ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত: তথ‍্য উপদেষ্টা


চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত: তথ‍্য উপদেষ্টা

চীন-নির্মিত জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংক্রান্ত আলোচনা চালিয়ে নিতে কমিটি গঠন এবং খসড়া চুক্তিপত্র তৈরির তথ্য জানিয়েছে সরকার। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক কার্যকারিতা ও সক্ষমতার বিষয়টি স্পষ্ট। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়ে চীন নির্মিত জে-১০ যুদ্ধবিমান রাফালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে বলে তথ্য প্রমাণিত হয়েছে। ৪.৫ প্রজন্মের অত্যন্ত উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত রাফাল বা ইউরোফাইটারের মতো ইউরোপীয় বিকল্পগুলোর তুলনায় এসব চাইনিজ যুদ্ধবিমান অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর। জনগণের সার্বিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেন তিনি। ছাত্র-জনতার এই অর্জনকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতাকে অহেতুক উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, এটিকে তারা ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে দেখেন না। ১৯৭১ সালের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে ২০২৪ সালের ঘটনাকে একই পাল্লায় মাপা চরম অনভিপ্রেত কাজ।

তবে ‘স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার’ প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরির জায়গা থেকে তিনি কথাটি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশ নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে কৌশলগত সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়ার সুযোগ পেত না। আগে রাষ্ট্র হিসেবে নিজের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে জে-১০ যুদ্ধবিমানের মতো সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের আলোচনা উন্মুক্তভাবে শুরু করার স্বাধীনতাও অবরুদ্ধ ছিল। সেই সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারার সক্ষমতা অর্জনকেই তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গিনিতে ভ-য়া-বহ ময়লার ভাগাড় ধসের পর ক্ষোভ ও হতাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


গিনিতে ভ-য়া-বহ ময়লার ভাগাড় ধসের পর ক্ষোভ ও হতাশা

সোমবার, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে, গিনির একটি ময়লার ভাগাড়ে ধসে পড়া স্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান করতে উদ্ধারকর্মীরা বিশাল খননযন্ত্র ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, বিভিন্ন পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

রাজধানী কনাক্রির দার এস সালাম এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দা আবু হামজা জানান, স্থানীয়রা বিপদের বিষয়ে গিনির কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। রোববার ভোরে ধসের ফলে ৩১ জন প্রাণ হারান।

বার্তা সংস্থা এএফপি কনাক্রি থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে।

প্রবল বৃষ্টির পর রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়টি ধসে পড়ে। এতে ২০ জনের বেশি আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

মৃত্যু, মানুষের চিৎকার এবং স্বজন হারানোর আর্তনাদে দার এস সালামের বাসিন্দাদের জীবনে হঠাৎ করে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে।

আবদুল সুমাহ নামে এক তরুণ জানান, তার মা, দুই ভাই ও এক বোন মারা গেছেন।

আরেক তরুণ বাসিন্দা আলহাসানে কামারা জানান, গভীর রাতে তার বাড়ির ওপর ধস নামার সময় তার ছোট ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি বলেন, ‘আমি দুই ভাইয়ের সঙ্গে ঘুমাচ্ছিলাম। পেছনে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাই। এরপর জিনিসপত্র ধসে পড়তে দেখি।’

তিনি আরও বলেন, তাঁর দুই ছোট ভাইয়ের একজন ঘরের ভেতরেই মারা যায়। অন্যজনকে তারা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তার মা, দাদি ও বোনেরাও বেঁচে যান। কামারা বলেন, ‘ঈশ্বরই আমাদের রক্ষা করেছেন।’

সোমবার, ধসের স্থানটি নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রাখেন। টানা বৃষ্টিতে এলাকাটি আরও কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে।

রোববার, কয়েক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে শিশুও ছিল, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ও মৃতদের খুঁজতে খননযন্ত্রের পাশে ময়লার স্তূপের ওপর মরিয়া হয়ে জড়ো হয়েছিলেন। উদ্ধারকারী দলগুলো স্ট্রেচারে করে আহত ও উদ্ধার করা ব্যক্তিদের নিয়ে আসা-যাওয়া করছিল। তাদের সঙ্গে ছিলেন উদ্বিগ্ন স্বজনেরা।

শোকার্ত কয়েক ডজন নারীকে কাঁদতে এবং একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।

হামজা যুব সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঘটনাস্থলে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা তরুণরা এটি ঠেকাতে সবকিছু করেছি। আমরা সভা করেছি এবং কর্মকর্তাদের ডেকেছি। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ময়লার ভাগাড়টি বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ এক বছর আগে তারা আমাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।’

বাসিন্দা আবুবাকার কামারা রোববার ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘রাত দুইটা বা তিনটার দিকে আমরা ধসের শব্দ শুনতে পাই। বাইরে চিৎকার শুনি। সবাই চিৎকার করছিল।’

তিনি জানান, স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ই দ্বিতীয় দফা ধস নামে। এতে প্রথম ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে ছুটে যাওয়া এলাকার কয়েকজন তরুণও চাপা পড়েন।

তিনি বলেন, ‘যারা সাহায্য করতে সেখানে গিয়েছিল, তারা সবাই ধসের নিচে চাপা পড়ে।’

বাসিন্দা প্লেয়ার মাসিরে জানান, প্রথম ধসের পর তাঁর স্বামী মানুষকে উদ্ধারে গিয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ধসে তিনি প্রাণ হারান।

সিরে কালো এএফপিকে বলেন, তার পাঁচ সন্তান ও স্বামী প্রাণ হারিয়েছেন।

দার এস সালাম যে গবেসিয়া কমিউনের অন্তর্ভুক্ত, তার মেয়র সোমবার জানান, তাঁর এক মেয়ে ও ছোট ছেলে পাশের একটি হাসপাতালে জীবিত আছে।

জাতীয় মানবিক জরুরি অবস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (এএনজিইউসিএইচ) মহাপরিচালক লানসেই তোরে সোমবার জানান, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৫৮ জন শহরের ডিক্সিন সেন্টার এলাকার একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ৭২টি পরিবার এখনো সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাসস্থান, খাবার, পোশাক ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। একটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি দলও মোতায়েন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে’ এবং ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকার ময়লার ভাগাড়ের আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং এলাকা নিরাপদ করার কার্যক্রমের কথা জানায়।

এ অঞ্চলে বর্ষাকাল বিশেষভাবে দীর্ঘ ও তীব্র।

গিনির বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেলু দালেইন দিয়ালো বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি বলেন, এটি ‘এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা আমাদের হতবাক ও গভীরভাবে বিচলিত করেছে।’

নির্বাসিত সাবেক গিনি প্রেসিডেন্ট আলফা কন্দে ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা’ রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আজ গিনি শোকে মুহ্যমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কার ইমামের ভুল ধরেছিলেন যে বাংলাদেশি আলেম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


মক্কার ইমামের ভুল ধরেছিলেন যে বাংলাদেশি আলেম

সিলেটের আল্লামা মুশাহিদ বায়ামপুরী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান আলেম ও হাদিসবিশারদ। গভীর জ্ঞান, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও দ্বীনি শিক্ষায় তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরেও। ১৯৪৭ সালে হজ পালন করতে গিয়ে মক্কার ইমামের খুতবায় ভুল ধরার ঘটনা তার জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।

১৯০৭ সালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বায়ামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল্লামা মুশাহিদ আহমদ বায়ামপুরী (রহ.)। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান তিনি। মায়ের কাছেই তার শিক্ষাজীবনের শুরু। মাত্র সাত বছর বয়সে কোরআন শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত যান।

রামপুর আলিয়া মাদরাসা ও মিরাঠ আলিয়া মাদরাসায় প্রায় সাত বছর পড়াশোনা করেন তিনি। হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আকাইদ ও দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর ১৯৩৬ সালে ভর্তি হন বিশ্বখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দে। সেখানে হাদিসশাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন বলে জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে হজে আলোচনায় আসেন

তিনবার হজ পালন করেছিলেন আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.)। ১৯৪৭ সালের হজে তার জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় পেয়ে আরবের আলেমরা বিস্মিত হয়েছিলেন বলে তার জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। সে সময় মক্কার ইমামের খুতবায় একটি ভুল তার নজরে আসে এবং তিনি তা সংশোধনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তার হাদিসশাস্ত্রের জ্ঞান ও গভীর পাণ্ডিত্যে তৎকালীন সৌদি আলেমরা মুগ্ধ হন বলেও বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থে দাবি করা হয়েছে। এমনকি সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ তাঁর সামনে রাষ্ট্রীয় সংবিধান পেশ করে কোথাও ভুল বা সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না দেখতে বলেছিলেন—এমন কথাও তাঁর জীবনীতে পাওয়া যায়। পরে তিনি বেশ কয়েকটি বিষয় সংশোধনের পরামর্শ দেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে ফিরে হাদিস শিক্ষায় আত্মনিয়োগ

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে পড়াশোনা শেষ করে আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.) ভারতে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে সিলেটবাসীর অনুরোধে দেশে ফিরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গাছবাড়ী জামিউল উলুম কামিলা মাদরাসাতেও তিনি হাদিসের পাঠদান করেন।

১৯৫৩ সালে নিজ জন্মস্থান কানাইঘাটে ফিরে এসে কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদরাসায় যোগ দেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘দারুল উলুম কানাইঘাট’ রাখা হয়। ১৯৫৪ সালে সেখানে দাওরায়ে হাদিস চালু করেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার পাঠদানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা কানাইঘাটে ছুটে আসতেন। তার গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

সমাজ সংস্কারেও ছিল বড় ভূমিকা

শিক্ষাদান ও লেখালেখির পাশাপাশি মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অনাচার ও বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.)। সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় তিনি ওয়াজ ও নসিহত করতেন।

রমজান মাসে সিলেটের বন্দরবাজার জামে মসজিদে তারাবির পর থেকে সাহরি পর্যন্ত তাঁর তাফসির ও আলোচনা শুনতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হতেন। তার আলোচনা ছিল ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও সমাজজীবনের বিভিন্ন বিষয়েও সমৃদ্ধ।

রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন

আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.) রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি তাঁর শিক্ষক মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

১৯৬২ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। সংসদে তিনি কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আইন, ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার এবং পূর্ব পাকিস্তানে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেন।

রেখে গেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ

আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.) ছিলেন একজন লেখকও। রাজনীতি, তাসাউফ, ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ফাতহুল কারীম ফি সিয়াসাতিন্নাবিয়ীল আমীন, আল-ফুরকান বাইনাল হক্বে ওয়াল বাতিল ফি ইলমিত তাসাউফে ওয়াল ইহসান, সত্যের আলো, ইসলামে ভোট ও ভোটের অধিকার এবং সেমাউল কোরআন।

১৯৭১ সালে ইন্তেকাল

আল্লামা মুশাহিদ বায়ামপুরী (রহ.) ১৩৯০ হিজরির ১০ জিলহজ, ১৯৭১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঈদুল আজহার রাতে ইন্তেকাল করেন। পরদিন ঈদের দিন আসরের পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার ছোট ভাই আল্লামা মুজাম্মিল (রহ.) জানাজায় ইমামতি করেন।

নিজ হাতে গড়ে তোলা দারুল উলুম কানাইঘাট মাদরাসার সামনেই তাকে দাফন করা হয়।

আল্লামা বায়ামপুরী (রহ.)-এর জীবন ছিল জ্ঞানচর্চা, হাদিস শিক্ষা, সমাজ সংস্কার ও দ্বীনি খেদমতের এক দীর্ঘ অধ্যায়। সিলেটের কানাইঘাটের এই আলেম তার শিক্ষা ও কর্মের মাধ্যমে উপমহাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন।

সূত্র: শিক্ষক বাতায়ন 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তায় নতুন কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


সার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তায় নতুন কমিটি গঠন

কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি নতুন কমিটি গঠন করছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আজ মঙ্গলবার এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সার উত্তোলন, বিতরণ এবং সার-ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে এই কমিটি। কৃষি মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


কুড়িগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে প্রস্তুতি সভা
 
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন  কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। 
 
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান। এতে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ আ ন ম গোলাম মোহাইমেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ হাবিবুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, হাসিবুর রহমান হাসিব, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, এবি পার্টির আহ্বায়ক ডাঃ নজরুল ইসলাম খান ও সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জুয়েল সহ সরকারি বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।
 
সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
 
সভা শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%