বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৮ এম
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের বিদ্যমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে ই-ভিসা, ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ই-টিএ), অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম (এপিআইএস), প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড (পিএনআর) এবং সার্বভৌম ডাটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম সংযুক্ত করার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সিসিইএ’র সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮(২) ধারা অনুসরণ করে বিকল্প ক্রয় পদ্ধতির আওতায় সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় এসব আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা সংযুক্ত হলে যাত্রীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা, আগাম যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে।
আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন, যেখানে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
চট্টগ্রাম, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পৌর বর্জ্য উৎপন্ন করে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য বর্জ্য সংগ্রহ, অপসারণ ও সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত ল্যান্ডফিলের (ভূমি ভরাট) অভাব দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদি পিপিপির আওতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি একদিকে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে, অন্যদিকে পৌর বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এতে বর্জ্য অপসারণের জন্য ল্যান্ডফিলে পাঠানোর পরিমাণ কমবে এবং নগর পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই করার জন্য সহায়তা করবে, এমন আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই মুলতবি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জীবন ওরফে দুখু মিয়া (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জীবন ওরফে দুখু মিয়া ভৈরব পৌর শহরের মালগুদাম বস্তিতলা এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যায় জীবন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল সে।
র্যাবের দাবি, জীবনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা, জামালপুর রেলওয়ে থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাও রয়েছে।
বুধবার ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বদরুদ্দৌজার দিকনির্দেশনায় এএসআই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বদরুদ্দৌজা বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যায় জীবন ওরফে দুখু মিয়া। এরপর দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল সে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাও রয়েছে।”
গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকেল ৫টার দিকে জীবন ওরফে দুখু মিয়াকে ভৈরব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহত নাজমা খাতুনের সঙ্গে হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বিয়ের আগে থেকেই। এই সম্পর্কের কারণে নাজমার স্বামী আলমগীর কবিরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযুক্তের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআই বলছে, পূর্বের সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ কক্ষের তালা খুলে ভেতর থেকে আলমগীর কবির (৪৫), তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আলমগীর ও নাজমার বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং আলমগীর ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
একই দিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসা থেকে নিহত নাজমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পিবিআইয়ের তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযুক্তের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানা গেছে, নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ের আগেই প্রেমের সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নাজমার সঙ্গে আলমগীরের বিয়ের পর বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে পূর্বের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, ধস্তাধস্তির সময় নাজমা হৃদয়কে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে হৃদয় নাজমাকে ধাক্কা ও লাথি মারেন বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। এতে নাজমা ও তার গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এরপর আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে হৃদয় গামছা দিয়ে আলমগীরের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর তিনজনের মরদেহ খাটের ওপর রেখে হৃদয় কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতে স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তারের পর মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিল। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই।
তিনি বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হৃদয়ের বিরুদ্ধে এর আগে একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযোগপত্রে নাম উঠেছিল।ইউএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ