সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৩ পি.এম
দক্ষিণ ইরাকের নাসরিয়া অঞ্চলের মরুভূমিতে অনুষ্ঠিত এক বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই রাজকীয় আয়োজনের জন্য বিপুল সংখ্যক পশু জবাই করা হয়, যা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আল-বাদুর গোত্রের শেখ হায়দার আবিরের ছেলেদের বিয়ের উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক অতিথি উপস্থিত হন।
অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য প্রায় ১৪০০ ভেড়া ও ছাগল এবং ২৭০টির বেশি উট জবাই করা হয়। মরুভূমির বিশাল আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিয়ের ভোজ ও অনুষ্ঠানের দৃশ্য ধারণ করা ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর বিয়ের আয়োজনের ব্যাপ্তি, অতিথির সংখ্যা এবং ভোজের জন্য ব্যবহৃত পশুর সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ইরাকের উপজাতীয় সংস্কৃতিতে বড় আকারের সামাজিক অনুষ্ঠান এবং অতিথি আপ্যায়নের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে বংশের মর্যাদা ও আতিথেয়তা প্রদর্শনের জন্য বড় আয়োজন করার প্রচলন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনার তালতলীতে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে "নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই" - এই দাবি নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচিটি রবিবার বিকাল ৫ টায় উপজেলা ভূমি কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং ‘তালতলী চারুকলা একাডেমী’ -এর যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আয়োজকরা জানান, নদী দখল ও দূষণমুক্তির বার্তা সমাজের সকল স্তরের মানুষ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের রং-তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে নদীর নয়নাভিরাম রূপ, বৈচিত্র্য এবং সুরক্ষার আকুতি ফুটিয়ে তোলে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তালতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নাজমুল হাসান শাহীন, তালতলী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হারুন আর-রশিদ খান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক আকন মোঃ আল-মামুনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং জলজ জীববৈচিত্র সংরক্ষণে বিভিন্ন নদীতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করেছে। সোমবার, এই অভিযানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪০টি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ।
জব্দকৃত জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ মিটার। অভিযানের শেষে, উদ্ধারকৃত জালগুলো উপজেলা প্রশাসন ভবনের পাশে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাদ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বেগবতী নদী ও চিত্রা নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও এর রেণু ধ্বংস রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপি, সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ি সংলগ্ন, চাপালি পৌরসভা এলাকা ও এর আশপাশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে পিছিয়ে পড়া জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ইঁরষফরহম ডধঃবৎ ্ ঝধহরঃধঃরড়হ ঊহঃৎবঢ়ৎবহবঁৎংযরঢ় (ইড্ঝঊ) প্রকল্পের ফেইজ-আউট সমাপনী সমন্বয় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বাউফল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে বাউফল উপজেলার দাসপাড়া, বগা, মদনপুরা ও আরও একটি ইউনিয়নে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি গ্রুপ গড়ে তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সভায় প্রকল্পের ২০২২-২০২৬ সময়কালের প্রধান অর্জন, ফলাফল ও প্রভাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও ডঅঝঐ উদ্যোক্তা, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা উদ্যোক্তা, উঠান ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ (ঈঝএ), কিশোর-কিশোরী গ্রুপ এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রকল্পের অর্জন ও স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্থানীয় অংশীজনদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সমন্বয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি বইসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মাইটিভির প্রতিনিধি অহিদুজ্জামান ডিউক, বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, এনজিও প্রতিনিধি আবদুল খালেকসহ আহ্ছানিয়া মিশন ও ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে রংপুরগামী রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচ থেকে বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনা ঘটে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী বালাবাড়ি এলাকায়।
তার চুরি যাওয়ার কারণে কোচটি রাতের বেলায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে পড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা জানান, ট্রেনটি যখন উলিপুর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে, তখন হঠাৎ করে কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে তারা বিষয়টিকে যান্ত্রিক ত্রুটি মনে করেন। পরে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা তদন্ত করে জানতে পারেন, কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হয়েছে। ফলে যাত্রীদের অন্ধকার ও গরমের মধ্যে যাত্রা করতে হয়।
ট্রেনে থাকা যাত্রী নিয়ামত আলী বলেন, "হঠাৎ করে পুরো কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা লোকজন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোচের তার চুরি হয়েছে। এরপর অন্ধকার ও গরমের মধ্যেই আমাদের থাকতে হয়েছে।"
আরেক যাত্রী কফিল উদ্দিন বলেন, "হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে আমরা তার চুরির বিষয়টি জানতে পারি।"
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে রমনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচে এই ঘটনা ঘটে। উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে বালাবাড়ি এলাকায় কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কখন বা কিভাবে তারগুলো চুরি করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বে থাকা শিউলি বেগম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু জানি না। ২৭ সেপ্টেম্বর রমনা কমিউটার ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক এ বিষয়ে বলতে পারবেন।"
উলিপুর স্টেশনের ইনচার্জ আবিদ বলেন, "আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমার মূল দায়িত্ব পীরগাছায়। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না।"
২৭ সেপ্টেম্বর ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক অজিত রায় বলেন, "আমি সঠিকভাবেই দায়িত্ব পালন করে এসেছি। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি এবং কোনো অভিযোগও করেনি। পাওয়ার কার থেকে আমাকে জানানো না হলে আমি কিভাবে জানব? আমাদের ট্রেনে ইলেকট্রিশিয়ান থাকেন। এ ধরনের বিষয় সাধারণত তিনিই দেখেন।"
এদিকে কুড়িগ্রাম-রমনা সেকশনের রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, রেললাইনে পাথর দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেসব পাথর বস্তায় করে এলাকার লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার এমন অভিযোগের মধ্যেই এবার ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটল।
রেলওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "রেলওয়ে নিরাপত্তায় লোকবল সংকট রয়েছে। এ কারণে ওই ট্রেনে আমরা নিরাপত্তাকর্মী দিতে পারিনি। সামনে নিয়োগ হলে লোকবল পাওয়া গেলে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "তার চুরির বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি।"
চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের সম্পদ চুরি ও রেলপথের উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ট্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রমনা কমিউটার বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মিত কমিউটার ট্রেনগুলোর একটি। ট্রেনটি কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এ পথে রমনা বাজার, বালাবাড়ী, উলিপুর, পাঁচপীর, পুরাতন কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, তিস্তা জংশন ও কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্টেশন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ