শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১১ পি.এম
সাংহাইয়ের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে কিছু স্থান সকাল শুরু করে ভিন্নভাবে। সেখানে দিনের হিসাব অফিস, যানজট কিংবা বাজার দিয়ে নয়, বরং হিসাব হয় অনুশীলনের সময় দিয়ে। ছোট বয়সের ছেলেমেয়েরা আসে প্রশিক্ষণে। কারো হাতে ব্যাট, কারো পায়ে দৌড়ের জুতা, কেউ বা পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য তখন অলিম্পিক নয়, কিন্তু এই বয়সেই শুরু হয় সেই দীর্ঘ পথের প্রথম ধাপ।
চীনের খেলোয়াড় তৈরির গল্পটি বোঝার জন্য সাংহাইয়ের শুহুই অঞ্চলের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। শুহুই জেলা যুব ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যুব ক্রীড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৭ সালে। কয়েক দশকের পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চীনের ক্রীড়া প্রতিভা তৈরির ব্যবস্থার একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সাল থেকে টানা চার মেয়াদে এটি জাতীয় পর্যায়ের উচ্চমানের ক্রীড়া প্রতিভার ঘাঁটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়েও খেলোয়াড় উঠে এসেছে।
চীনের ক্রীড়া সাফল্য বোঝার জন্য একটি ক্রীড়া বিদ্যালয়ের গল্পই যথেষ্ট নয়। বরং শুহুই দেখায়, কীভাবে স্কুল, ক্রীড়া বিদ্যালয়, কোচ, স্থানীয় প্রশাসন, প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ—সবকিছুকে একই ধারায় আনার চেষ্টা করা হয়।
প্রথমে খোঁজা হয় প্রতিভা
চীনের ক্রীড়াব্যবস্থায় একটি শিশু শুরুতেই পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে যায় না। সাধারণ স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগ্রহ ও সম্ভাবনা দেখা যায়। এরপর আসে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের ধাপ।
সাংহাইয়ের বর্তমান ব্যবস্থাতেও এই ধারণাটি স্পষ্ট। শহরটি ক্রীড়া বিদ্যালয়, সাধারণ স্কুল ও বেসরকারি ক্লাবকে যুক্ত করে তিন স্তরের একটি যুব ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাংহাইয়ে নিবন্ধিত যুব অ্যাথলেটের সংখ্যা ৬২ হাজার এবং যুব কোচের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। শুহুই জেলাতেও প্রতিভা খোঁজার প্রক্রিয়াকে আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সেখানে প্রথমবারের মতো ক্রস-ইভেন্ট ট্যালেন্ট সিলেকশন টেস্ট আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ কোনো শিশুকে শুধু একটি খেলায় সীমাবদ্ধ না রেখে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতার সঙ্গে কোন খেলাটি বেশি মানানসই, সেটিও দেখার চেষ্টা চলছে। এখানেই চীনের মডেলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে—খেলোয়াড় খোঁজার কাজ শুধু কোচের চোখের ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়।
সপ্তাহে পাঁচ দিন, অন্তত ১০ ঘণ্টা
খেলাধুলার সঙ্গে পড়াশোনার ভারসাম্য কিভাবে রাখা যায়, সেটিও এই ব্যবস্থার বড় অংশ। সাংহাইয়ের ‘একটি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ-পথ’ বা ‘ই থিয়াও লং’ স্কুলব্যবস্থায় নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী-অ্যাথলেটদের সপ্তাহে সাধারণত অন্তত পাঁচবার অনুশীলন করতে হয় এবং সাপ্তাহিক প্রশিক্ষণের সময় কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা। ছুটির সময়ও প্রশিক্ষণের আলাদা ব্যবস্থা থাকে। তবে বয়স, লিঙ্গ ও খেলোয়াড়ের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাত্রা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অনুশীলন এখানে আলাদা কোনো অতিরিক্ত কাজ নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গেও সেটিকে যুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে।
শুহুইয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেও একই বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। জেলা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলের ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে অন্তত দুই ঘণ্টা শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্কুল, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
কোচ শুধু মাঠে থাকেন না
চীনের এই ব্যবস্থায় কোচের ভূমিকাও বদলাচ্ছে। শুধু অনুশীলনের সময় নির্দেশনা দেওয়া নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই পেশাদার কোচকে যুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে। শুহুই জেলার পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ জন পেশাদার কোচকে স্কুলে পাঠানোর লক্ষ্য ছিল। উদ্দেশ্য—স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক ও পেশাদার কোচের অভিজ্ঞতাকে এক জায়গায় আনা। শুহুইয়ের স্কুল ফুটবল কোচ চেন জিপিং মনে করেন, শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু নিখুঁত কৌশল দেখা যথেষ্ট নয়। একটি স্কুলভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি বলেন, তাদের কারও কারও কৌশল হয়তো এখনও পুরোপুরি পরিণত নয়, কিন্তু খেলার প্রতি আগ্রহ ও মাঠে লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
২০২৬ সালের সরকারি নথিতেও বলা হয়েছে, স্কুলে পেশাদার কোচ পাঠানো এবং পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কোচের পদ তৈরির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সরকার, স্কুল, পরিবার ও সমাজ—এই চার পক্ষকে যুক্ত করে যুব ক্রীড়ার কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ফলে একটি শিশুর প্রশিক্ষণ শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার পড়াশোনা, শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ বিকাশ—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার অংশ করার চেষ্টা থাকে।
বিজ্ঞানও আছে মাঠে
শুহুইয়ের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের সংযোগটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনে এই বিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক প্রতিভা বাছাই ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছিল। সেখানে মৌসুমি বৈজ্ঞানিক নির্বাচন পরীক্ষা এবং এফএমএস বা ফাংশনাল মুভমেন্ট স্ক্রিনিং ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের নড়াচড়া, নমনীয়তা ও স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে। সাংহাইয়ের ২০২৫ সালের যুব ক্রীড়া কর্মপরিকল্পনায় তরুণ অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণের চাপ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ-মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
চীনের বৃহত্তর ক্রীড়া ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোথাও বাতাসের গতি অনুকরণ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, আবার ডাইভিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খেলোয়াড়ের আকাশপথের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ ছোট বয়সের একজন খেলোয়াড়কে শুধু বেশি অনুশীলন করানোই লক্ষ্য নয়; কীভাবে অনুশীলন করলে তার শরীর ও দক্ষতার সর্বোচ্চ উন্নতি হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতা ছাড়া বাছাই অসম্পূর্ণ
প্রশিক্ষণের পর আসে প্রতিযোগিতা। কারণ অনুশীলনে ভালো করলেই যে ম্যাচ বা প্রতিযোগিতায় ভালো করবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সাংহাইয়ে ২০২৫ সালের যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তালিকায় ছিল ফুটবল, বাস্কেটবল, ভলিবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, ডাইভিং, নৌকাবাইচ, জিমন্যাস্টিকস, ফেন্সিং, তীরন্দাজি, শুটিং, সাইক্লিংসহ মোট ১৫টি বড় ক্রীড়া এবং ২৫টি উপশাখা। এসব প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য শুধু পদক দেওয়া নয়—ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে আনার ব্যবস্থাও। শুহুইয়ের ২০২৫ সালের ফলাফলও দেখায়, এই কাঠামো থেকে নিয়মিত খেলোয়াড় উঠে আসছে।
ওই বছর জেলা থেকে সাংহাইয়ের প্রথম সারির দলগুলোতে ১৯ জন এবং দ্বিতীয় স্তরের উচ্চমানের যুব দলে ৬৮ জন খেলোয়াড় পাঠানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের যুব প্রতিযোগিতায় শুহুইয়ের খেলোয়াড়েরা ২৯টি প্রথম স্থান, ২০টি দ্বিতীয় এবং ২৭টি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। শুহুইয়ের এক স্কুল ফুটবল কোচের কথায়, শিশুরা এখানে শুধু ফুটবল শেখে না; প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াটাও শেখে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—একজন খেলোয়াড়ের পথটা সরাসরি স্কুল থেকে জাতীয় দল নয়। মাঝখানে রয়েছে একাধিক স্তর, একাধিক পরীক্ষা ও একাধিক প্রতিযোগিতা।
সবাই কি অলিম্পিয়ান হবে?
না। আর বর্তমান ব্যবস্থার লক্ষ্যও এমন নয় যে প্রত্যেক শিশুকে অলিম্পিয়ান বানাতে হবে। চীনের যুব ক্রীড়া নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক সুস্থতা ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বেড়েছে। সাংহাইয়ের ২০২৫ সালের পরিকল্পনায়ও যুবকদের ক্রীড়া দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আজীবন ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরির কথা বলা হয়েছে। চেন জিপিংয়ের কথাতেও সেই বাস্তবতার ছাপ রয়েছে। তাঁর মতে, খেলাধুলায় অংশ নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রত্যেক শিশু পেশাদার খেলোয়াড় হবে—এমন প্রত্যাশা না রেখেও তাদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত রাখা যায়। ২০২৫ সালে সাংহাইয়ের বিভিন্ন যুব ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সংখ্যা ছিল ৫০.৮৪ লাখ। এর মধ্যে স্কুল, কমিউনিটি ও ছুটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ছিল। শিশুদের দুই থেকে তিনটি ক্রীড়া দক্ষতা শেখানোর লক্ষ্য নিয়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ বড় তারকা তৈরি হবে—এমন সম্ভাবনা হয়তো সবার নেই। কিন্তু খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগটা অনেকের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
এখানেই আসল পার্থক্য
শুহুই জেলা যুব ক্রীড়া বিদ্যালয়ের গল্প আসলে একটি স্কুলের গল্প নয়। এটি একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার গল্প। একটি শিশু আজ হয়তো স্থানীয় প্রতিযোগিতায় খেলছে। কাল সে জেলা দলে যাবে। সেখান থেকে সাংহাইয়ের যুব দলে। এরপর জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ। কেউ হয়তো একসময় অলিম্পিকে যাবে। কেউ তার আগেই থেমে যাবে। কেউ আবার খেলাধুলার বাইরে অন্য পেশায় চলে যাবে। কিন্তু ব্যবস্থাটি চেষ্টা করছে, যেন প্রতিটি ধাপে তার সামনে একটি পথ থাকে। এই পথের শুরুতে আছে স্কুল। এরপর কোচ। তারপর প্রশিক্ষণ। প্রতিযোগিতা। বিজ্ঞান। পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন। সবকিছুকে একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা।
সাংহাইয়ের ক্রীড়া ব্যবস্থার বর্তমান পরিসরও সেটিই বলছে। শহরটি শুধু ক্রীড়া বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করছে না; সাধারণ স্কুল ও বেসরকারি ক্লাবকেও একই প্রতিভা তৈরির ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করছে।
পদকের গল্প আসলে আরও আগে শুরু
অলিম্পিকের মঞ্চে যখন কোনো চীনা অ্যাথলেট পদকের জন্য দাঁড়ান, তখন ক্যামেরা তার মুখের দিকে থাকে। দেখা যায় কয়েক মিনিটের প্রতিযোগিতা। কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের গল্প আসলে বহু বছরের। হয়তো শুরুটা হয়েছিল একটি স্কুলের ছোট মাঠে। কোনো কোচ প্রথম তার দৌড় দেখে থেমেছিলেন। কোনো শিক্ষক তাকে প্রতিযোগিতায় পাঠিয়েছিলেন। কোনো পরীক্ষায় তার শারীরিক সক্ষমতা নজরে এসেছিল। এরপর ধাপে ধাপে সে ঢুকেছে প্রশিক্ষণের বড় কাঠামোয়। শুহুইয়ের গল্প তাই চীনের ক্রীড়া ব্যবস্থার একটি ছোট ছবি। এখানে অলিম্পিক পদকের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু পদকের জন্য প্রস্তুত হওয়ার একটি পথ আছে।
আর সেই পথের শুরুটা হয় অনেক আগে—যখন শিশুটি এখনো জানেই না, একদিন সে অলিম্পিকের মঞ্চে দাঁড়াতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন বিতর্কের মুখোমুখি রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড, যখন তারা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জেসন নাইট প্রকাশ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলার বিরোধিতা করেছেন। তিনি প্রথম আইরিশ ফুটবলার, যিনি সরাসরি এমন একটি ম্যাচ বাতিলের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
রবিবার হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি ইসরায়েলের বিপক্ষে আইরিশদের বয়কটের জোরালো দাবির মধ্যেই আয়োজন করা হচ্ছে। এফএআই (আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) তাদের বরাদ্দকৃত টিকিটের কোটা নিতে অস্বীকার করায়, মাঠে কোনো আইরিশ সমর্থক খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।
গত বৃহস্পতিবার কসোভোর কাছে ১-০ গোলে হারের পর নাইট সাংবাদিকদের সামনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্রিস্টল সিটির এই আইরিশ তারকা বলেন, “আমার মনে হয় না এই ম্যাচটি হওয়া উচিত। তবে যেহেতু ম্যাচটি আয়োজিত হচ্ছে, আমাদের স্কোয়াডে এটা নিয়ে আরো গভীরভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।”
আইরিশ ম্যানেজার হেইমির হালগ্রিমসনও গত সপ্তাহে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত দলের অনেক খেলোয়াড়কে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাচকা তোপোলায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই দল আবার মুখোমুখি হবে।
নাইট আরো বলেন, “আমি যতটা সম্ভব ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এখন ফুটবল ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতেই আলো বেশি পড়ছে। এটি খুবই অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি এবং আমরা সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
আয়ারল্যান্ডের ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আইরিশরা সব সময় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরেই স্পেন ও নরওয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আয়ারল্যান্ড সরকার। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ডাবলিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জেলায় অসুস্থ ও বাদ পড়া শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকার প্রদান করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে শনিবার সকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা.
বাহারুল আলম। হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ কেন্দ্রে।
এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ হাজার শিশু এই টিকা পাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.
ইছমাইল হাসান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরুপ পাল এবং আরো অনেক অতিথি।
সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম বাসস’কে জানান, জেলার ১ হাজার ৪শ’ স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এই কার্যক্রম আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে পারেনি এমন অসুস্থ ও বাদ পড়া শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
এই টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদানকারীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী ও নিয়োজিত কর্মী উপস্থিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বৈধ আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই মাস মেয়াদি এবং ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর বিক্ষোভ প্রতিহত করতে পুলিশের সংগৃহীত ১,৫৫০টি কনটেইনারের জন্য সরকারকে দৈনিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি খরচ করতে হবে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটিআই তাদের নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার ফলে ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল পুলিশের চাওয়া নিরাপত্তা বাজেট কার্যত দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি (১ বিলিয়ন) রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। এই ঘোষণার পর ইসলামাবাদ পুলিশসহ অন্যান্য স্থানে প্রস্তুতি শুরু হয়। পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়া এবং কনটেইনারের ভাড়া মেটানোর জন্য তারা ৮২ কোটি (৮২০ মিলিয়ন) রুপি বাজেট আবেদন পাঠিয়েছে।
‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে কনটেইনারগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি পুলিশের হেফাজতে রাখা হবে। পুলিশ মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিক্ষোভ ও লংমার্চ ৪ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার হিসাব করে এক সপ্তাহের বাজেট নির্ধারণ করেছিল। তবে বিক্ষোভের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
নিসার হোসেন জাফরি জানান, সমিতি প্রথমে ৪০ ফুট ও ২০ ফুটের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া যথাক্রমে ৪০,০০০ ও ২০,০০০ রুপি দাবি করেছিল। পরে তা সংশোধন করে সব আকারের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া ৩০,০০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়।
পিটিআই লংমার্চ স্থগিত করার পর কনটেইনারগুলোর বিষয়ে পুলিশের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, তাদের দাবিকৃত দর অনুযায়ী ১,৫৫০টি কনটেইনারের প্রতিদিনের ভাড়া ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি। এক সপ্তাহের ভাড়া ৩২ কোটি ৫৫ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহের ভাড়া ৬৫ কোটি ১০ লাখ রুপি।
সূত্র আরও জানায়, পুলিশ পাঞ্জাব থেকে ১৬,০০০ এবং সিন্ধু পুলিশ থেকে ২,০০০ অতিরিক্ত সদস্যের চাহিদা দিয়েছিল। সিন্ধু পুলিশের দলটি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাদের পুলিশ লাইন্স হেডকোয়ার্টার্স, ফয়সাল মসজিদ এবং জি-১৩ সেক্টরের কমিউনিটি সেন্টারে মার্কি (অস্থায়ী তাবু) খাটিয়ে রাখা হয়েছে।
আগামী এই সদস্যদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। জনপ্রতি তিন বেলার খাবারের খরচ ৬০০ রুপি। সেই হিসেবে সিন্ধু পুলিশের ২,০০০ সদস্যের খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ১২ লাখ রুপি। এক সপ্তাহে এই ব্যয় দাঁড়াবে ৮৪ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপি।
তবে পাঞ্জাব পুলিশের কাঙ্ক্ষিত দলটি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। সূত্রের খবর, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যেই ১৬,০০০ সদস্যের দলটির পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঞ্জাব পুলিশের কোনো সদস্য রাজধানীতে এসে পৌঁছাননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াতের জন্য প্রায় ৭০টি কোস্টার, ৩০টি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ি এবং বেশ কিছু বাস ভাড়া করা হয়েছে। একটি কোস্টারের দৈনিক ভাড়া ১৫,০০০ রুপি হিসেবে ৭০টি কোস্টারের দিনে লাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি। অন্যদিকে, একটি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ির প্রতিদিনের ভাড়া ১০,০০০ রুপি ধরে ৩০টি গাড়ির জন্য দিনে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ রুপি।
এছাড়া বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জন্য শহরজুড়ে ১৩টি হোটেলে ১৭৫টি রুম বুক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৪৬ জন পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর), ৫৮ জন সহকারী ও ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, পুলিশ সুপার, ১০ জন সিনিয়র পুলিশ সুপার এবং ৮ জন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের (ডিআইজি) থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৩টি হোটেলের মধ্যে ১১টি হোটেলের ১৫৭টি রুম বুক করা হয়েছে ইনস্পেক্টর থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য। এসব রুমের দৈনিক ভাড়া ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ রুপি, যা এক সপ্তাহে দাঁড়ায় প্রায় ৫২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ রুপি।
পাঞ্জাব পুলিশের ফোর্স এখনও না পৌঁছালেও তাদের তিন বেলার খাবারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা হয়েছে দৈনিক ৯৬ লাখ রুপি, যা এক সপ্তাহে গিয়ে ঠেকবে ৬ কোটি ৭২ লাখ রুপি।
তবে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা বাসগুলোর ভাড়া এবং ডিআইজি ও এসএসপিদের জন্য দুটি হোটেলে বুক করা ১৮টি রুমের খরচের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
এদিকে, ‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান নিসার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব পুলিশ তাদের কর্মীবৃন্দসহ অন্তত ২,৭০০টি পণ্যবাহী গাড়ি নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি গাড়ি ও তার চালক-সহকারীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাকিদের বিভিন্ন থানায় আটকে রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পুলিশ চালক ও কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার না করলেও থানা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, কেবল খাবারের ব্যবস্থাটুকু করছে। পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন, গাড়ির কাগজপত্র এবং চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কনটেইনার ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের থানায় রেখে দেওয়া হবে। এসব বড় কনটেইনার চালানোর জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হওয়ায় মূলত তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়েছে যেন প্রয়োজনমতো গাড়ি চালানো যায়।
ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ঝং, হাসানআব্দাল, অ্যাটক, কামোকে, তক্ষশীলা, ঝিলম, মিয়ানওয়ালি, চকওয়াল, ফয়সালাবাদ এবং গুজরাট থেকে এসব যান ও কর্মীদের আটক করা হয়। আটক ২,৭০০টি গাড়ির মধ্যে ৪৫০টিতে ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য ও রাসায়নিক সামগ্রী বোঝাই ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ