ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশের হাতে জার্মান পর্যটকের উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ হস্তান্তর


পুলিশের হাতে জার্মান পর্যটকের উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ হস্তান্তর

জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার এর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির কর্তৃক হস্তান্তর করা হয়।

হারানো ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে জার্মান পর্যটক ক্রিল বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশে ভ্রমণকালে তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত: ডা. জুবাইদা রহমান

এসময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিরাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিদেশি পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতিস্বরূপ, আইজিপি নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনসুর রহমান ও সাব-ইনস্পেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের ওয়েটিং রুমে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। ফিরে এসে তিনি ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। এরপর পুলিশের অভিযানে গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে থাকছে নানা কর্মসূচি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পরপর দুই ঝড়ের আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পরপর দুই ঝড়ের আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পরপর দুটি ঝড়, হারিকেন সাইমন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র‍্যাচেল, আঘাত হেনেছে। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইমনের আঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়েরেরো রাজ্যের রাজধানী চিলপানসিঙ্গোতে দেয়াল ধসে ৭১ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাজ্যটির গভর্নর এভলিন সালগাদো এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঝড়ের কারণে রাজ্যের উপকূলীয় শহরগুলোতে অবকাঠামো ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর আকাপুলকোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র‍্যাচেলের কারণে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের এনসেনাদা শহরের উপকণ্ঠে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে বলে রাজ্যটির প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে।

এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টারের সাহায্যে ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। রাজ্যটির গভর্নর মারিনা দেল পিলার জানিয়েছেন, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাইমন মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানেনি। পাঁচ ধাপের সাফির-সিম্পসন স্কেলে শক্তি কমে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে নেমে আসার পর ঝড়টি উপকূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। তবে বৃষ্টির সতর্কতা এখনও বহাল রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে যে, উপকূলের কিছু এলাকায় পাঁচ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে মিচোয়াকান ও কোলিমা রাজ্যের নদী ও জলধারার কাছের জনপদগুলোতে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে।

এল নিনোর প্রভাব

প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এল নিনো পরিস্থিতি এ মৌসুমে ওই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হবে, এমন দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও এল নিনোর তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২,৭৯৯ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


ডিএমপির অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২,৭৯৯ মামলা

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মোট ২ হাজার ৭৯৯টি মামলা দায়ের করেছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি এ তথ্য প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে মোট ১২৮টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি বাস, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৩টি মোটরসাইকেল।

ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৬৫টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি বাস, ১২টি ট্রাক, একটি ক্যার্ভাডভ্যান, ১৪টি সিএনজি ও ৮৯টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে মোট ৩৬৪টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১৫টি বাস, দুইটি ট্রাক, ২৬টি কাভার্ডভ্যান, ৬০টি সিএনজি ও ১৯২টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টি বাস, ২৬টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৭৯টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১৬টি বাস, তিনটি ট্রাক, নয়টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৩১টি সিএনজি ও ৫৮টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত আছে।

ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৩৫১টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৩৬টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১৬১টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪১২টি মামলা হয়েছে, যেখানে ২৮টি বাস, ১২টি ট্রাক, ১৫টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৭৯টি সিএনজি ও ১৫৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৮১৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৯১টি বাস, ২৮টি ট্রাক, ৪৪টি কাভার্ডভ্যান, ৯২টি সিএনজি ও ২২৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

অভিযানের সময় ৬৯২টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৪২৯টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

সোমবার, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মামলা দায়ের করে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ইরান-সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে সতর্ক অবস্থানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


পাকিস্তান ইরান-সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে সতর্ক অবস্থানে

পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষা করার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইসলামাবাদ একদিকে তেহরানকে তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনাও নাকচ করছে।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ পাকিস্তান এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পূরণের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোও জরুরি হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তান গত কয়েক মাস ধরে দুই ধরনের কূটনৈতিক বার্তা প্রদান করে আসছে। একদিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ, অন্যদিকে তেহরানকে জানাচ্ছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সামরিক পদক্ষেপের চাপ বাড়তে পারে।

সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক পাকিস্তান

১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খানকে সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলার প্রেক্ষাপটে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে না। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাকিস্তান ইরানকে হুথিদের হামলা বন্ধে প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে জানায় যে, এখনই কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের এই অবস্থানের লক্ষ্য হলো সৌদি আরবকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া, কিন্তু একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে তৎপরতা

২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা পাকিস্তানের কাছে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

একই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে রিয়াদে বৈঠক করেন। বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা একীভূত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরে ৫ অক্টোবর সৌদি আরবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা সহায়ক ভূমিকায় রয়েছে। পাকিস্তান গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত থাকলেও সরাসরি লড়াই করছে সৌদি বাহিনী।

তবে পাকিস্তানের এই সহায়তা ঠিক কোন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা কতজন সেনা মোতায়েন রয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইরানের আপত্তি, হুথিদের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার খবর সামনে আসার পর ইরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ৪ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা মোতায়েনের খবর সত্য না হলেই তেহরান স্বস্তি পাবে।

পরবর্তী সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আরো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা পাকিস্তান ও তুরস্ককে সৌদি আরবের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করে।

তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক জাভাদ হেইরান-নিয়া মনে করেন, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা ইরান মেনে নিতে পারে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপকে তেহরান সীমারেখা হিসেবে বিবেচনা করে।

এদিকে হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত হুথিদের বক্তব্যে এমন ধারণাই দেখা যাচ্ছে যে, পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না।

পাকিস্তান শুধু সামরিক সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে না, কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চাইছে। ২ অক্টোবর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

দারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি ধারণা সামনে এনেছে। তবে এটি ছিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা; কোনো লিখিত প্রস্তাব নয়।

পাকিস্তানের দাবি, ইরানের নেতারাও হুথিদের সঙ্গে বিরোধের অবসান চান। তেহরান এ বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়নি।

এর আগেও পাকিস্তান একই ধরনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে। মার্চে ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের কথা তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। জবাবে ইরান আশ্বাস চেয়েছিল, সৌদি ভূখণ্ড যেন তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার না করা হয়।

কঠিন ভারসাম্যের মুখে ইসলামাবাদ

সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়; দেশটির অর্থনীতি সৌদি আর্থিক সহায়তা ও প্রবাসী পাকিস্তানিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের সামনে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য—সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানো।

তবে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের ওপর পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা বাড়ানোর চাপও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ কতটা প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে, আর কতটা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে—তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথের ওপর।

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টা এখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দিক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স ও এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে খেলার মাঠ দখলমুক্তের দাবিতে রাজধানী মডেল স্কুলের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদক, সাকিব আহমেদ মোহাম্মদপুর, ঢাকা

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


মোহাম্মদপুরে খেলার মাঠ দখলমুক্তের দাবিতে রাজধানী মডেল স্কুলের মানববন্ধন

শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে খেলাধুলার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজধানী মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন। এ সময় তাঁরা মাঠ ব্যবহারের প্রতিবন্ধকতা দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তাঁরা।

মানববন্ধনে তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু খেলার মাঠ ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বাধার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

রাজধানী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম বলেন, “শিশুরা শুধু বই পড়ে বড় হয় না। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। একটি মাঠ শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আমরা কোনো বিরোধ চাই না, আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক এবং শিক্ষার্থীরা তাদের খেলাধুলার সুযোগ ফিরে পাক।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও খেলাধুলার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা বলেন, শিশুদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতেও খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে আর কালক্ষেপণ না করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ ও খেলার জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে তাঁরা আশাবাদী। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাদের খেলার মাঠ ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাবে।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে দাবি জানান, দ্রুত মাঠ ব্যবহারের সমস্যার সমাধান করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও উপযুক্ত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বলেন, একটি খেলার মাঠ কেবল বিনোদনের জায়গা নয়; এটি শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%