চরিত্র দুটি আলাদা সত্তা। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে এই সীমারেখা সবসময় স্পষ্ট থাকে না। বিশেষ করে যখন প্রিয় মানুষটিকে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখা হয়, তখন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকেও এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
২০১৯ সালে শুরু হওয়া একটি সিরিজে সিডনির চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল সম্পর্ক, যৌনতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক টানাপোড়েন। চরিত্রটির প্রয়োজনেই বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য তুলে ধরতে হয়েছিল তাকে। তবে সিরিজটি দেখার আগে পরিবারের সদস্যদের এসব বিষয়ে কিছু জানাননি সিডনি।
২০২৩ সালে এনবিসির সানডে টুডে উইথ উইলি গাইস্ট অনুষ্ঠানে সিডনি তার পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, তার মা আগে থেকেই জানতেন সিরিজে কী ধরনের দৃশ্য থাকতে পারে। কারণ তিনি কয়েকবার শুটিং সেটে গিয়েছিলেন এবং মেয়ের চরিত্র ও গল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বাবাকে এসব কিছু জানাননি সিডনি।
আরও পড়ুন: অপুর রোমান্টিক ফটোশুট ভাইরাল, ভক্তদের মধ্যে আলোচনা
বাবার সঙ্গে সাধারণত তার কাজের বিষয়ে আলোচনা খুব বেশি হয় না। তাই ‘ইউফোরিয়া’তে তার চরিত্রে কী আছে, সেটি বাবাকে কীভাবে বলবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। তবে মজার বিষয় হচ্ছে— তাকে না জানিয়েই তার বাবা-মা ও দাদার সঙ্গে বসে সিরিজটি দেখতে শুরু করেন। অর্থাৎ সিডনির বাবা ও দাদা দুজনেই একসঙ্গে সিরিজটি দেখতে বসেছিলেন। কিন্তু পর্দায় মেয়েকে এমন দৃশ্যে দেখার পর তারা খুব বেশি সময় তা দেখতে পারেননি। তার বাবা ও দাদা সিরিজটি বন্ধ করে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
২০২৩ সালের ওই সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি বলতে গিয়ে সিডনি হেসে ফেলেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। সিডনি বলেন, "আমার দাদি বরং তার কাজের বড় ভক্ত ছিল। আমি বিভিন্ন দেশে শুটিংয়ে গেলে অনেক সময় দাদিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতাম। কোনো কোনো প্রজেক্টে দাদিকে অতিরিক্ত চরিত্র হিসেবেও ক্যামেরার সামনে আনার চেষ্টা করতাম।"
সিডনির জন্য ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের বিষয়টি শুধু পরিবারের অস্বস্তিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সিরিজটি জনপ্রিয় হওয়ার পর তার চরিত্রের নগ্নদৃশ্যের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আরও অস্বস্তিকর বিষয় ছিল, সেসব ছবি তার পরিবারের সদস্যদের ট্যাগ করেও ছড়ানো হয়।
এর আগে ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে সিডনি বলেছিলেন, "সামাজিক মাধ্যমে আমার চরিত্রের দৃশ্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কষ্ট দিয়েছিল। ছোট ভাইয়ের অ্যাকাউন্টেও এসব পোস্টের ট্যাগ পৌঁছায়। আমাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে, যা আমার জন্য অসম্মানজনক ও কষ্টদায়ক।"
আরও পড়ুন: এআই দিয়ে তৈরি বাংলা ওয়েব সিরিজ ‘শান্তি নিবাস’, নির্মাতার ভাবনায় যেমনটা ছিল
সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের কাছের মানুষ তার নগ্নদৃশ্যের স্ক্রিনশট নিয়ে ট্রল করেছিল। অভিনেত্রী বলেন, পর্দায় তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটি তার ব্যক্তিগত জীবনের পরিচয় নয়। তাই চরিত্রের দৃশ্য কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের টেনে আনা তার কাছে অন্যায্য। ২০২২ সালে দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, অভিনয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু নগ্নদৃশ্যের কারণে অনেকে আমার অভিনয়ের দিকটি নিয়ে আলোচনা করেন না।
সিডনির মতে, পর্দায় নগ্নতার ক্ষেত্রে নারী অভিনয়শিল্পীদের জন্য একটি দ্বৈত মানদণ্ড কাজ করে। তিনি বলেন, পুরুষ অভিনেতা অন্তরঙ্গ দৃশ্য বা শরীর দেখালেও অনেক সময় সেটি অভিনয়ের অংশ হিসেবেই মূল্যায়িত হয়। কিন্তু নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে নগ্নদৃশ্যটিই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে ক্যাসি হাওয়ার্ড এমন এক তরুণীর চরিত্র, যে ভালোবাসা, সম্পর্ক, শরীর এবং অন্যের স্বীকৃতির মধ্যে নিজের পরিচয় খুঁজতে থাকে। চরিত্রটির জীবনের নানা সংকট তুলে ধরতে সিরিজটিতে অন্তরঙ্গতা ও নগ্নতাকে গল্প বলার একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বাস্তব জীবনে সিডনি সুইনি এবং তার অভিনীত ক্যাসি এক ব্যক্তি নন। অভিনেত্রী নিজেও বারবার এই পার্থক্যের কথা বলেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সামনে সিরিজটি দেখার অভিজ্ঞতা সেই পার্থক্যটাকেই আরও স্পষ্ট করে দেয়; দর্শকের কাছে যা একটি চরিত্রের দৃশ্য, পরিবারের কাছে সেটি তাদের পরিচিত একজন মানুষকে পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন: রাঘব ও রেমো ডিসুজার নতুন ছবি ‘এনি বডি ক্যান ড্রিম’ এর শুটিং শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন