ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঋণের টাকায় ‘তেলেসমাতি’ আর্জেন্টিনাভক্ত ভ্যানচালকের


ঋণের টাকায় ‘তেলেসমাতি’ আর্জেন্টিনাভক্ত ভ্যানচালকের

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন সুমনের জীবন বদলে যায়। নাম সুমন, তবে এলাকাবাসী তাঁকে ‘মেসি সুমন’ নামেই বেশি জানেন। আর্জেন্টিনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ভ্যানচালক এবারও আয়োজন করেছেন এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় সুমন নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।

কিন্তু এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর কাহিনী। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে সুমন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। সেই অর্থ তিনি ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং এবং বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য সুমন বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও করেছেন।

সুমনের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। তিনি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে ভ্যান চালান। সংসারে অভাব-অথচ ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারে না।

সুমন বলেন, "ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।"

তার স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, "কয়েক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম আমি দেখছি। সংসারের অভাব থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে আমি মেনে নিয়েছি।"

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সুমন একজন খুবই দরিদ্র ব্যক্তি। ভ্যান চালিয়ে কেমনে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ আসলে তিনি ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন এবং খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এই কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামেই পরিচিত।

ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর পরিচয়ের অংশ। আর ময়মনসিংহের ‘মেসি সুমন’ সেই আবেগের ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তার নিজের শ্রম ও ঋণের টাকায় প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি এলাকার একটি অনন্য চরিত্র হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী ব্যাংকের গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুটসহ সবকিছুর তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


ইসলামী ব্যাংকের গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুটসহ সবকিছুর তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে যে গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুট, রাজনৈতিক নিয়োগ ও ঋণ জালিয়াতি হয়েছে, এসবের সুষ্ঠু তদন্ত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি মন্তব্য করেন, ইসলামী ব্যাংক এবং জামায়াতে ইসলামী মানেই 'ইসলাম' নয়। তিনি আরও বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে সবকিছু থেকে বাঁচার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে সাধারণ আলোচনার ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

এই প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেন।

ব্যাংকটির সাবেক নিয়ন্ত্রকদের (জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট) বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে...’।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে, তাকবির দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে গেলে যে কী যাতনা, তা আমরা বুঝি। এখন পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক সাজিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করানো হচ্ছে। ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না বলে দোহাই দেওয়া হচ্ছে।

মাননীয় স্পিকার, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।

ব্যাংকটির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নারী গ্রাহক নির্ভর একটি প্রকল্প। ভোটের আগে এই প্রকল্প থেকে নারীদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে বলা হয়েছে— কোরআনের দলে ভোট না দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না, ভোট দিলে জান্নাত মিলবে এবং আরও ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।

এই আরডিএস প্রকল্পে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো হদিস নেই।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে। দুষ্টু লোকেরা বলে সেই টাকা একটি দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে এবং একটি টিভি চ্যানেল খোলা হয়েছে। লান্তাবুর গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সিএসআর ফান্ডের টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বিমানের টিকিট কাটা হয়েছে। এগুলোর সবকিছুর তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকে গণহারে চাকরিচ্যুতি ও রাজনৈতিক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি দখল করার পর কোনো আইন-কানুন না মেনে অন্যায়ভাবে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিপরীতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই-তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম ইসলামের নামেই হয়েছে। অন্যায়ভাবে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ নীতি অনুসারে তিনি বেনিফিট পাবেন। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৫৭ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্ষদ বাতিল বা নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে।

বিরোধীদের শেয়ার ফেরত দেওয়ার দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইবনে সিনা ব্লক মার্কেটে তিনগুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে, যা একটি রেকর্ড। তবে যারা বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডার, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের লাখো কোটি টাকা পাচারসহ বিগত সময়ে দেশের যত টাকা পাচার হয়েছে, সবকিছুর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, এখানে আরডিএস নামে একটা প্রকল্প আছে। সেই প্রকল্প হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প নামে। যেখানে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া যায়। নারী গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা করে অনেক নারীকে দেওয়া হয়েছে। লাইনে এক ভোটারকে আমার এক কর্মী জিজ্ঞেস করেন ‘মা আপনি কোথায় ভোট দেবেন- বলছে বাবা, কোরআনের দলে না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে, বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে, আরও ১০ হাজার টাকা পাবো। মুনাফা হিসাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছে। এই আরডিএস প্রকল্পের মধ্যে কত হাজার কোটি টাকা ডিস্ট্রিবিউট হয়েছে জানেন- ২২ হাজার কোটি টাকা। ১১ হাজার কোটি টাকা আগে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এর কোনো হদিস নেই। একজন নারী ভোটারের কথা তো বললাম।

তিনি আরও বলেন, আজকে ইন্টারেস্টিংলি দেখছি আমাদের এনসিপির বন্ধুরা কেউ নেই। আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে কী বয়কট করলেন কিনা জানি না, কেউ বক্তব্যও দেয়নি, আমি চেয়ারগুলো খালি দেখে বলতেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধীদলীয় নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধীদলীয় নেতা

এটি আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট) তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপন করার সময় এ কথা জানান।

শফিকুর রহমান ৬৮ বিধিতে দাঁড়িয়ে বলেন, যেহেতু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসে। যেহেতু সে সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের অব্যাহত অপপ্রচার এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাজনৈতিক হয়রানি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জন করে। সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদি সরকার নজিরবিহীন উপায়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং ব্যাংক লুটপাট ও নিয়মের মাধ্যমে শুধুমাত্র এই ব্যাংকেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে ব্যাংকের মুনাফা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশ এসে পড়ছে। যেহেতু ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হচ্ছিল।

শফিকুর রহমান আরো বলেন, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ঠিক সেই সময় আবারও পুরো ব্যাংক দখলকারী চক্রের দৃষ্টি ব্যাংকটির দিকে পড়েছে। নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় যে যৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে…

এ সময় স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা আপনি তো পরে আবার বলতে পারবেন।

এ পর্যায়ে সব কিছু পরে আবার বলবেন। এই কারণে পুরো নোটিশটি পড়তে পারেননি বিরোধীদলীয় নেতা।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের দেওয়া লিখিত নোটিশের বাকি অংশে উল্লেখ করা হয়, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধা দেওয়া হয়েছে।

যেহেতু, ব্যাংকটিকে ‘জামায়াতের প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনমনে এ ধরনের ধারণা যে একেবারেই নেই, তা বলা যাবে না। তবে একই সঙ্গে এটাও অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, যেই ব্যবস্থাপনাকে ‘জামায়াতপন্থী’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রেখেই দেশের লাখো গ্রাহক ব্যাংকটিতে বিপুল পরিমাণ আমানত রেখেছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই ব্যবস্থাপনাও সততা, দক্ষতা ও পেশাদারির মাধ্যমে এই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংককে বিশ্বের অন্যতম সফল ও মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী ব্যাংকে পরিণত করেছে।

যেহেতু, অতীতে জামায়াতি ব্যবস্থাপনার অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল এবং যার পরিণতিতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আজ আবারও একই কৌশলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এর ফল যে ব্যাংক, গ্রাহক কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একদিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা আমানত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা আস্থার সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।

সেহেতু, দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিষয়টি কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এই সংসদে অবিলম্বে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজনীয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীদের নগ্ন ছবি জমা করাই আলিফের নেশা, বাদ যায়নি নিজের স্ত্রীও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


নারীদের নগ্ন ছবি জমা করাই আলিফের নেশা, বাদ যায়নি নিজের স্ত্রীও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীদের ফাঁপে ফেলে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণের পর সেগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মো. আলিফ হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার (৮ জুন) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে নওগাঁর ধামইরহাট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আলিফ হোসেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চরবিরসিংহ এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার এক তরুণীর নগ্ন ও আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্তে নামেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার অ্যানালাইসিস ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযুক্ত আলিফের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর আলিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পুলিশ জব্দ করেছে। এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তল্লাশিতে মোবাইলটিতে ধামইরহাটের ওই তরুণী ছাড়াও আরও তিন মেয়ের আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি পাওয়া গেছে। এমনকি নিজের স্ত্রীর নগ্ন ভিডিওও তিনি মোবাইলে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আলিফ স্বীকার করেছেন যে, তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে প্রথমে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। এরপর তিনি কৌশলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা মোবাইলে জমিয়ে রাখতেন। পরবর্তীতে এসব ছবি দিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল বা জিম্মি করে বিভিন্ন ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করতেন। মূলত এই ঘৃণ্য অপরাধের মাধ্যমে তিনি এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পেতেন।

গ্রেপ্তার আসামিকে ইতোমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাচসেরা হয়ে যা বললেন মোসাদ্দেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


ম্যাচসেরা হয়ে যা বললেন মোসাদ্দেক

টানা ৪ বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে সবশেষ ডিপিএলের দুর্দান্ত পারফরম করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, ডাক পান অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। আর এই সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) প্রথম ওয়ানেডেতে ব্যাটে-বলে পারফরম্যান্স করে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন উপহার দিয়েছেন তার ভক্তদের। সেই সঙ্গে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে মোসাদ্দেকের হাতে। 

ম্যাচ শেষে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘প্রথমবার যখন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলাম, ফিলিংসটা ঠিক একই রকম ছিল।’

এদিন দলের খারাপ সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর শেষদিকে খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস বাংলাদেশকে এনে দেয় লড়াকু সংগ্রহ।

স্লগ ওভারে একজন ফিনিশারের যা করার কথা, মোসাদ্দেক যেন ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন। দলের দায়িত্ব নিয়েছেন, নিজে রান করেছেন, লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে গড়েছেন জুটি। ব্যাটের পর বল হাতেও সমান কার্যকর মোসাদ্দেক। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে শিকার করেছেন ২ উইকেট।

প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙার পাশাপাশি দলকে এনে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্রেকথ্রু। ফলে দীর্ঘদিন পর সুযোগ পেয়েই বাংলাদেশের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২২ সালে। প্রায় চার বছর পর আবারও সুযোগ পেয়ে ব্যাট ও বল হাতে এমন পারফরম্যান্স করেছেন, যাতে দীর্ঘ বিরতির কোনো ছাপই দেখা যায়নি। বরং সুযোগটা দুই হাতে লুফে নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%