০২:২২ পি.এম
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক জেনারেল সতর্ক করেছেন যে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেছেন, যদি ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে একই সময়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তার এই মন্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে— এই দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌ-সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ।
তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমসই চাপ বাড়ছে। যেহেতু তিনি মনে করেন, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে একসময় কমান্ডারদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব শুধুমাত্র সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণেই নয়, বরং এটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন। এ কারণে এটি বেশ গুরুদ্বপূর্ণ।
গ্রিনকেভিচ মার্কিন বাহিনীর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোন বিশ্লেষক নন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তদারকির দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। তার বক্তব্যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগই প্রতিফলিত হয়েছে যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তাদের বিদ্যমান সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব যুদ্ধজাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র চালনা করে সেগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে।
এছাড়াও, এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদের মধ্যে একটি। চীনকে মোকাবিলা করতে প্রশান্ত মহাসাগরে, ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইউরোপে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথ সুরক্ষায় এগুলোর প্রয়োজন হয়।
সেই কারণে গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তা একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পাঠানো প্রতিটি যুদ্ধজাহাজের মানে হলো, অন্য কোন সম্ভাব্য সংকটে ওই যাহাজটি আর ব্যবহার করা যাবে না।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত পেন্টাগনের মূল্যায়নের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
ইসরায়েল নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে সর্বাধিক তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরায়েল ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সমস্যা হচ্ছে শুধু কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নয়। বরং আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো তৈরি ও সংরক্ষণ করতে কয়েক বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতের ওপর বিশাল চাপ পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন