ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ?


মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হয়ে উঠছে।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং একই দিনে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার ফলে সংঘাতটি নতুন মাত্রা পেল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আঞ্চলিক যুদ্ধের মাত্রা আরও বিস্তৃত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থানরত তাদের বাহিনীর ওপর একটি ‘আকস্মিক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

তবে রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত, হামলার সময়ে কোনটি আগে ঘটেছে—ইরানের হামলা বা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির পাল্টা অভিযান, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার ভোরে ইরানের আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সেন্টকম হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন ঘাঁটি বা সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। এছাড়া জর্ডান সরকারও এ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

আইআরজিসির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের নির্দেশে পরিচালিত এসব গোষ্ঠী গত ৭২ ঘণ্টায় অন্তত ৩০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো। ইরাকের জনপ্রিয় মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা এবং দিয়ালা—এই সাতটি প্রদেশে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা আহতদের সংখ্যা প্রাথমিকটাই বলেছে এবং মাঠপর্যায়ের পুরো মূল্যায়ন শেষে তা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন।

ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল স্থপনায় যা ড্রোন হামলা হয়েছে, সেটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছে এবং এর পিছনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা রয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক নামের ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী। তারা সৌদি আরবের অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ মনগড়া' বলে উল্লেখ করে সতর্ক করে দিয়েছে যে, সৌদি আরব যদি কোনও ‘বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ’ নেয়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির মাধ্যমে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা ‘মারাত্মক ভুল হিসাব’।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তা গবেষক বুরজু ওজচেলিক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলো একদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে। তাঁর ভাষায়, ওমান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছে, যা তেহরানের প্রতি একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক ছাড় হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সময়ে ওয়াশিংটনে সফর করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তবে সামরিক চাপও সমানভাবে বজায় রয়েছে।”

আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার

বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার কৌশল অনুসরণ করছে। ২০২৬ সালের মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, জর্ডানে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের কিছু অংশ মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, কিং ফয়সাল বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়া-ইরাক সীমান্তসংলগ্ন টাওয়ার-২২ সামরিক লজিস্টিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছে।

ওজচেলিকের মতে, জর্ডানে সর্বশেষ হামলা দেখাচ্ছে যে, ইরান এখনও প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রধান উপায় হিসেবে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরে অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং সৌদি পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সৌদি আরবকে বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার যেকোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির বিরতি কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যা কাজে লাগাতে না পারলে পরিস্থিতি আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষক বুরজু ওজচেলিক মনে করেন, আপাতত সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র হলো—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলতে থাকবে, পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এই সংঘাত যদি দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলার রূপ নেয়। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর সরাসরি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হলে বা হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হামলা আরও বাড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন ও আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ সময়ের দাবি: জাকারিয়া তাহের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ সময়ের দাবি: জাকারিয়া তাহের

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, নিশ্চিত সূচিতে পরিকল্পিত নগরায়ণ অগ্রসর করা এবং নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে সবুজ ভবন ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ কাজের জন্য এটি এখন সময়ের বড় দাবি। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্বল্প-কার্বন নকশার ব্যবহার কার্বন নিঃসরণ কমানোতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে আমাদের।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে টেকসই ভবন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত কর্মশালা: সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল নির্মিত পরিবেশের পথে’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আরো বলেন, ২০৩৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নগরবাসীর সংখ্যা গ্রামীণ জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৫৬ শতাংশের বেশি মানুষ শহরে বসবাস করবে। সেজন্য, শীঘ্রই নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে টেকসই নির্মাণব্যবস্থা তৈরির কোন বিকল্প নেই।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মশালার সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে টেকসই এবং সবুজ নির্মাণব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিগণ, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশকে এগিয়ে নিতে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


দেশকে এগিয়ে নিতে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। 

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল আরো জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী সবসময় চিন্তা করেন কী ধরনের পরিবর্তন আনলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে তার কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ডিসকোর্স ন্যাশনালস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

এ সময় মন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল যে, দেশের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বলেন যে, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হবে এমন ভাবনা ঠিক নয়। দেশের তরুণেরা তাদের মেধা, সামর্থ্য এবং দেশপ্রেম ব্যবহার করে অসম্ভবকে সম্ভব করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ছাত্র-তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগের প্রয়োজন। তিনি জানান, প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে এবং এ নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন যে, দেশে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন। বারবার হোঁচট খাওয়া আমাদের নিয়তি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাসিত জীবন থেকে ফিরে এসে প্রথমেই একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনার বিকল্প নেই এবং সেই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আশাবাদী জানান দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, এই দেশে তরুণরা ফ্যাসিবাদকে দূর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তিনি এই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তরুণদের প্রতি তার বিশ্বাস এবং ভরসা রয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে, যা আমাদের শক্তি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, আমরা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে যেতে পারব।

মির্জা ফখরুল তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট সহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তরুণদের শক্তি এবং অসীম আকাঙ্ক্ষা দেশের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তিনি শেষ করার আগে বলেন, বাংলাদেশ অতীতে বহুবার ধাক্কা খেয়েছে, কিন্তু প্রতিবার ফের উঠে দাঁড়িয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এবারও দেশ পুনরুদ্ধার হবে এবং সমস্ত বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা হিসেবে বক্তব্য দেন আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আশরাফুল হক, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ ডায়ালগের চেয়ারম্যান রুবাইয়াত মান্নান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালের রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


২০২৭ সালের রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের কাছে পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চাঁদ দেখার ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করলেও, জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাবের মাধ্যমে আগেই সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায়, ২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮) পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জর্ডান নিউজ।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডারভিত্তিক একটি ওয়েবসাইটেও একই দিনকে রমজানের সম্ভাব্য প্রথম দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি সনের শাবান মাসের ২৯ তারিখ, অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা হবে। তবে সেদিন নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায়, শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) হবে শাবান মাসের শেষ দিন এবং ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই প্রতিবেদনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচিও জানানো হয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের রমজান মাস ২৯ দিনের হতে পারে। সেই হিসাবে ৮ মার্চ (সোমবার) রমজান শেষ হবে এবং ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এগুলো শুধুই জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক সম্ভাব্য হিসাব। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ প্রতি বছরের মতো স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাঘাটায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহীন আলম, স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


সাঘাটায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধা সাঘাটায় আগামীর প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং সমাজে মদকের বিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সাঘাটায় একটি মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সাঘাটা বাজারের প্রধান সড়ক দিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে স্থান পায়, যা বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাঘাটা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। এরপরে সেখানে একটি সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজহারুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তৃতা দেন সাঘাটা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিরাজুল ইসলাম, সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) পবিত্র কুমার, সাব-ইন্সপেক্টর বুলবুল ইসলাম, বদিউজ্জামান বাবলু, নাজির হোসেন, সুজিত কুমার সাহা, আব্দুর রাজ্জাক, আবু সাঈদ, মুরাদ, রানা, অপু। বক্তারা জানান, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিই নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরো বলেন, আগামীর প্রজন্মকে সুস্থ, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। র‍্যালি ও সমাবেশে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের সাথে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটির শেষতে সকল উপস্থিত ব্যক্তি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%