প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহত নাজমা খাতুনের সঙ্গে হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বিয়ের আগে থেকেই। এই সম্পর্কের কারণে নাজমার স্বামী আলমগীর কবিরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযুক্তের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআই বলছে, পূর্বের সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ কক্ষের তালা খুলে ভেতর থেকে আলমগীর কবির (৪৫), তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আলমগীর ও নাজমার বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং আলমগীর ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
একই দিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসা থেকে নিহত নাজমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পিবিআইয়ের তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযুক্তের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানা গেছে, নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ের আগেই প্রেমের সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নাজমার সঙ্গে আলমগীরের বিয়ের পর বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে পূর্বের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, ধস্তাধস্তির সময় নাজমা হৃদয়কে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে হৃদয় নাজমাকে ধাক্কা ও লাথি মারেন বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। এতে নাজমা ও তার গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এরপর আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে হৃদয় গামছা দিয়ে আলমগীরের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর তিনজনের মরদেহ খাটের ওপর রেখে হৃদয় কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতে স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তারের পর মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিল। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই।
তিনি বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হৃদয়ের বিরুদ্ধে এর আগে একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযোগপত্রে নাম উঠেছিল।ইউএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন