০১:৩৯ পি.এম
দীর্ঘকাল ধরে চলা উত্তেজনা শেষে আবারও রক্তাক্ত হলো পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। কিছু সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত অবস্থা সত্ত্বেও, নতুন করে একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে। নিহতদের ক্ষেত্রে নারী এবং শিশুর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশের বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: অ্যাম্বুলেন্স সেবায় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ, রোগী ও স্বজনরা জিম্মি
খোস্ত প্রদেশের একটি বসতবাড়িতে হামলার পর ৯ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় এক কর্মকর্তা। একই সময়ে, পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেক হামলায় তিন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।
তবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা সরকার। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই দাবি করা হয়েছে যে, সীমান্তের ওপারের কেবল সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের ফেব্রুতরীতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত প্রবল আকার ধারণ করেছিল। এরপর কিছুটা বিরতি ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম তিন মাসে দুই দেশের সংঘাতে শত শত বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবান আবার ক্ষমতায় এসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক টানাপোড়েনে রয়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআইনির্ভর সাইবার হামলার ঝুঁকি
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে এই ধরনের হামলা চলতে থাকলে শুধুমাত্র নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, বরং দুই দেশের বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্য সূত্র- এপি নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন