সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৪ পি.এম
কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে রংপুরগামী রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচ থেকে বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনা ঘটে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী বালাবাড়ি এলাকায়।
তার চুরি যাওয়ার কারণে কোচটি রাতের বেলায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে পড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা জানান, ট্রেনটি যখন উলিপুর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে, তখন হঠাৎ করে কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে তারা বিষয়টিকে যান্ত্রিক ত্রুটি মনে করেন। পরে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা তদন্ত করে জানতে পারেন, কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হয়েছে। ফলে যাত্রীদের অন্ধকার ও গরমের মধ্যে যাত্রা করতে হয়।
ট্রেনে থাকা যাত্রী নিয়ামত আলী বলেন, "হঠাৎ করে পুরো কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা লোকজন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোচের তার চুরি হয়েছে। এরপর অন্ধকার ও গরমের মধ্যেই আমাদের থাকতে হয়েছে।"
আরেক যাত্রী কফিল উদ্দিন বলেন, "হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে আমরা তার চুরির বিষয়টি জানতে পারি।"
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে রমনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচে এই ঘটনা ঘটে। উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে বালাবাড়ি এলাকায় কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কখন বা কিভাবে তারগুলো চুরি করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বে থাকা শিউলি বেগম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু জানি না। ২৭ সেপ্টেম্বর রমনা কমিউটার ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক এ বিষয়ে বলতে পারবেন।"
উলিপুর স্টেশনের ইনচার্জ আবিদ বলেন, "আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমার মূল দায়িত্ব পীরগাছায়। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না।"
২৭ সেপ্টেম্বর ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক অজিত রায় বলেন, "আমি সঠিকভাবেই দায়িত্ব পালন করে এসেছি। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি এবং কোনো অভিযোগও করেনি। পাওয়ার কার থেকে আমাকে জানানো না হলে আমি কিভাবে জানব? আমাদের ট্রেনে ইলেকট্রিশিয়ান থাকেন। এ ধরনের বিষয় সাধারণত তিনিই দেখেন।"
এদিকে কুড়িগ্রাম-রমনা সেকশনের রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, রেললাইনে পাথর দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেসব পাথর বস্তায় করে এলাকার লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার এমন অভিযোগের মধ্যেই এবার ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটল।
রেলওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "রেলওয়ে নিরাপত্তায় লোকবল সংকট রয়েছে। এ কারণে ওই ট্রেনে আমরা নিরাপত্তাকর্মী দিতে পারিনি। সামনে নিয়োগ হলে লোকবল পাওয়া গেলে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "তার চুরির বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি।"
চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের সম্পদ চুরি ও রেলপথের উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ট্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রমনা কমিউটার বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মিত কমিউটার ট্রেনগুলোর একটি। ট্রেনটি কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এ পথে রমনা বাজার, বালাবাড়ী, উলিপুর, পাঁচপীর, পুরাতন কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, তিস্তা জংশন ও কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্টেশন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিএনপির "সুধী সমাবেশ" অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপি এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
৪নং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আওলাদ হোসেন হাওলাদার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর হোসেন মৃধা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী, সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ আনোয়ার হোসেন সিকদার, মোঃ আমিনুল ইসলাম খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোঃ ফিরোজ আলম গোলদার, এ্যাডভোকেট মোঃ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল হোসেন মৃধা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গাজী আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আবুল বাসার মোকলেচসহ ছাত্র দল, যুবদল, শ্রমিকদল, মহিলাদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি উল্লেখ করেন, বিএনপির মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। তিনি বলেন, "কোনো বিভেদ নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে।" এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কেও বক্তব্য প্রদান করেন। স্থানীয় জনগণের কল্যাণে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষকের মাঠে ফসলের হাসি ফোটাতে দিনরাত ছুটে চলেন তারা। কখনো কাদামাটি মাড়িয়ে, কখনো রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে পৌঁছে দেন কৃষকের দোরগোড়ায়। কৃষকের জমি পরিদর্শন, সরকারি প্রনোদনা বিতরণ কিংবা কৃষি বিভাগের নানা কর্মসূচি- সবখানেই তাদের হাতে থাকে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে। কিন্তু কৃষির সেই চাকা সচল রাখা মানুষগুলোর নিজেদের সংসারের চাকা যেন থমকে গেছে। ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিসে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া গাড়ি চালকেরা একটানা প্রায় এক বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তারা নিয়মিত কাজ করছেন, কিন্তু মাস শেষে তাদের পরিশ্রমিক মিলছে না।
ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর, শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া গাড়ি চালকরা এমন সংকটে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কৃষি অফিসের গাড়িচালক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। শুরুতে একটি প্রকল্পের আওতায় বেতন পেতেন। চাকরি জীবনে বিভিন্ন সময় বেতন পেতে দেরি হয়েছে, এমনকি বেতন বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত টানা বেতন বন্ধ। আব্দুর রাজ্জাক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের ধানহাড়িয়া-চুয়াডাঙ্গা গ্রামে বাস করেন। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের গাড়ি চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। একটি মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ছে এবং একটি ছেলে মাত্র ১৬ মাস বয়সী। সংসারের আয় বলতে এখন স্ত্রীর দর্জির কাজ থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ। বেতন বন্ধ থাকার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক আবেগাপ্রবণ হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, “২০১৩ সাল থেকে চাকরি করছি। এত বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বেতন দেরি হয়েছে, বেতন বন্ধ ছিল তারপরও চাকরি ছেড়ে দিইনি। কারণ এই চাকরিটাই আমার পরিবারের ভরসা। কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে এক টাকাও বেতন পাইনি। প্রতিদিন অফিসের গাড়ি নিয়ে বের হই, কর্মকর্তাদের নিয়ে মাঠে যাই, কৃষকের কাছে যাই। অথচ নিজের সন্তানদের জন্য ঠিকমতো খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়েটা পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। তার স্কুলের খরচ আছে, পড়াশোনার খরচ আছে। ছোট ছেলেটার বয়স মাত্র ১৬ মাস। ওর জন্যও কত কিছু দরকার। মেয়েটা কিছু চাইলে অনেক সময় বলতে হয়- এখন না, পরে দেব। কিন্তু সেই 'পরে' আর আসে না। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?”
স্ত্রীর দর্জির কাজের কথা উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমার স্ত্রী সেলাইয়ের কাজ করে। ওই আয় দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছে। একদিকে বাজারের খরচ, অন্যদিকে সন্তানদের পড়াশোনা- সব মিলিয়ে খুব কষ্টে আছি। ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। মানুষের কাছে হাত পাততেও লজ্জা লাগে। আমরা তো কাজ করছি, আমাদের বেতনটা চাইছি; কারও দয়া চাইছি না।” তার ভাষায়, “সারাদিন অন্যের সংসারের কাজ সচল রাখতে গাড়ি চালাই। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গেলে কৃষকের কাজ হয়, কৃষকের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে। কিন্তু দিন শেষে যখন নিজের ঘরে ফিরি, তখন মনে হয়- আমার সংসারের চাকা কেন চলছে না? গাড়ির চাকা থামলে ঠিক করা যায়, কিন্তু সংসারের চাকা থেমে গেলে সন্তানদের মুখের দিকে তাকানো খুব কঠিন।” আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, “আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। বেতন পাব- এই আশায় এতদিন ধরে কাজ করছি। এখন শুধু চাই, আমাদের বেতন চালু করে বকেয়া বেতনগুলো পরিশোধ করা হোক।”
শুধু আব্দুর রাজ্জাক নন, জেলার অন্য উপজেলা কৃষি অফিসে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া গাড়ি চালকদের একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কেউ দোকানে বাকি করছেন, কেউ স্বজনের কাছ থেকে ধার করছেন, আবার কেউ পরিবারের খরচ মেটাতে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। গাড়ি চালকেরা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি, কৃষকের জমি পরিদর্শন, সরকারি প্রনোদনা বিতরণ এবং কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিয়মিত তাদের গাড়ি চালাতে হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকলেও বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসারের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “বেতন না পাওয়ায় দোকানে বাকি হয়েছে, মানুষের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে। সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে না পারলে একজন বাবার যে কষ্ট হয়, সেটা ভাষায় বলা যায় না। অফিসের গাড়ি ঠিকমতো চলার জন্য যেমন জ্বালানি লাগে, আমাদের সংসার চালাতেও তো টাকার প্রয়োজন। আমরা কাজ করছি, তাই আমাদের প্রাপ্য বেতনটুকু সময়মতো পাওয়াই আমাদের দাবি। আমরা কারও কাছে সাহায্য চাই না। শুধু চাই, যে কাজ করছি তার ন্যায্য পারিশ্রমিক যেন পাই এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করা হয়।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া গাড়ি চালকদের বেতন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা খুবই নিম্নআয়ের মানুষ। মাসের পর মাস বেতন না পাওয়ায় তাদের সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা- সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই তাদের কষ্ট আমাদের চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। একজন মানুষ সারাদিন দায়িত্ব পালন করার পরও যদি মাস শেষে তার পারিশ্রমিক না পান, তাহলে তার পরিবারের ওপর কী ধরনের চাপ পড়ে, সেটা সত্যিই বেদনাদায়ক। আমরা বিষয়টি নিয়ে নিজেরাও উদ্বিগ্ন। দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা হলে এই অসহায় মানুষগুলোর পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গর্তে হাত দেওয়ার পর অজ্ঞাত প্রাণীর কামড়ে আড়াই বছরের একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার সকালে উপজেলার চরহেয়ারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চরহেয়ারে পরিবারের অস্থায়ী বসতঘরের পাশে খেলাধুলা করছিল রাইসা মনি। খেলাধুলার এক পর্যায়ে সে একটি গর্তে হাত দিলে, গর্তের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণী তার হাতে কামড় দেয়। এতে শিশুটি চিৎকার করতে করতে মায়ের কাছে চলে যায়।
শিশুটির মা কামড়ের স্থান দেখে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের দিকে রওনা হন।
কিন্তু চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। নিহত রাইসা মনি রাকিব মল্লিকের কন্যা। তাদের মূল বাড়ি রাঙ্গাবালীর সেনের হাওলা গ্রামে অবস্থিত। রাকিব মল্লিক মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং বর্তমানে চরহেয়ারে পরিবারের অস্থায়ী বসতিতে বসবাস করছেন তারা।
স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে সাপ কিংবা কোনো বিষাক্ত পোকামাকড় কামড় দিয়েছে। তবে কী প্রাণী তাকে কামড় দিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোমবার সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করেছেন, কেক কেটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উজিরপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগি সংগঠনের ব্যানারে একটি ঘরের রুমের মধ্যে বসে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুরের বরাকোঠা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হেলাল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালিছ মাহামুদ শাওন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. শাওন বালী, শোলক ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, বামরাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হাওলাদার, যুবলীগ নেতা ওসমান তালুকদার, জল্লা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. আসলাম, জল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি অমল রায়, সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, শোলক ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মামুন হাওলাদার।
তবে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য উল্লেখিত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিটি নম্বর বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উজিরপুরের কোথাও প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। কেউ ঘরের মধ্যে বসে লুকিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কিনা, সে ব্যাপারে থানার কাছে কোন তথ্য নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ