ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হোটেল মালিকের হাতুড়ির আঘাতে কর্মচারী নিহত, আটক অভিযুক্ত


হোটেল মালিকের হাতুড়ির আঘাতে কর্মচারী নিহত, আটক অভিযুক্ত

রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকায় হাতুড়ি দ্বারা পিটিয়ে শাওন (২৫) নামের এক কর্মচারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে এক হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, চালক আহত

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকায় হঠাৎ করে মিজানুর রহমান মনু হাতে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে শাওনের ওপর হামলা করেন। তিনি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর কয়েকটি আঘাত করেন।

এতে গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাওন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, আমরা হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। পরে সে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা মিলে তাকে হাসপাতালে পাঠায়, কিন্তু চিকিৎসক জানান, সে মারা গেছে।

আরও পড়ুন: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের দাবি, এই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: পাইকগাছায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, কর্মস্থল সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অথবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত শাওনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

আরও পড়ুন: সাজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি, ফের আটকা ৩ হাজার পর্যটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব বাধা পেরিয়ে নগর উন্নয়নে এগিয়ে যাবে ডিএনসিসি: শফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৮ এম


সব বাধা পেরিয়ে নগর উন্নয়নে এগিয়ে যাবে ডিএনসিসি: শফিকুল ইসলাম

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগর উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে যত বাধা-বিপত্তি এবং ষড়যন্ত্রই আসুক না কেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রাখা হবে।

রাজধানীর মিরপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিশু সুরক্ষায় শিশু ও যুব কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, ‘৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছি। ভালো কাজের পথে প্রতিবন্ধকতা থাকবেই, কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না; সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, একসময় অবশ্যই সফল হব।’

তিনি নগর উন্নয়নে শিশু, অভিভাবক এবং নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো কাজের ক্ষেত্রে সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

তিনি বাসা-বাড়ি, ছাদ, ছাদবাগান এবং আশপাশের স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে মশার প্রজনন রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, 'ক্লিন ঢাকা-গ্রিন ঢাকা' বাস্তবায়ন করতে হলে আগে নগরকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে, এরপর সবুজায়নের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

শিশু সুরক্ষা এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রশংসা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, লেগুনা, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে কর্মরত শিশুদের কল্যাণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিশুদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর জন্য সচেতনতামূলক এবং উন্নয়নমূলক সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি ডিএনসিসির জনসেবামূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যথাযথভাবে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশীয় শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: ফকির মাহবুব আনাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৯ এম


দেশীয় শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: ফকির মাহবুব আনাম

সরকার দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে, উৎপাদন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মন্ত্রী আজ খুলনায় বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড এর কার্যক্রম পরিদর্শন করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় এই কথা বলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড দেশের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে যেতে হবে, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড বিভিন্ন প্রজন্মের ক্যাবল উৎপাদন করে। এখানে ক্রমাগত পুরোনো প্রযুক্তির বদলে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সাথে কার্যকর পরিকল্পনা, মার্কেটিং নীতি গ্রহণ এবং দ্রুত বিতরণ ও প্রোঅ্যাকটিভ মার্কেটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানকে নিজের ভাবতে হবে, তবেই প্রতিষ্ঠানের উন্নতি সম্ভব। বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লি.-এর উন্নয়নে যা যা করা দরকার তাই করা হবে বলে মন্ত্রী কর্মকর্তা কর্মচারীদের আশ্বস্ত করেন।

মন্ত্রী ঘুরে দেখেন প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম, উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মন্ত্রী উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন এবং সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

নিরীক্ষণ ও পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড প্রাঙ্গণে দেশি আমের চারা রোপণ করেন এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট ২০২৬-২৭ প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও বাস্তবায়নের পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সম্পাদকীয়

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১২ এম


বাজেট ২০২৬-২৭ প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও বাস্তবায়নের পরীক্ষা

জাতীয় বাজেট শুধুমাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং উন্নয়ন কৌশলের প্রতিফলন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটও এই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সরকারের প্রথম বড় নীতিগত ঘোষণাপত্র। এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহ, মানব উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেটের সাফল্য বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। সরকার পরবর্তী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশ গত কিছু বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি মনে করছে, এই অবস্থায় মূল্যস্ফীতি দ্রুত সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো সহজ হবে না। জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। বাজেটের ইতিবাচক দিক হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া। সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবস্থান প্রমাণ করে যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করতে আগ্রহী। পাশাপাশি, তরুণ উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কর-সুবিধা ও প্রণোদনার উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনাময় বার্তা বহন করে। তবে উদ্বেগের বিষয়ও রয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাপক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। বিশেষভাবে, ব্যাংকিং খাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি ও বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি, রাজস্ব আহরণের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করাও সহজ হবে না। চলমান অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে। করের আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক হলেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করা কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বাস্তবতা এবং জনভোগান্তির বিষয়টি সামনে আনা দরকার। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। অতএব, এই বাজেটের মূল পরীক্ষা হচ্ছে বাস্তবায়ন। ঘোষিত লক্ষ্য, সংস্কার এবং অগ্রাধিকারগুলো যদি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হতে পারে। অন্যথায়, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো কেবল কাগজের স্তরে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ দিনে দেশে এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৩ এম


১৫ দিনে দেশে এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১৬২ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে গণনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরিফ হোসেন খান জানান, সোমবার (১৫ জুন) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ১৩ কোটি ৩০ লাখ ১২ হাজার টাকা। গত বছরের জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। সুতরাং, সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে তিন হাজার ৪৩৮ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%