ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর শোক


বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর শোক

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং পাপেট ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আজ (সোমবার) তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন এদেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি বাংলাদেশে পাপেট বা পুতুলনাচ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই এই শিল্পটি দেশে আধুনিক রূপ লাভ করেছে।

ইয়াসের খান বলেন, দেশের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, এফডিসি এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুস্তাফা মনোয়ারের নেতৃত্ব ও সৃজনশীল ভূমিকা দেশের প্রচারমাধ্যমকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

বিশেষ করে বিটিভিতে তাঁর অনন্য সৃষ্টি কয়েকটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। গণমাধ্যমের বিকাশ এবং নতুন প্রতিভা অন্বেষণে তাঁর ওই দূরদর্শী উদ্যোগগুলো চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, মুস্তাফা মনোয়ারের চিরবিদায় দেশের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর বহুমাত্রিক শিল্পকর্ম এবং অবদানের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি আরও শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বস্ত্র ও পাটশিল্পকে রপ্তানিমুখী করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


বস্ত্র ও পাটশিল্পকে রপ্তানিমুখী করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বস্ত্র ও পাটশিল্পকে আধুনিক, টেকসই ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং মন্ত্রণালয় সেগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ (সোমবার) সংসদে নেত্রকোণা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাটশিল্পের উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম মোড়কের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধে 'পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০' বাস্তবায়নে সরকার নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, পাটশিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘পাট আইন, ২০১৭’, ‘জাতীয় পাট নীতিমালা, ২০১৮’ এবং ‘চারকোল নীতিমালা-২০২২’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে।

এ ছাড়া জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসি-এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র পাট উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং 'উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ' প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নতমানের পাটের আঁশ উৎপাদন বৃদ্ধির কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিজেএমসি'র নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি পাটকল ২০২০ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মিলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অবশিষ্ট মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একই দিনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সরকারি দলের সাংসদ মো. আব্দুস সালামের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জানান, দেশের বস্ত্রশিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৮শ’ কোটি মিটার বস্ত্রের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৪শ’ কোটি মিটার ওভেন কাপড় এবং ৪শ’ কোটি মিটার নিট কাপড়।

তিনি বলেন, দেশের মিলগুলো নিট খাতে মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ওভেন খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করছে। এছাড়া হস্তচালিত তাঁতশিল্প থেকে বছরে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার মিটার কাপড় উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট বস্ত্র চাহিদার প্রায় ২৮ শতাংশ পূরণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জোড়া ভূমিকম্পের আঘাত

ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজে হিমশিম, মৃত বেড়ে ১ হাজার ৪৫০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজে হিমশিম, মৃত বেড়ে ১ হাজার ৪৫০

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, দেশটির নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এই বিপর্যয় সামাল দিতে চরম সংকটে পড়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে। একই সময়ে একটি বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। সেখানে বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় এই রাজ্যের বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপ ও বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিরাপত্তা ও বাসযোগ্যতা মূল্যায়নে একটি রাষ্ট্রপতি কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো চলছে। গতকাল রবিবারও আমরা কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। তাই কোনো অবস্থাতেই এই অভিযান বন্ধ করা হবে না। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী।’

রদ্রিগেজ আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতির কারণে স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান আরও এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, লা গুয়াইরায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়

উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা ইতোমধ্যে পার হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক মানুষকে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজতে দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এক মেক্সিকান দুর্যোগ মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার উদ্ধার সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কয়েক দশক পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভূমিকম্পের পর দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় এক চিকিৎসক জানান, সাধারণ সময়েই রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হতো। সেখানে এত বড় দুর্যোগ পরিস্থিতি সংকটকে আরও গভীর করেছে।

অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং জনসেবা খাতের অবনতির কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছে রাষ্ট্র।

ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা

উদ্ধার অভিযানে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকার বাসিন্দা উইলবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে তিনি আটজন স্বজনকে হারিয়েছেন। তার অভিযোগ, রাষ্ট্র কার্যকর সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকাজেও বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে চরম সমস্যা হচ্ছে। এমনকি বিশেষ অনুমতি সংগ্রহ করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তবে সরকারের দাবি, ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তি খাতে ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪০ পি.এম


প্রযুক্তি খাতে ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশের তুলনামূলকভাবে অনুন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ উৎপাদনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। সোমবার, দেশের সরকার ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই বিনিয়োগের বিষয়টি ঘোষণা করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ান প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই উদ্যোগটি দেশের প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিপ উৎপাদনে নেতৃত্ব প্রদানে সহায়তা করবে।

তিনি আরও জানান, ওই প্রকল্পে প্রায় ৮০০ ট্রিলিয়ন ওয়ন (যা প্রায় ৫১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করা হবে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগগুলোর একটি।

এছাড়া, এই প্রকল্পের আওতায় চারটি চিপ উৎপাদন কারখানা এবং অংশীদার কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিষমুক্ত আনারস চাষে ঝুঁকছেন মধুপুরের কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিষমুক্ত আনারস চাষে ঝুঁকছেন মধুপুরের কৃষকরা

জেলায় মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আনারসের স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়। কিন্তু কিছু অসাধু লোভী কৃষক অধিক লাভের আশায় রাসায়নিকের অত্যাধিক ব্যবহারে আনারসের সুনাম নষ্ট করে ফেলছেন। এরই প্রেক্ষিতে মধুপুরের আনারসের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে স্বল্প খরচ ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এখন অর্গানিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আনারস চাষ করছেন।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আনারসের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মধুপুরে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষীর সংখ্যা যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনই দেশব্যাপী এই সুমিষ্ট আনারসের জন্য রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু আনারস চাষীরা বেশি লাভের আশায় আনারসের আকার, রং উজ্জ্বল ও অসময়ে বাজারে ওঠানোর জন্য নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে ভালো দাম পাওয়ার আশায় রমজান মাসকে টার্গেট করে ছোট-বড় গাছে একসঙ্গে ফুল ও ফলন আসার জন্য রাসায়নিক মিশ্রণ স্প্রে করে, যা সিজার হিসেবে পরিচিত।

এ সময় নিয়মিত হরমোন এবং পাকানোর জন্য নিয়ন্ত্রিত হরমোন প্রয়োগের ১০-১২ দিন পরেই আনারস হারভেস্ট করতে প্রস্তুত হয়ে যায়। আনারস দেখতে হলুদ বর্ণ হলেও তা বিষাক্ত ফল হিসেবে পরিণত হয়ে যায়। স্বাদ ও ঘ্রাণ তখন ঠিক থাকে না। এ কারণেই অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে আকারে বড় ও আকর্ষণীয় রঙ তৈরি হলেও আনারসের স্বাদ-গন্ধ ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তবে ইদানিং মানুষ সচেতন হওয়ার কারণে এবং বিষযুক্ত আনারস না কেনার ফলে মধুপুরে বিষমুক্ত আনারসের চাষ শুরু হয়েছে। আনারসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সোহেল রানাসহ অনেক কৃষক এখন নিরাপদ আনারস চাষ করছেন।

সরেজমিনে মধুপুর উপজেলার ফুলবাগ চালা ইউনিয়নের হাগুড়া কুড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সোহেল রানা আনারস বিক্রির উদ্দেশ্যে তার ক্ষেত থেকে আনারস সংগ্রহ করছেন।

এ সময় এ প্রকল্পের উদ্যোক্তা সোহেল রানার সাথে কথা হয়। তিনি বাসসকে জানান, ২০২৫ সালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘এসএসএস’ এর সহযোগিতায় এ কাজে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ সংস্থার পক্ষ থেকে ৬০ হাজার টাকা অনুদান ও তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে নিরাপদ আনারস প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। মোট চার বিঘা (১২০ শতাংশ) জমিতে নিরাপদ আনারসের চাষ করেছেন।

তিনি জানান, ওই জমিতে হানিকুইন জাতের ২৪ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেন। তিনি সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ আনারস চাষ করছেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে আনারস হারভেস্ট করার মধ্যে আঠারো মাসে মোট ৫০ জন শ্রমিক বিভিন্ন সময়ে তার এই প্রকল্পে কাজ করেছেন। তাদের বেতন ও অন্যান্য সব খরচ বাবদ তার ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে সোহেল রানা মোট ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আরো প্রায় ৭০ হাজার টাকা আনারস বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যেখানে অতিরিক্ত রাসায়নিক কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো প্রতি পিস বড় সাইজের আনারস ২৫-৩০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়, সেখানে অর্গানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ আনারস বিক্রি করছেন ৪০-৪৫ টাকা দরে।

নিরাপদ আনারস চাষি সোহেল রানা বাসস’কে জানান, মধুপুরের আনারসের স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়। বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করতে গিয়ে অধিক লাভের আশায় অনেক চাষিরা আনারসের আকার, রং উজ্জ্বল ও অসময়ে বাজারে ওঠানোর জন্য নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। এতে মধুপুরের আনারসের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের বহু কৃষক আনারসের স্বাদ, গন্ধ ও তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ আনারস চাষ করছেন। উৎপাদনে খরচ কম ও দাম ভালো পাওয়ায় দিন দিন আরও অনেক চাষি বিষমুক্ত ও নিরাপদ আনারস চাষে ঝুঁকছেন।

তিনি আরো জানান, তাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় এলাকার মিজানুর রহমান সবুজ, রনি মিয়া, কল্যাণ ম্যাথিউ নিরাপদ আনারস চাষ শুরু করেছেন। এছাড়া মধুপুর গড় অঞ্চলে প্রায় শতাধিক চাষি বর্তমানে নিরাপদ আনারস চাষে যুক্ত রয়েছেন।

নিরাপদ আনারসের বাজারজাত সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহেল রানা জানান, পুরাতন চাষি হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতারা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনে থাকেন। উত্তরবঙ্গের নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং ঢাকা থেকে ক্রেতারা তার ক্ষেত থেকে সরেজমিনে এসে আনারস কিনে নিয়ে যান।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিজের ফেসবুক পেজ এস আর ব্লগ বিডি এর মাধ্যমে অনলাইনে নিরাপদ আনারস অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রেতাদের কাছে নিরাপদ আনারস পৌঁছাচ্ছেন সোহেল রানা।

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ও অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করা আনারস চেনার উপায় সম্পর্কে জুয়েল রানা জানান, প্রাকৃতিকভাবে পরিপক্ক আনারসের গোড়ার দিকে হলুদ রং হবে এবং উপরের দিকটি সবুজ থাকবে। আনারস কাটলে সুঘ্রাণ বের হবে এবং খেতে সুমিষ্ট হবে। অন্যদিকে হরমোন দিয়ে পাকানো আনারস সম্পূর্ণ হলুদ বর্ণের হবে। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও সুঘ্রাণ বের হবে না এবং খেতে সুমিষ্ট হবে না।

ছবি : বাসস

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসএসএস এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ চন্দ্র পাল বাসস’কে জানিয়েছেন, সংস্থাটি শুরু থেকেই মধুপুর গড় ও পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন নতুন কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে আনারস চাষিদের ক্ষুদ্র অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ এন্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (স্মার্ট) প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৮শ’ সদস্যদের ক্ষুদ্র অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের উপকারভোগীরা নিরাপদ আনারস চাষ করে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আশেক পারভেজ বাসস’কে জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে ছায়ান্টকিউ, হ্যানি কুইন এবং ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত এমডি-২ জাতের আনারস আবাদ হচ্ছে। অধিক মুনাফার আশায় আনারস চাষীরা মাত্রাতিরিক্ত হরমোন প্রয়োগ করেন। ওই আনারস খেলে মানব দেহে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগ হতে পারে। এমনকি লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া বা ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি মধুপুরের আনারসের সুঘ্রাণ ও অতুলনীয় স্বাদ এবং আনারসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কেমিক্যালমুক্ত আনারস চাষে চাষীদের সবসময়ই উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববাজারে আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আনারস ফল হিসেবে ও আনারসজাত পণ্য রফতানিতে প্রথম সারিতে রয়েছে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। সুতরাং, নিরাপদ আনারস চাষের মাধ্যমে আমাদের দেশে আনারসের ভ্যালু এডিশনের মাধ্যমে খাদ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু বেভারেজ কোম্পানি আনারসের জুস বিদেশে রফতানি করছে এবং এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে নানা প্রকল্প প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%