০৯:৩৪ পি.এম
আর মাত্র তিন দিন বাদে মাঠে গড়াতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের সফলতম দল নিঃসন্দেহে ব্রাজিল। তবে, বড় বেশ কিছু ট্রাজেডি ও অঘটনের শিকারও হয়েছে এই সেলেসাওরা।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের আসর ব্রাজিল ফ্যানদের জন্য হেক্সা মিশন হয়ে এসেছে; আবার ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে নিন্দুকদের কাছে ব্রাজিল মানেই ‘সেভেন আপ’ খাওয়া দল।
২০১৪ সালের ৮ জুলাই। ঘরের মাঠে ‘হট ফেভারিট’ হিসেবে ব্রাজিল মাঠে নেমেছিল। গ্যালারিতে ৬২ হাজার সমর্থক আর বিশ্বজুড়ে কোটি চোখ ছিল ব্রাজিলের খেলা দেখার অপেক্ষায়। কিন্তু, সেদিন নেইমার ও থিয়াগো সিলভার অভাবের কারণে ব্রাজিলকে নিয়ে জার্মানি রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতে ওঠে। একে একে সেলেসাওদের জালে তারা ৭ গোল দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে অস্কারের একটি সান্ত্বনাসূচক গোলে ম্যাচের ফলাফল ৭-১ হয়।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
এবার, সেভেন আপের লজ্জায় সেবারই প্রথম ডোবার অভিজ্ঞতা নেয় ব্রাজিল। ইতিহাস খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যায়, সেলেসাওদের এই লজ্জা অবশ্য এমনটি প্রথম নয়। জার্মানির এই অঘটনের প্রায় ৮০ বছর আগে ঘটেছিল প্রথম অঘটনটি।
১৯৩৪ সালের ৩ জুন বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৮-৪ গোলে পরাজিত করে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া। সেলেসাওদের ইউরোপ সফরের অংশ ছিল এই ম্যাচ। সেবার একটি ম্যাচে ৭ বা এর বেশি গোল খাওয়ার অসম্ভব অভিজ্ঞতা হয়েছিল ব্রাজিলের।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ব্রাজিল এগিয়ে গেলেও পরে যুগোস্লাভিয়ার আক্রমণের সামনে তাদের রক্ষণ ধসে পড়ে। শেষমেষ ৮-৪ ব্যবধানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলের সফরকারীদের।
যুগোস্লাভিয়ার পর দীর্ঘ ৮০ বছর এপ্রিল আর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে সক্ষম হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তারা ৫ বিশ্বকাপ জিতেছে এবং অসংখ্য তারকা ফুটবলার তৈরি করেছে। ফলে আবার এমন রেকর্ড দেখা যাবে, তা অনেকের কাছে ছিল অবিশ্বাস্য।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
কিন্তু, ২০১৪ সালে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে জার্মানি। নিজেদের দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে জার্মানির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়ে পরিণত হয়।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ভারতীয়রা। মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যে তারা ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পুরো বিশ্ব হতবাক হয়ে যায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের বিপর্যয়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতে নেয় জার্মানি।
ব্রাজিলের হয়ে অস্কার একটি গোল শোধ করেছিলেন, তবে সেটি পরাজয়ের বেদনা কমাতে পারেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় হার হিসেবে এখনো স্মরণীয়।
বাংলাদেশও একবার ‘সেভেন আপ’ খাইয়েছে ব্রাজিলকে।
আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের
ব্রাজিলকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ— এমন দাবি অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে, একটি আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে এই ঘটনার উল্লেখ আছে।
১৯৯০ সালে ‘বাংলা একাদশ’ নামে বাংলাদেশের একটি অনূর্ধ্ব-১৪ দল ইউরোপে অনুষ্ঠিত ডানা কাপ এবং গথিয়া কাপে অংশগ্রহণ করে। ডেনমার্কের ডানা কাপ এবং সুইডেনের গথিয়া কাপ তরুণ ফুটবলারদের জন্য অন্যতম বড় আসর। ওই প্রতিযোগিতার এক ফাইনালে বাংলাদেশের বাংলা একাদশের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৪ দল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণমাধ্যম উপদেষ্টা তৌহিদ ফিরোজের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের কিশোর ফুটবলাররা তাদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। সেই ম্যাচে বাংলা একাদশ ৭-০ গোলে জয়ী হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই সময়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। শুধু ব্রাজিল নয়, ফাইনালে ওঠার পথে বাংলাদেশের আরও কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বলেও সে সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ, গ্রেফতারের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন