০৯:৪৯ এম
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ ও আবহাওয়া কাটিয়ে অবশেষে ব্রিটেনের রাজা চার্লস প্রিন্স হ্যারি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎ শুক্রবার (১০ জুলাই) পশ্চিম ইংল্যান্ডে রাজার নিজস্ব হাইগ্রোভ এস্টেটে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে রাজা চার্লস এবং রানী ক্যামিলার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স হ্যারি, তার স্ত্রী মেগান মার্কেল এবং তাদের দুই সন্তান।
রাজপ্রাসাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর এই প্রথম রাজা চার্লস তার নাতি আর্চি (৭) ও নাতনি লিলিবেটের (৫) সঙ্গে দেখা পেলেন। মূলত ২০২০ সালে রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে হ্যারি ও মেগান যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, তখন থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এরপর থেকে হ্যারি বছরে মাত্র এক-দুবার ব্রিটেন সফর করলেও সন্তানদের সাথে রাজার দেখা হওয়া হয়নি বলা চলে।
আরও পড়ুন: সংসদ ভবন এলাকায় ৯ নভেম্বর থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
প্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকটিকে একটি ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সাথে ঘোষণায় বলা হয়েছে, পারিবারিক এই পুনর্মিলনীর কোন ছবি, ভিডিও বা অতিরিক্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না। গত সেপ্টেম্বর মাসের পর বাবা ও ছেলের মধ্যে এটি প্রথম সামনাসামনি দেখা।
যুক্তরাজ্যে একটি পাঁচ দিনের দাতব্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আনা একটি মামলার রায়ের জন্য সম্প্রতি হ্যারি বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছান।
তবে, এই সফরের আগে ব্রিটেনে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে রাজপরিবারের সঙ্গে তার এক ধরণের বিরোধ চলছিল। হ্যারি এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি আত্মীয়দের ব্রিটেনে আনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সুরক্ষা চুক্তিতে একমত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ৪১ বছর বয়সী প্রিন্স হ্যারির জন্য চলতি সপ্তাহটি বেশ কঠিন ছিল। ‘ডেইলি মেইল’ পত্রিকার প্রকাশকের বিরুদ্ধে আনা একটি বড় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় তিনি এই সপ্তাহেই আদালতে হেরে গেছেন। এই আইনি লড়াইটিকে তার বাবা রাজা চার্লস আগে থেকেই ‘একটি আত্মঘাতী অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হত্যা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন
বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী রাজা চার্লস ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হ্যারি গত বছর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার বাবার জীবনকাল কতদিন, তা তিনি জানেন না। তাই তিনি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কটি আবার জোড়া লাগাতে চান। ২০২৩ সালে হ্যারির বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ প্রকাশের পর রাজপরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব আকাশচুম্বী হলেও, বাবার অসুস্থতার কারণে এই সাক্ষাৎটিকে রাজপরিবার বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন