ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জার্মানি ছাড়া আরও যাদের কাছে ‘সেভেন আপ’ খেয়েছে ব্রাজিল


জার্মানি ছাড়া আরও যাদের কাছে ‘সেভেন আপ’ খেয়েছে ব্রাজিল

আর মাত্র তিন দিন বাদে মাঠে গড়াতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের সফলতম দল নিঃসন্দেহে ব্রাজিল। তবে, বড় বেশ কিছু ট্রাজেডি ও অঘটনের শিকারও হয়েছে এই সেলেসাওরা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের আসর ব্রাজিল ফ্যানদের জন্য হেক্সা মিশন হয়ে এসেছে; আবার ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে নিন্দুকদের কাছে ব্রাজিল মানেই ‘সেভেন আপ’ খাওয়া দল।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই। ঘরের মাঠে ‘হট ফেভারিট’ হিসেবে ব্রাজিল মাঠে নেমেছিল। গ্যালারিতে ৬২ হাজার সমর্থক আর বিশ্বজুড়ে কোটি চোখ ছিল ব্রাজিলের খেলা দেখার অপেক্ষায়। কিন্তু, সেদিন নেইমার ও থিয়াগো সিলভার অভাবের কারণে ব্রাজিলকে নিয়ে জার্মানি রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতে ওঠে। একে একে সেলেসাওদের জালে তারা ৭ গোল দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে অস্কারের একটি সান্ত্বনাসূচক গোলে ম্যাচের ফলাফল ৭-১ হয়।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এবার, সেভেন আপের লজ্জায় সেবারই প্রথম ডোবার অভিজ্ঞতা নেয় ব্রাজিল। ইতিহাস খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যায়, সেলেসাওদের এই লজ্জা অবশ্য এমনটি প্রথম নয়। জার্মানির এই অঘটনের প্রায় ৮০ বছর আগে ঘটেছিল প্রথম অঘটনটি।

১৯৩৪ সালের ৩ জুন বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৮-৪ গোলে পরাজিত করে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া। সেলেসাওদের ইউরোপ সফরের অংশ ছিল এই ম্যাচ। সেবার একটি ম্যাচে ৭ বা এর বেশি গোল খাওয়ার অসম্ভব অভিজ্ঞতা হয়েছিল ব্রাজিলের।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ব্রাজিল এগিয়ে গেলেও পরে যুগোস্লাভিয়ার আক্রমণের সামনে তাদের রক্ষণ ধসে পড়ে। শেষমেষ ৮-৪ ব্যবধানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলের সফরকারীদের।

যুগোস্লাভিয়ার পর দীর্ঘ ৮০ বছর এপ্রিল আর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে সক্ষম হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তারা ৫ বিশ্বকাপ জিতেছে এবং অসংখ্য তারকা ফুটবলার তৈরি করেছে। ফলে আবার এমন রেকর্ড দেখা যাবে, তা অনেকের কাছে ছিল অবিশ্বাস্য।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

কিন্তু, ২০১৪ সালে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে জার্মানি। নিজেদের দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে জার্মানির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়ে পরিণত হয়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ভারতীয়রা। মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যে তারা ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পুরো বিশ্ব হতবাক হয়ে যায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের বিপর্যয়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতে নেয় জার্মানি।

ব্রাজিলের হয়ে অস্কার একটি গোল শোধ করেছিলেন, তবে সেটি পরাজয়ের বেদনা কমাতে পারেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় হার হিসেবে এখনো স্মরণীয়।

বাংলাদেশও একবার ‘সেভেন আপ’ খাইয়েছে ব্রাজিলকে।

আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের

ব্রাজিলকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ— এমন দাবি অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে, একটি আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে এই ঘটনার উল্লেখ আছে।

১৯৯০ সালে ‘বাংলা একাদশ’ নামে বাংলাদেশের একটি অনূর্ধ্ব-১৪ দল ইউরোপে অনুষ্ঠিত ডানা কাপ এবং গথিয়া কাপে অংশগ্রহণ করে। ডেনমার্কের ডানা কাপ এবং সুইডেনের গথিয়া কাপ তরুণ ফুটবলারদের জন্য অন্যতম বড় আসর। ওই প্রতিযোগিতার এক ফাইনালে বাংলাদেশের বাংলা একাদশের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৪ দল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণমাধ্যম উপদেষ্টা তৌহিদ ফিরোজের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের কিশোর ফুটবলাররা তাদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। সেই ম্যাচে বাংলা একাদশ ৭-০ গোলে জয়ী হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই সময়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। শুধু ব্রাজিল নয়, ফাইনালে ওঠার পথে বাংলাদেশের আরও কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বলেও সে সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ, গ্রেফতারের দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনও ধরনের বাধা প্রদান করেনি, এ কথা জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

এই বক্তব্য ইসরায়েলের আগের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করেছে এবং কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কোনওটি প্রতিহত করতে মার্কিন বাহিনী অংশ নেয়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ অতীতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছিল।

সোমবার সকালে এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে এবং ইরানের ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য সেই দাবিকে নাকচ করে দেয়।

এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ফলে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সংঘাতের বিস্তার রোধে আরও সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে এবং সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত না করলেও দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, রাতভর অভিযানের সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে।

এ সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির অন্তত দুই দফা সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে কথা বলেন। ওই আলোচনায় চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তার অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ শিক্ষা বোর্ড ও এনসিটিবিতে নতুন চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


৫ শিক্ষা বোর্ড ও এনসিটিবিতে নতুন চেয়ারম্যান

ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছে সরকার। এছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডেও (এনসিটিবি) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে খুলনার সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ফরুখে আযম মু. আব্দুস ছালামকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. শামীম আরা চৌধুরীকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কুমিল্লার দেবীদ্বার এস এ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

একই আদেশে চট্টগ্রামের কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরকুল মাওলাকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান করা হয়।

অপর এক প্রজ্ঞাপনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে ওএসডি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে সংযুক্ত ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমানকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়ার তথ্যও জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার অন্তর্ভুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গতিশীলকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণশুনানি পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গটি ছিল সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন বিষয়াবলি। এই গণশুনানির আয়োজন করা হয় বাসাবোর বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে।

এ সময় মূল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

গণশুনানিতে অঞ্চল-২-এর খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদাপাড়া, কমলাপুর, শাহজাহানপুর ও মতিঝিল এবং অঞ্চল-৫-এর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, স্বামীবাগ, গোপীবাগ, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ, টিকাটুলী, ধলপুর, মান্ডা, মুগদা ও বাসাবোর আংশিক এলাকার নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা স্বাগতম জানান।

এখনই নাগরিকরা এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও মতামত তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তরে নাগরিকদের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন ডিএসসিসি’র সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের মূল দায়িত্ব হলেও এতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্জ্য অপসারণ, সড়ক বাতি নিশ্চিত করা, মশা নিধন ও রাস্তাঘাট সংস্কারে প্রশাসন কাজ করছে। তবে, প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে জনগণকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও জনগণের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভাগে ভাগ করে নিতে হবে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৃষ্টি হলেই পানি জমার সমস্যাটি নিরসনে কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সেবা প্রদানে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসক বলেন, এতদিন অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা ও দায়িত্বে শিথিলতা ছিল, এখন আর সেই সুযোগ নেই। জাতীয় সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্ট্রিট লাইটের মতো মৌলিক সেবাগুলোতে অবহেলা করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করা হবে।

সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম উল্লেখ করে তিনি মশক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ফুলের টব ও ফ্রিজের নিচের অংশ পরিষ্কার রাখতে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে কোথায় উন্নয়ন হচ্ছে, কীভাবে অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। এই স্বচ্ছতাই সুশাসনের ভিত্তি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা-৯ আসনে ইতোমধ্যে সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ঢালাই, ড্রেনেজ ও পাইপলাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে। একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ধানমন্ডির পর বাসবোতে এটি ছিল ডিএসসিসির দ্বিতীয় গণশুনানি। পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলেই এই ধরনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফুটবল: নন্দন থেকে বন্ধনের বিষাদযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


বিশ্বকাপ ফুটবল: নন্দন থেকে বন্ধনের বিষাদযাত্রা

ফুটবল খেলার ইতিহাস হচ্ছে নন্দন থেকে বন্ধনের এক বিষাদযাত্রা। খেলাটি যখন থেকেই পরিণত হলো ইন্ডাস্ট্রি তথা শ্রমশিল্পে, তখন থেকেই ফুটবল সৌন্দর্য হারাতে শুরু করে। কেউ কেউ আবার বলেন, ফুটবল আসলে ঘটনাবলীর সমষ্টি, এবং গোল হচ্ছে খেলাটির প্রাণবিন্দু।

কবির ভাষায় বলা হয়েছে, সবুজ মাঠই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চ, যেখানে ২২ জন শিল্পী মাটিতে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর চিত্রকলা আঁকেন। লাতিন ফুটবল এবং ইউরোপীয় ফুটবল এর লড়াইটা আদিকালের। বর্তমান সময়ে ইউরোপীয় পাওয়ার ফুটবল খানিকটা এগিয়ে গেছে। তবে ইতিহাস বলে, ঔপনিবেশিক অঞ্চলগুলোর ছাপিয়ে লাতিন ফুটবলের শৈল্পিকতার সৌন্দর্য্য বিশ্বের বুকে রাজত্ব কায়েম করেছে।

শৈল্পিক কারিকুরির নান্দনিকতায় পূর্ণ লাতিন ট্যাকটিক্স নয়তো গতির ঝড় তোলা ইউরোপীয় পাওয়ার ফুটবল? ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের এই বিতর্ক শতবর্ষ হয়ে চলমান। মহাদেশীয় ফুটবল ইতিহাসে লাতিন ফুটবলে আছে বনেদিয়ানা, যেখানে মাঠেও পায়ের কারুকার্যে শৈল্পিকতার সুর বেজে ওঠে। অন্যদিকে ইউরোপের পাওয়ার ফুটবলে আক্রমণ এবং গতির ঝড় আগে শুরু হয়, যা প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে শেষ করে দিতে পারে।

জীবন এবং ফুটবলের মধ্যে একটি দারুণ মিল লক্ষ্য করেছেন আর্জেন্টাইন গ্রেট ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তার আত্মজীবনী ‘এল ডিয়েগো’তে তিনি উল্লেখ করেছেন—জীবনের ব্যাপারে যেভাবে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ফুটবল মাঠে খেলার সময়ও একইভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়; এর মধ্যে একজনকে বাছাই করে নেওয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।

আর ব্রাজিলিয়ান গ্রেট পেলের মতে, ফুটবল হলো জাদুকরী এক বিষয়। তার আত্মজীবনী ‘পেলে’তে তিনি বলেন—‘ফুটবল সবসময়ই আলাদা। এটি দলীয় খেলা, এককভাবে কখনো খেলা যায় না। একটি দলীয় সমন্বয়ের মাঝে এই খেলার সৌন্দর্য নিহিত আছে।’

ফুটবলপ্রেমী সাহিত্যিকদের তালিকা দীর্ঘ। এ তালিকায় প্রথমেই রয়েছে আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কাম্যুর নাম। আলজেরিয়ার বস্তিতে কঠিন শৈশবেই তিনি ফুটবলে প্রেমে পড়েন। দাদির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি ফুটবল খেলতেন। গোলকিপার হিসেবে তিনি সুনাম অর্জন করেন এবং ১৭ বছর বয়সে আলজিয়ার্স রেসিং বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে আলোচিত হন। কিন্তু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাকে চিরতরে ফুটবল বিদায় বলতে হয়। ফুটবল নিয়ে তার একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—‘নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে আমার যা জ্ঞান, তার জন্য আমি ফুটবলের কাছে ঋণী।’

ফুটবলের প্রতি কাম্যুর অগাধ প্রেমের কারণে উনাকে ‘নোবেলজয়ী একমাত্র সাহিত্যিক ফুটবলার’ বলা হয়। মৃত্যুর আগে তিনি একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস লেখার চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে একটি বালক চরিত্রের নাম ‘জ্যাক’। জ্যাকের জীবনে ফুটবল ছিল সবচেয়ে বড়। এর মাধ্যমে কাম্যুর শৈশবের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসও ফুটবল ভালোবাসতেন। তিনি আক্রমণ ভাগে খেলতে পছন্দ করতেন, কিন্তু খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফুটবল নিয়ে তার আলোচনা সবসময় ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির মানুষের টিকে থাকার লড়াইকে ফুটবল খেলার সঙ্গে তুলনা করতে ভালবাসতেন।

শার্লক হোমসের স্রষ্টা ব্রিটিশ সাহিত্যিক আর্থার কোনান ডয়েল জীবনের একটি সময় ফুটবল খেলেছেন। তিনি পোর্টসমাউথ অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাব দলের একজন গোলকিপার ছিলেন। ফুটবলের পাশাপাশি ভালো ক্রিকেটারও ছিলেন। এসময়ের আরেক জনপ্রিয় সাহিত্যিক জে কে রাউলিং ফুটবল ভালোবাসতেন। ইংলিশ লিগের ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড তার প্রিয় দল, যা দেখতে তিনি নিয়মিত মাঠে যেতেন।

ব্রিটিশ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের ফুটবল নিয়ে বিরক্তি ছিল। তিনি খেলাধুলা ভালোবাসলেও ফুটবলের উগ্র জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে ঘৃণা করতেন। তার মতে, যদি পৃথিবীকে অশান্তিতে ভরিয়ে দিতে চান, তাহলে কয়েকটি রাষ্ট্র ও জাতির মধ্যে এক লাখ মানুষের ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করলেই যথেষ্ট। ফুটবল প্রসঙ্গে আইরিশ নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন, ‘ফুটবল হলো ভদ্রলোকের খেলা, কিন্তু এটি খেলে এক দল বর্বর অসভ্য মানুষ!’

ফুটবলপ্রেমী অন্যান্য সাহিত্যিকদের নাম আরও অনেক আছে। যেমন—জ্যঁ পল সার্ত্রে, জ্যাক কেরুয়াক, অ্যান্থনি বার্গেস, ওয়াল্টার স্কট, ভ্লাদিমির নবোকভ, মার্টিন এমিস, সালমান রুশদি, জুলিয়ান বার্নস এবং আরও অনেক। বিখ্যাত ফুটবলাররা তাদের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে অসংখ্য আত্মজীবনী রচনা করেছেন। এসব গ্রন্থ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে এবং আধুনিক সমাজের পরিবর্তনশীল অধ্যায়ের কিছু অজানা তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো ইয়োহান ক্রুয়েফের ‘মাই টার্ন’, জর্জ বেস্টের ‘ব্লেসড’, রয় কেনের ‘দ্য সেকেন্ড হাফ’, পাওলো মালদিনির ‘মুন্দেয়াল’, অ্যালেক্স ফার্গুসনের ‘মাই অটোবায়োগ্রাফি’ এবং আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘মাই লাইফ ইন রেড অ্যান্ড হোয়াইট’।

কবি-সাহিত্যিকদের প্রশংসা পেতে হয়। স্প্যানিশ ভাষার অন্যতম সেরা কবি সিজার ভায়েয়ো ও ষোড়শ শতাব্দীর ইতিহাসবিদ গার্সিলাসো-এর নামে দুটি ফ্রন্ট ক্লাব পরিচিত আছে দেশটিতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%