প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন সুমনের জীবন বদলে যায়। নাম সুমন, তবে এলাকাবাসী তাঁকে ‘মেসি সুমন’ নামেই বেশি জানেন। আর্জেন্টিনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ভ্যানচালক এবারও আয়োজন করেছেন এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।
আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় সুমন নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।
কিন্তু এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর কাহিনী। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে সুমন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। সেই অর্থ তিনি ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং এবং বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য সুমন বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও করেছেন।
সুমনের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। তিনি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে ভ্যান চালান। সংসারে অভাব-অথচ ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারে না।
সুমন বলেন, "ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।"
তার স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, "কয়েক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম আমি দেখছি। সংসারের অভাব থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে আমি মেনে নিয়েছি।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সুমন একজন খুবই দরিদ্র ব্যক্তি। ভ্যান চালিয়ে কেমনে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ আসলে তিনি ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন এবং খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এই কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামেই পরিচিত।
ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর পরিচয়ের অংশ। আর ময়মনসিংহের ‘মেসি সুমন’ সেই আবেগের ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তার নিজের শ্রম ও ঋণের টাকায় প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি এলাকার একটি অনন্য চরিত্র হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন