০৮:৫৪ পি.এম
লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনের অবসানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাতারের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুলাইফি। স্থানীয় সময় (২৭ আগস্ট) দেশটির সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রতিমন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
হাফতার দেশটির স্বঘোষিত ‘লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’-র কমান্ডার এবং তিনি পূর্বাঞ্চল-ভিত্তিক সেই সরকারের সঙ্গে যুক্ত, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। ২০১৪ সাল থেকে লিবিয়া মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। ত্রিপোলি-ভিত্তিক ‘গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল ইউনিটি’ (যার নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুল হামিদ দবেইবা) এবং হাফতার-সমর্থিত ওসামা হাম্মাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন।
আল-খুলাইফি বেনগাজি সফরের সময় লিবিয়ার ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এমন এক সময়ে এই সফরটি হলো, যখন দেশটি সম্প্রতি সম্মত হওয়া একটি নির্বাচনী চুক্তি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাক্ষাতে দুই কর্মকর্তা আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিবৃতি অনুযায়ী, আল-খুলাইফি এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি কাতারের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন, যা লিবিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় এবং একই সঙ্গে দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
তিনি ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং স্থিতিশীলতার পথ সুগম করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও সমঝোতার ওপরও জোর দেন। আল-খুলাইফি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে জাতিসংঘের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাতে কাতার লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষ ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
এর আগে তিনি আল-জাজিরাকে জানিয়েছিলেন, ত্রিপোলির নেতাদের সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও জাতীয় সংলাপে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষের আলোচকরা গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক নির্বাচনী চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনের অবসান ঘটানো। আল জাজিরা অ্যারাবিকের হাতে আসা একটি নথিতে দেখা যায়, তিউনিসিয়ায় শুরু হওয়া “৪+৪” কমিটির চুক্তিতে রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার নির্বাচন পরিচালনাকারী আইনগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য ২৪ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
পূর্বাঞ্চলীয় ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’ এবং ত্রিপোলি-ঘেঁষা ‘হাই কাউন্সিল অফ দ্য স্টেট’ উভয় পক্ষ থেকেই চারজন করে সদস্য নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে চুক্তিটি বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। কারণ উভয় পক্ষের অনেকেই অভিযোগ করছেন, তাদের আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছিল অথবা তারা চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াটি দেখেননি।
জাতিসংঘ এই চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিভাজন নিরসনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা বছরের পর বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিভাজন, আইনি শূন্যতা এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়নকে বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে।
লিবিয়ার আইন বিশেষজ্ঞ আল-মাহদি কাশবুর আল জাজিরাকে বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর ক্ষমতা এবং এটি বাস্তবায়নের এখতিয়ারসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের অসামঞ্জস্য বা ব্যবধান রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইলিয়াস আল-বারুনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তিতে দেশটির নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখা হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, আইনি বাধাগুলো দূর করা সম্ভব হলেও এরপর মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে লিবিয়াকে কারা পরিচালনা করবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন