১১:১৪ পি.এম
যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকট আর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্বজনদের খোঁজার এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরানিরা। একদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের হামলার ধ্বংসলীলা, অন্যদিকে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক চরম স্থবিরতা ও হতাশা।
তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ডেটা অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন ৩৩ বছর বয়সী বিজন। আল জাজিরাকে তিনি জানান, তিন বছর আগেও তার মাসিক বেতন ছিল এক হাজার ডলারের বেশি। কিন্তু মূল্যস্ফীতি তার আয়ের বড় অংশই কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, তিনবার বেতন বাড়ার পরও আমার বর্তমান বেতন ৫০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি দিন দিন এতটাই খারাপ হচ্ছে যে, এক দশক আগে স্নাতক শেষ করেই দেশ না ছাড়ার জন্য এখন আক্ষেপ করেন এই তরুণ।
রাজধানীর আরেক তরুণ সাসানের কণ্ঠেও একই হতাশার সুর। তার মতে, যখনই বাইরের আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে, তখনই দেশের ভেতরে কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে। সাসান বলেন, মাঝেমধ্যে আমি চরম হতাশার যন্ত্রণা অনুভব করি। সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছি, অথচ দেখছি সবকিছুই আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ এখন আর নিজের হাতে নেই।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তরুণদের এই অর্থনৈতিক ও মানসিক পঙ্গু দশার পাশাপাশি দেশটিতে চলছে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ৭ হাজার ২৫০ জনকে উদ্ধার করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট।
সংস্থাটির ইরানি শাখার প্রধান পীরহোসেন কোলিভান্দ জানান, বিমান হামলার মতো চরম বৈরী ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীদের কাজ করতে হচ্ছে। তবে এই যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রেড ক্রিসেন্ট নীরব থাকবে না। মানবিক অবকাঠামোর ওপর হওয়া হামলার প্রমাণ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোতে পাঠানো হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন